Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৮, ২০২৫

স্বস্তির সুর! বৃষ্টির দাপট কাটছে ধীরে ধীরে, পাহাড়ে ফিরছে পর্যটন, দক্ষিণে বিদায় নিচ্ছে বর্ষা?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
স্বস্তির সুর! বৃষ্টির দাপট কাটছে ধীরে ধীরে, পাহাড়ে ফিরছে পর্যটন, দক্ষিণে বিদায় নিচ্ছে বর্ষা?

পুজো শেষ, বর্ষাও বিদায়ের পথে? এবছর প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ, একের পর এক ধস, প্রাণহানি, রাস্তাঘাটের অবস্থা শোচনীয়। সে আশঙ্কার আবহে অবশেষে স্বস্তির বার্তা দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। উত্তরবঙ্গে আর ভারী বৃষ্টির কোনো সতর্কতা নেই। দক্ষিণবঙ্গেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কমবে বৃষ্টিপাত। শুরু হয়েছে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া। তবে এখনো রাজ্যের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না হাওয়া অফিস।

বুধবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার—এই ৩ জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ দিন সকাল থেকেই পাহাড়ের আকাশ আংশিক মেঘলা, মাঝে মাঝেই মেঘের আড়াল থেকে দেখা মিলছে রোদের। শনিবার রাতভর বৃষ্টির পর রবিবার থেকে উত্তরে বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই কমেছে। ধসের ক্ষতচিহ্ন থাকলেও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে পাহাড় ও ডুয়ার্স। বন্ধ থাকা টাইগার হিল, রক গার্ডেন, টয়ট্রেন পরিষেবা, সবই খুলে গিয়েছে। খুলেছে সান্দাকফু ট্রেক রুটও। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, ‘আতঙ্ক কাটিয়ে ধীরে ধীরে বুকিং ফিরছে। মিরিক, বিজনবাড়ি, সুখিয়াপোখরি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সিটং, চিমনি, দাওয়াইপানি, লাভা-সহ একাধিক অফবিট ডেস্টিনেশনে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে।’ ডুয়ার্সের জলদাপাড়া, গোরুমারা, বক্সা, জয়ন্তীর সাফারিও ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কাঠের সেতু মেরামতের কাজ চলছে জোরকদমে। মুখ্য বনপাল জানিয়েছেন, ‘জঙ্গলে আটকে থাকা কোনো বন্যপ্রাণীর খোঁজ মেলেনি। পর্যটকদের জন্য দ্রুত সব সাফারি চালু করার চেষ্টা চলছে।’ তাই যাঁরা ইতিমধ্যেই বুকিং বাতিল করেছিলেন, কিংবা যাত্রা স্থগিত রেখেছিলেন, তাঁদের জন্য আশার আলো। উত্তরবঙ্গের বহু রুট এখন খোলা, বুকিং চলছে পুরোদমে। দীপাবলির ছুটিতে পাহাড় বা ডুয়ার্স পাড়ি দিতে চাইলে, পরিকল্পনা শুরু করা যেতেই পারে।

অন্য দিকে, দক্ষিণবঙ্গে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পূর্ব বর্ধমানে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা। তবে শুক্রবার থেকে দক্ষিণে বৃষ্টির প্রকোপ কমবে বলেই পূর্বাভাস। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া পশ্চিম ভারত থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে। গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে বর্ষা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিদায় নেবে। পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত ১০ অক্টোবরের পর বর্ষা বিদায় নেয়। এবারেও সেই সময়সীমার মধ্যেই বিদায়ের সম্ভাবনা প্রবল। আবহাওয়া অধিকর্তারা জানিয়েছেন, ‘পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি অন্ধ্র উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে ছত্তীশগড়, ঝাড়খণ্ড, বিহার হয়ে উত্তরের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বাড়িয়েছিল। তবে এখন আর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। উত্তরবঙ্গের আকাশ দ্রুত পরিষ্কার হচ্ছে।’

সব মিলিয়ে আপাতত রাজ্যে প্রাক-বর্ষাবিদায় আবহ। এ সময়ে বঙ্গোপসাগরের জলতলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা থাকলেও, তা নিয়ে এখনো সতর্কতা জারি হয়নি। তবে অতীতে (১৯৭৮, ১৯৯৫, ২০০০) সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে রাজ্যে বড়ো দুর্যোগের নজির থাকায়, আগাম সতর্ক থাকতে বলছেন আবহাওয়াবিদরা। কলকাতার বুধবার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি। সর্বনিম্ন ২৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ ৩১.৭। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৭৪ থেকে ৯৪ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত মাত্র ০.২ মিমি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!