- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৩১, ২০২৫
পাহাড়ে ফের ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা ! দার্জিলিংয়ে গভীর খাদে পড়ে গেল যাত্রীবোঝাই গাড়ি, মৃত অন্তত তিন
দার্জিলিং থেকে কার্শিয়াঙের পথে ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সোনাদা আট মাইলের কাছে পাহাড়ি রাস্তা থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে গড়িয়ে পড়ে একটি যাত্রীবোঝাই গাড়ি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ২ জনের। পরে হাসপাতালে আরও এক জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত চালক-সহ ৫ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দার্জিলিং থেকে কার্শিয়াঙমুখী ওই গাড়িটিতে চালক-সহ মোট ৮ জন ছিলেন। তাঁরা সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা। কেউ কার্শিয়াঙ, কেউ বা আশপাশের এলাকার। কোনো ব্যক্তিগত কাজে দার্জিলিং গিয়েছিলেন তাঁরা। ফেরার পথেই ঘটে যায় বিপর্যয়। রাতের অন্ধকারে পাহাড়ি বাঁকে আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারায় গাড়িটি। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে প্রায় কয়েকশো ফুট নিচে পাহাড়ের ধারের জঙ্গলে গড়িয়ে পড়ে তা। দুর্ঘটনার শব্দে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা।শুরু হয় উদ্ধারকাজ। স্থানীয়রাই প্রথমে আহতদের বের করে নিয়ে আসেন এবং খবর দেন পুলিশে। কিছু ক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল। গুরুতর জখমদের উদ্ধার করে দ্রুত পাঠানো হয় সোনাদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় শিলিগুড়ির হাসপাতালে।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। প্রাথমিক অনুমান, খারাপ আবহাওয়া এবং পিচ্ছিল রাস্তার জেরেই ঘটে বিপত্তি। দার্জিলিংয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টি হয়েছে। রাতে আরো বেড়েছে বৃষ্টির দাপট। পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানো এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ, তার উপর পিছল রাস্তা বিপদকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িটি স্থানীয় একটি ভাড়া পরিষেবার। দুর্ঘটনার সময়ে গাড়ির গতি বেশি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলে। গাড়িটি খাদ থেকে তুলতে ব্যবহার করা হয় ক্রেন।
প্রসঙ্গত, বারবার পাহাড়ে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে পাঙ্খাবাড়িতে একটি যাত্রীবাহী গাড়ি প্রায় ১৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। নিহত হন ২ ব্যক্তি। তাঁরও কিছুদিন আগে কালিম্পংইয়ের ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি গাড়ি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৩ জনের। প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়ছে উত্তরবঙ্গ। ধাক্কার প্রাথমিক রেশ কাটিয়ে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে পাহাড়ের জনপদ। এরই মধ্যে লাগাতার দুর্ঘটনায় আতঙ্কের পরিবেশ যেন ফিরে ফিরে আসছে বারবার।
এদিকে, আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শুক্রবারও দার্জিলিঙে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’-র প্রভাবে পাহাড়জুড়ে ঝড়-বৃষ্টি চলছে। লাল সতর্কতা জারি হয়েছে দার্জিলিং-সহ একাধিক জেলায়। শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে বলেই পূর্বাভাস, তার পর ধীরে ধীরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, ‘এ সময় পাহাড়ি রাস্তায় রাতের দিকে গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অল্প একটু অসাবধানতাই বড়ো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রশাসনের তরফে রাতের দিকে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।’
❤ Support Us






