Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • অক্টোবর ৮, ২০২৫

আফগান সীমান্তে টিটিপি-র হামলায় নিহত পাক সেনাবাহিনীর ১১ সদস্য

আফগান সীমান্তে টিটিপি-র হামলায় নিহত পাক সেনাবাহিনীর ১১ সদস্য

আফগান সীমান্তের কাছাকাছি পাকিস্তানের কুররম জেলায় টহলরত সেনাবাহিনীর একটি বহরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় প্রাণ গেল অন্তত ১১ জন পাক সেনার। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন সেনা অফিসারও। বুধবার সকালের দিকে ওই হামলা চালিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে তারা। পাকিস্তান সেনা সূত্রে খবর, সেনা কনভয় লক্ষ্য করে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা ফাটানো হয়। তারপরেই একযোগে হামলা চালায় জঙ্গিরা। ব্যাপক গুলির লড়াইয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৯ জন আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান এবং ২ সেনা অফিসার। এলাকাজুড়ে তল্লাশি এবং ‘স্যানিটাইজেশন’ অপারেশন এখনো জারি আছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর জেলায় নিহত হয়েছে টিটিপি-র অন্যতম শীর্ষ নেতা পীর আগা কন্ধারি। পুলিশের দাবি, সে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। বহু সেনা সদস্য ও সাধারণ নাগরিককে হত্যার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে টিটিপি-র জঙ্গিরা পাকিস্তানে ঢুকে হামলা চালাচ্ছে, আফগান মাটিতে তারা ট্রেনিং নিচ্ছে, অস্ত্র জোগাড় করছে এবং পরিকল্পনা সাজাচ্ছে । যদিও কাবুল বারবার জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে না। গত বছর নভেম্বরেই পাক সরকার-টিটিপির মধ্যে শান্তিচুক্তি ভেঙে যায়। তারপর থেকেই জঙ্গি কার্যকলাপ আরো বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালোচিস্তান প্রদেশে জঙ্গি হামলায় ৬০০-র বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান জুড়ে যত সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে, তার প্রায় ৯৬ শতাংশই হয়েছে এই দুই সীমান্তবর্তী প্রদেশে।

বছরের পর বছর ধরে জঙ্গি-সহিংসতায় জর্জরিত খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালোচিস্তান। নতুন করে জঙ্গি হামলা ও সেনা-অভিযান রীতিমতো চাপে ফেলেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। রাতভর গুলির আওয়াজে ঘুম ছুটছে সীমান্তবর্তী গ্রামের শিশুদের। স্থানীয়দের দাবি, টিটিপি দমন অভিযানের নামে সেনার ‘এরিয়াল স্ট্রাইক’-এ মাঝেমধ্যেই বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ঘটছে। যদিও পাক সেনার দাবি, জঙ্গিরা সাধারণ মানুষকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। জঙ্গি দমনে ইসলামাবাদ বেকায়দায় পড়ে জোরদার অভিযানের পথে হাঁটলেও, লস্কর সহ একাধিক গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেবার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। দোদ্যুল্যমান অর্থনীতি, ঘরে-বাইরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া পাকিস্তান আগামী দিনে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা সুরক্ষিত রাখতে পারবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা দেশ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!