- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১২, ২০২৫
ওড়িশার কলেজে যৌন হয়রানির অভিযোগ। আত্মহননের চেষ্টা ছাত্রীর, গ্রেফতার বিভাগীয় প্রধান
ওড়িশার বালাসোরে ছাত্রীর মৃত্যু । স্থানীয় কলেজের বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ছাত্রীটিকে অশালীন ও যৌন ইঙ্গিতমূলক প্রস্তাব দিতেন। পাশাপাশি হুমকি দিতেন যদি তাঁর এই কুপ্রস্তাবে ছাত্রীটি সম্মত না হন তবে তাঁর ভবিষ্যত নষ্ট করে দেওয়া হবে। কলেজের বিভাগীয় প্রধানের দ্বারা লাঞ্ছিতা অবশেষে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। ছাত্রীর শরীরের ৯৫% অগ্নিদগ্ধ। তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত তার সহপাঠী।
অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধানকে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নিয়েছে স্থানীয় থানার পুলিশ । সেরাজ্যের উচ্চশিক্ষা বিভাগ অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধানকে পদ থেকে বরখাস্ত করেছে। “তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সূর্যবংশী সুরজ জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত ওড়িশা রাজ্যটি বিজেপি শাসিত।
বি.এড পাঠক্রমের ওই ছাত্রী ১ জুলাই কলেজের অভ্যন্তরীণ কমিটির কাছে তাঁর বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহু তাঁকে কুইঙ্গিতপূর্ণ প্রস্তাব দিতেন এবং এই বিষয়ে তাঁর “অনুগ্রহ” চাইছিলেন এবং সেই প্রস্তাব না মানায় তাঁকে হুমকিও দিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রীটিকে কলেজের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে সাত দিনের মধ্যে অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার শাহুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি।
শনিবার, ওই ছাত্রী এবং আরও বেশ কয়েকজন ছাত্রী কলেজের গেটের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁর সহপাঠীরা জানান, তিনি হঠাৎ বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে উঠে যান এবং অধ্যক্ষের অফিসের কাছের একটি জায়গায় পৌঁছে আচমকা নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
সমাজ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে আগুনে পুড়ে যাওয়া ওই ছাত্রী কলেজের একটি করিডোরে দৌড়চ্ছেন। তাঁর এক সহপাঠী তাঁকে বাঁচাবার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তার টি-শার্টেও আগুন ধরে যাওয়ার পর সে পিছনে সরে যাচ্ছেন। কলেজের অধ্যক্ষ বলেছেন, ছাত্রীর অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছিল এবং অভ্যন্তরীণ কমিটি এই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শনিবার অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষ বলেন, ওই ছাত্রীটি আমার অফিসে এসে আমার সাথে দেখা করে বলে যে সে প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। ছাত্রীটি আমাকে অনুরোধ করে অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধানকে আমার অফিসে ডাকতে বলেন, আমি তা করেছিলাম”। অধ্যক্ষ আরও বলেন, “আমি ছাত্রী এবং ওই অভিযুক্ত শিক্ষক উভয়কেই জানিয়েছি যে তাঁদের কোনও বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে তার পরিণতি কী হবে। অভিযুক্ত সমীর কুমার শাহু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ছাত্রীটিও তাঁর বক্তব্যে অটল ছিলেন”।
ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করার পর কলেজে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে।
বালাসোরের পুলিশ সুপার রাজ প্রসাদ বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষক সমীর কুমার শাহুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণের জন্য তথ্য সংগ্রহ করছে। যেই দোষী বলে প্রমাণিত হোক না কেন, তাঁকে জবাবদিহি করতেই হবে।” অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ওই ছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে যাঁরা পুড়ে যান, তাঁদের ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
❤ Support Us






