- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- নভেম্বর ১৫, ২০২৫
ইজরায়েলের মদতে গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৫৩ ফিলিস্তিনি! জায়গা খালি করানোর নতুন কৌশল নেতানিয়াহুর?
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে ১৫৩ জন ফিলিস্তিনী সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছেছেন। তাঁদের অনেকেরই সঙ্গেই শিশু-স্ত্রী সহ পরিবারের সদস্য। এই রহস্যজনক যাত্রার পেছনে ইজরায়েলের সমন্বয় এবং একটি বিতর্কিত অলাভজনক সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। এরকমভাবেই দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছালেন লোয়াই আবু সাইফ আর তাঁর পরিবার। আল জাজিরার সঙ্গে শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘গাজা ত্যাগের সময় আমরা জানতামই না শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছাব। ধ্বংসস্তূপ আর অবরুদ্ধ উপত্যকা থেকে বেরোনোর পথ ছিল এক ‘দুঃসহ যাত্রা’। বিমানটি ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে কেনিয়ার নাইরোবি হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে জোহানেসবার্গে পৌঁছায়। পুরো যাত্রায় লেগেছে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়। আবু সাইফ জানান, নাইরোবিতে কানেক্টিং ফ্লাইটে চড়ার আগে তারা জানতে পেরেছিলেন গন্তব্য জোহানেসবার্গ।
জোহানেসবার্গে অবতরণের পর দক্ষিণ আফ্রিকার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাদের নামতে দেয়নি। বিমানবন্দরে তাদের কাছে ইজরায়েলের ‘ডিপার্চার স্ট্যাম্প’ ছিল না, তাঁরা কতদিন থাকবেন বা কোথায় বসবাস করবেন তাও জানা যায় নি। পরে গৃহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় এনজিও হস্তক্ষেপ করে। এরপর ১৫৩ জনের মধ্যে ২৩ জন অন্য দেশে চলে যায়, বাকি ১৩০ জন দক্ষিণ আফ্রিকায় থেকে যান। অভিবাসনের সময় আবু সাইফ বলেন, ‘যখন কর্তৃপক্ষ জানতে চাইল, আমরা কোথা থেকে এসেছি— তখনই বুঝলাম সমস্যার মূল কোথায়।’ তিনি জানান, তাঁদের ভ্রমণপত্রে ইজরায়েল কোনো স্ট্যাম্প দেয়নি।
আবু সাইফের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর পরিবার ‘আল-মাজদ ইউরোপ’ নামের জার্মানভিত্তিক এনজিওর মাধ্যমে নিবন্ধন করেছিলেন। সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিবন্ধন ফর্ম প্রচার করেছিল। তিনি বলেন, মনে হয় যেসব পরিবারের শিশু রয়েছে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং বৈধ ফিলিস্তিনি ভ্রমণপত্র ও ইজরায়েলের ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ থাকা প্রয়োজন। যাত্রার জন্য প্রত্যেক যাত্রীকে ১,৪০০ থেকে ২,০০০ ডলার চার্জ করা হয়েছে, শিশুদের ক্ষেত্রেও টাকার পরিমাণ একই। নির্বাচিত পরিবারগুলোকে রাফাহ থেকে বাসে করে কেরেম শালোম ক্রসিংয়ে আনা হয়, সেখান থেকে নিরাপত্তা যাচাই করে রামন বিমানবন্দরে পাঠানো হয়।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানো ফিলিস্তিনিরা বিমান অবতরণের পর কিছুটা নিরাপদ মনে করছেন বলে জানিয়েছেবন। এনজিও জানিয়েছে, তাঁরা এক–দুই সপ্তাহ সহায়তা করতে পারবে, তারপর যাত্রীদের নিজেদের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে অনেকেই ইতিমধ্যে অন্য দেশের জন্য কাগজপত্র প্রস্তুত রেখেছেন। যাত্রীদের প্রায় ৩০ শতাংশ একই বা পরের দুই দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়েছে। আবু সাইফ জানান, ‘বিশ্বের যে কোনো দেশে জীবনযাপনের খরচ বর্তমান গাজার তুলনায় অনেক কম, মানুষ সেটার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’
এই কাজে সহায়তা করা সংগঠনটির ট্রানজিট স্কিম সম্পর্কে ধীরে ধীরে তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। অভিযোগ উঠছে, ইজরায়েল বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনে সহায়তা করে গাজা থেকে তাদের বাস্তুচ্যুতিকে উৎসাহিত করছে। দেশত্যাগী মানুষেরাঅ বলছেন, ইজরায়েলি সমন্বয় ছাড়া এই যাত্রা অসম্ভব। প্রসঙ্গত, গাজার হলুদ রেখার কাছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের চলাচল কঠিন। সেখানে গেলেই তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এসব মানুষকে বাসে করে সেই হলুদ রেখা পেরিয়ে, গাজায় ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা অতিক্রম করে রামন বিমানবন্দরে আনা হয়েছে। তেল-আভিবের অনুমতি ছাড়া এ কাজ অসম্ভব বলে মত ওয়াকিবহালদের। এরপর আরো কতজন ফিলিস্তিনি নাগরিক এভাবে ভিন দেশে আসতে চলেছেন, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনের সমর্থক। ফলে এভাবে আগত ফিলিস্তিনিদের কার্যক্রম এবং তাঁদের সঙ্গে দেশের সরকারি ও জনসাধারণের এমন আচরণ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। জাতিসংঘও সতর্ক করেছে যে, ইজরায়েলের বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে গাজায় সহায়তা কার্যক্রম প্রায় স্থগিত। ফলে শত শত পরিবার অস্থায়ী শিবিরে বাস করলেও যথাযথ আশ্রয় পাচ্ছে না। ভারী বৃষ্টিতে এসব তাবু ভেসে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো সংকটাপন্ন হয়েছে। ফলে অন্য দেশে অভিবাসী ‘সমস্যা’ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
❤ Support Us






