Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫

পুজোর মুখে ফের বন্ধ তিন চা বাগান

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পুজোর মুখে ফের বন্ধ তিন চা বাগান

পুজোর আগেই অনিশ্চয়তার মুখে চা শ্রমিকরা। বোনাস দেওয়ার আগেও শুক্রবার জলপাইগুড়িতে বন্ধ হয়ে গেল তিন–তিনটি চা বাগান। বন্ধ হয়ে যাওয়া চা বাগানগুলি হল বানারহাটের রেড ব্যাঙ্ক, সুরেন্দ্রনগর ও চামুর্চি৷ রাতারাতি বাগান ছেড়ে পালিয়ে গেছে মালিকপক্ষ। চা বাগান বন্ধ হওয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার ধূপগুড়িতে ভূটানগামী রাজ্য সড়ক ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করলেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা৷ চা শ্রমিকদের অভিযোগ, শ্রম দফতরের ঘোষিত ২০ শতাংশ বোনাস না দেওয়ার জন্যই বাগান বন্ধ করেছে মালিকপক্ষ৷

চা বাগান মালিকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সরকার আগেভাগেই শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ এই হারে বোনাস দিতে রাজি নয়। তাই চা বাগান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকপক্ষ। সকলের নজর এড়িয়ে বৃহস্পতিবার রেড ব্যাঙ্ক, সুরেন্দ্রনগর ও চামুর্চি চা বাগানের মালিকপক্ষ পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। শুক্রবার চা বাগানের শ্রমিকরা কাজ গিয়ে দেখেন মানেজার ও অন্যান্য আধিকারিকদের বাংলোর দরজায় তালা ঝোলানো। তখনই শ্রমিকরা বুঝে যান বোনাস দিতে পারবে না বলেই, মালিকপক্ষ পালিয়ে গিয়েছে।

একসঙ্গে তিনটি চা বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এর ফলে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শুক্রবার সকাল থেকে বানারহাটের ১৭ ও ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ও ধূপগুড়িতে ভূটানগামী রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। অবরোধের জেরে স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল৷ সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বাগান খোলা না পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। আজ জরুরি বৈঠক ডেকেছে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন।

পুজোর আগে এ, বি, সি, তিনটি ক্যাটেগরিতে চা শ্রমিকদের বোনাস ধার্য হয় ৷ কিন্তু মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সঙ্গে কোনও প্রকার আলোচনা ছাড়াই এবছর রাজ্য সরকারের শ্রম দফতর ২০ শতাংশ বোনাসের জন্য পরামর্শ জারি করেছে৷ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আগেই শ্রম দফতর এই পরামর্শ দিয়েছে। শ্রমিক পক্ষ অবশ্য ২০ শতাংশ বোনাসের জন্য প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল৷ বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জলপাইগুড়িতে সরকারি জনসভায় বলেছিলেন, ‘‌চা শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে কেউ কেউ খেলা করার চেষ্টা করছেন। দয়া করে চা শ্রমিকদের টাকা নিয়ে কেউ খেলা করবেন না।’‌

চা বাগান মালিকপক্ষের সংগঠন কনসালটেটিভ কমিটি অব টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অমৃতাংশ চক্রবর্তী বলেন, ‘‌চামুর্চি বাগান কর্তৃপক্ষ ২০ শতাংশ হারে বোনাস দিতে পারবে না৷ সেটা তারা সরকারকে চিঠি দিয়ে আগেই জানিয়েছে৷ শনিবার চামুর্চি চা বাগান নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে৷ সব চা বাগানের আর্থিক অবস্থা ভাল নয়৷ ফলে সবার পক্ষে ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়া সম্ভব নয়। এর আগে চা শিল্পে যখন ভাল লাভ হয়েছে, তখন ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়া হয়েছে ৷ বিগত কয়েক বছর ধরে চা শিল্পের অবস্থা ভাল নয়৷’‌

চা বাগান বন্ধ হওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে নিশানা করেছেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ তথা বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের চেয়ারম্যান মনোজ টিগ্গা৷ তিনি বলেন, ‘‌প্রতিবছর উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আসার আগে ও চলে যাওয়ার পরে এখানকার চা বাগান বন্ধ হয়৷ আমরা তো চাই শ্রমিকরা ২০ শতাংশ হারে বোনাস পাক৷ এদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন শ্রমিকদের পুজো বোনাস নিয়ে কোনও ছেলেখেলা হবে না৷ দেখা যাক না, সরকার কীভাবে শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস পাইয়ে দেয়৷ সামনেই বিধানসভা ভোট। তাই চা শ্রমিকদের মন জয় করতে ২০ শতাংশ বোনাসের কথা সরকার ঘোষণা করেছে৷ তাতে পুজোর মুখে চা বাগান বন্ধ হয়ে বিপাকে পড়লেন শ্রমিকরা৷’‌

তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি মহুয়া গোপ বলেন, ‘‌সরকার শ্রমিকদের পাশে আছে। বাগানের কোনও সমস্যা হলে, বাগান কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলুক৷ কিন্তু চা বাগান বন্ধ করে চলে যাওয়া ঠিক নয়৷ শ্রমিকরা যাতে সবাই বোনাস পায়, তা দেখতে মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!