- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৩
পাহাড়ে ধস, বিপর্যস্ত সিকিমগামী জাতীয় সড়ক, সঙ্কটে পর্যটকেরা
সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধসের কবলে পড়ে বিপর্যস্ত। ধসের প্রথম দিকে রাস্তার এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করার মতো অবস্থা থাকলেও শেষে ধস কবলিত ১০ জাতীয় সড়ক পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে রবিবার শ্বেতিঝোড়ার কাছে রাস্তায় ধস নেমেছিল। তার পর থেকে বিকল্প পথে ডুয়ার্সের গরুবাথান থেকে লাভা-লোলেগাঁও হয়ে কালিম্পং, সেখান থেকে চিত্রে ফাটক হয়ে সিকিমে প্রবেশ করতে হচ্ছে ৷ অন্য দিকে, ঘুরতে সিকিম বা কালিম্পং যেতে হচ্ছে কার্শিয়াং হয়ে। এর ফলে খুব বিপাকে পড়েছে পর্যটকেরা। প্রশ্ন উঠছে, এত ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরেও কেন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক মেরামত হচ্ছে না?
শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর জানা যাচ্ছে, শ্বেতিঝোড়ার কাছে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে পণ্য বোঝাই লরি। সমস্যার মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটক সবাই। স্থানীয়রা হেঁটে রাস্তা পারাপার করছেন। যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। কালিম্পং পুলিশের পক্ষ থেকে শ্বেতিঝোড়ার আগে লোহাপুলে আটকে দেওয়া হচ্ছে সমস্ত রকমের যানবাহন। এতে পর্যটকেরা ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন। বহু মানুষ বর্ষা দেখতে পাহাড়ে যান। তাঁদের এখন ঘুরপথে যেতে হচ্ছে সিকিম। সময় লাগছে অনেক বেশি।
প্রশ্ন উঠছে, রবিবার ধস নেমেছে, তারপর দু’দিন কেটে গেছে। তাও কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধসের ফলে তৈরি হওয়া বিরাট গহ্বর মেরামত করা যায়নি? শ্বেতিঝোড়া এলাকাটা বরাবরই ধসপ্রবণ। এই বিষয়ে সতর্কতা জানিয়ে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে সাইনবোর্ডও ঝুলছে। এই সড়কের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে তিস্তা নদী। শ্বেতিঝোড়া থেকে কিছুটা এগোলে এনএইচপিসির বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০০০ সাল নাগাদ এই বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির সময় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধার বরাবর তিস্তার পাশ দিয়ে বিশাল প্রাচীর তৈরি করা হয়। রবিবারের ধসে তিস্তার ধার বরাবর তৈরি প্রাচীর ধসে গিয়েছে। প্রাচীর লাগোয়ো সড়কে তৈরি হয়েছে সুড়ঙ্গ। তিস্তার জলস্রোতে সেই সুড়ঙ্গের আকার বেড়েই চলেছে। ধস ভরাট করতে বড় বড় বোল্ডার ভরা জাল ফেলা হলেও তা তলিয়ে চলে যাচ্ছে তিস্তায় স্রোতে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন সকলে। শ্বেতিঝোড়ার জাতীয় সড়কে কর্মরত ইঞ্জিনিয়াররা জানাচ্ছেন , ‘রাস্তা ধসে সুড়ঙ্গ তৈরি হয়ে গিয়েছে৷ তিস্তার জলের অনবরত ধাক্কায় সেই সুড়ঙ্গ আরও বড় হচ্ছে। সেই সুড়ঙ্গ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে বিগত কয়েক দিন ধরে। তা হয়ে গেলে রাস্তা মেরামত করতে আট থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগবে ৷ সোমবার থেকে টানা কাজ চলছে। সুড়ঙ্গ ঠিক না হলে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করতে হবে। এত খাড়া গর্তে কোনও কর্মী নেমে কাজ করতে চাইছেন না। কিন্তু সুড়ঙ্গ না আটকালে কিছুই করা সম্ভব নয়। এই সুড়ঙ্গ বুজিয়ে কবে ফের চালু হবে রাস্তা সেটা প্রশাসনের কাছে এখন বড় ভাবনার বিষয়। আশঙ্কা, এ ভাবে চললে অনেক পর্যটকই বিমুখ হতে পারেন। এ ভাবে চলতে থাকলে পর্যটন শিল্পের ওপর ধাক্কা আসবে।
❤ Support Us





