- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ২৪, ২০২৫
শুভেন্দুর ‘রক্ষাকবচ’ প্রত্যাহার, হাইকোর্টের নির্দেশে অস্বস্তি বাড়ছে বিরোধী দলনেতার
রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অগ্নিপরীক্ষা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সামনে। কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবার তাঁর বিরুদ্ধে ২০২২ সালে দেওয়া ‘রক্ষাকবচ’ প্রত্যাহার করে নিল। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, ‘কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না।’ অর্থাৎ, আদালতের সে সুরক্ষা বলয় আর বলবৎ থাকল না। এর ফলে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করতে রাজ্যের আর আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। তবে খানিকটা স্বস্তিও মিলেছে বিরোধী দলনেতার। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ১৬টি মামলার মধ্যে ১৫টি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বাকি থাকা মানিকতলা-সহ ৪টি মামলায় সিবিআই ও রাজ্য পুলিশের যুগ্ম বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সেনগুপ্ত। নির্দেশে বলা হয়েছে, ১২ সদস্যের ওই ‘সিট’-এ ৬জন থাকবেন সিবিআই ও রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক। উভয় দিক থেকেই একজন করে এসপি পদমর্যাদার আধিকারিক নেতৃত্ব দেবেন তদন্তে।
২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা শুভেন্দু অধিকারীকে ‘রক্ষাকবচ’ দিয়েছিলেন। নির্দেশ ছিল, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনো নতুন এফআইআর দায়ের করতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। সে সময় বিরোধী দলনেতার আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বাঁচাতে বিরোধী দলনেতার স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত।’ আদালত সেই যুক্তি মেনে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল। শুরু থেকেই রাজ্য সরকার হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব ছিল। তাঁদের দাবি, ‘আইনের চোখে সবাই সমান। একজন রাজনৈতিক নেতাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রক্ষাকবচ দেওয়া যায় না।’ সে রক্ষাকবচের বৈধতা নিয়ে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতও মান্থা নির্দেশ বহাল রাখে। ৪ বছর ধরে সেই রক্ষাকবচের সুবাদেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো এফআইআর দায়ের হয়নি।
শুক্রবারের রায়ে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত স্পষ্ট জানান, ‘২০২২ সালের নির্দেশ ছিল অন্তর্বর্তীকালীন। এমন কোনো নির্দেশ অনির্দিষ্টকাল ধরে বহাল থাকতে পারে না।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য থাকলে তা আগামী সোমবারের মধ্যে লিখিত আকারে আদালতে জমা দিতে হবে। বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে উচ্চ আদালতের রায়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটের আগে বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে জমে থাকা অভিযোগের পাহাড় নিয়ে নতুন করে পদক্ষেপ করতে পারবে রাজ্য প্রশাসন। ফলে চাপ বাড়বে শুভেন্দুর উপর। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠমহল বলছে, ‘বিচারব্যবস্থার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’ অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ ও রাজ্যপক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘এত দিন ধরে যে রক্ষাকবচ বহাল ছিল, আজ তা চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশেই সেই তদন্ত এগোবে। রাজনৈতিক দিক থেকে এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
অর্থাৎ একথা বলাই যায়, বিধানসভা ভোটের আবহে বিচারপতি সেনগুপ্তের রায় যেমন শুভেন্দুকে কিছু পুরনো মামলা থেকে স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই নতুন অভিযোগের তদন্ত শুরু হওয়ার পথ খুলে দিয়েছে রাজ্যের জন্য। মানিকতলা, তমলুক ও কাঁথির কয়েকটি মামলায় এখনও শুভেন্দুর রক্ষাকবচ প্রযোজ্য নয়। ভবিষ্যতে চাইলে তিনি নতুন করে সুরক্ষার আবেদন জানাতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মন্তব্য, ‘হাইকোর্টের রায় কার্যত শুভেন্দুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নতুন দিকনির্দেশ দেবে। রক্ষাকবচ হারিয়ে তিনি প্রশাসনিক নজরে আসবেন আরও বেশি।’ ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে এমন রায় বিরোধী দলনেতার জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। ৪ বছর পর আদালতের ঢাল সরতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসেব-নিকেশ শুরু হয়ে গিয়েছে।
❤ Support Us






