- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ২৭, ২০২৩
প্রযুক্তিনির্ভর আদমশুমারিতে অভিনবত্বের ছোঁয়া । ছয় ধর্মেই সীমাবদ্ধ থাকবে ভারতীয় নাগরিকের পরিচয়? জনগণনার উদ্দেশ্য নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
জনগণনায় অভিনবত্ব আনতে চাইছে কেন্দ্র। কয়েক মাস আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন অ্যাপ নির্ভর আদম শুমারির কথা। তবে, বিষয়টি শুধু তাতেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোড ভিত্তিক প্রশ্ন চালু করার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় ঘরে বসেই নিজেদের মোবাইল ফোন থেকে নিজেদের সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জানাতে পারবেন নাগরিকরা। জনগণনার প্রারম্ভিক প্রক্রিয়া অবশ্য ২০২০ সালে শুরু হয়েছিল। কোভিডের জন্য তা বিলম্বিত হয়। ২০২১ সালে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের তথ্য সংগ্রহ অভিযান। নতুন পদ্ধতি ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহেও আরো দ্রুততা আসবে আর তার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করাও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার সেনশাস বিল্ডিংএর উদ্বোধন উপলক্ষে ‘ ট্রিটিস অফ সেনসাস সিনস ১৯৮১’ শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রন্ত্রী অমিত শাহ। আদমশুমারির প্রয়োজনীয়তা কেন, এ বারের লোকসংখ্যা গণনায় কোন ধরনের সমস্যা মুখোমুখি হতে হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করেন তিনি। ২০২১ সালের জনগণনা নানা কারণেই অভিনবত্বের দাবি রাখে। প্রথমত, এবারের কোডভিত্তিক প্রশ্নাবলীতে ধর্মের উল্লেখ সীমিত সংখ্যক করা হয়েছে। মাত্র ছয় ধর্ম হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন স্থান পেয়েছে এতে। এবিষয়ে লক্ষ্যণীয় যে কর্নাটকের লিঙ্গায়েতদের আলাদা ধর্মীয় সম্প্রদায় রূপে অন্তর্ভূক্তির দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। একই অবস্থা ঝাড়খণ্ড, ওডিশা, ছত্তিশগড়ের আদিবাসীদের। প্রকৃতির উপাসনাকারীদের সারনা নামক ধর্মের উল্লেখও থাকছে না নতুন তালিকায়।
দ্বিতীয়ত, পরিযায়নের ক্ষেত্রেও কোন কোন কারণ দায়ী থাকে তা নির্ধারণেও নতুন বিকল্প যোগ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও বিবাহ ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভূমিকা কতটা তাও বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। সেকারণেই প্রশ্নাবলীতে এসবের উল্লেখ থাকছে। এখানে বলা প্রয়োজন, ভারতে এমন অনেকে রয়েছেন যাঁরা বন্যা, ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প ও খরার কারণে এক জায়গা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হন। সে সংখ্যা কত তার পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকে না, তাই ছিন্নমূল মানুষদের জন্য কোনো কল্যাণপ্রসূ পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় না। আদম শুমারিতে নতুন ব্যবস্থাপনা বাস্তুচ্যুত মানুষদের সমস্যা লাঘবে আরো সহায়ক হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক।
তৃতীয়ত, যাত্রী পরিবহন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেও রয়েছে অভিনবত্বের ছোঁয়া। ভারতের কোন নাগরিক দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য কোন ধরনের গণ পরিবহন ব্যবহার করেন সে সংক্রান্ত তথ্য যেমন সংগ্রহ করা হবে। তেমনি একজন যাত্রী কোন যানবাহনের কত ক্ষণ সময় অতিবাহিত করেন তার ঊল্লেখ কর বার ব্যবস্থাও থাকবে অ্যাপে। এমন উদ্ভাবন পরিবহন ব্যবস্থার উন্নন্নতি সাধনে কার্যকরী হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চতুর্থত, পরিশ্রুত পানীয় জল ভারতের কত শতাংশ নাগরিক পাচ্ছেন তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যান সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শহরের ক্ষেত্রে ১০০ মিটার ও গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে ৫০০ মিটারের মধ্যে জল পাওয়া যায় কিনা তা প্রশ্নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সবথেকে নতুন বিষয় হল শহুরে নাগরিকরা পুর জল সরবারহের সুবিধা পান না প্যাকেটজাত বা বোতলের জলের নির্ভর করতে হয়, এমন প্রশ্নেরও উল্লেখ থাকবে।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কতটা ব্যাপক আকারে হবে তা নির্ভর করছে কত সংখ্যক মানুষ এতে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করছে তার ওপর। সবথেকে বড়ো কথা তথ্যের প্রামণিকতা বজায় থাকবে কিনা সেটা নিয়ে যদিও তা নিয়ে এখনও কিছু বলা হয়নি। প্রযুক্তি নির্ভর জনগণনা নিঃসন্দেহে অভিনব উদ্ভাবন। তবে তা কতটা অন্তর্ভূক্তিমূলক সে প্রশ্ন অমীমাংসিতই থাকল।
❤ Support Us





