- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ২০, ২০২৫
একশো দিনের কাজে দেশে শ্রমদিবস কমেছে ২৫.৬ শতাংশ, ই-কে-ওয়াইসি জটিলতায় বাড়ছে ভোগান্তি
দেশের গ্রামীণ জীবিকার অন্যতম প্রধান প্রকল্প মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্প বা একশো দিনের কাজের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে শ্রমদিবসের সংখ্যা বিগত দু-বছরের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গেছে। এমনই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মঞ্চ ‘লিবটেক ইন্ডিয়া’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কর্মী বাতিলের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কিছুটা পাল্টে যায়। তবে চলতি অর্থবর্ষে আবারও সে ধারা উল্টে গেছে। পাশাপাশি, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে একশো দিনের প্রকল্পের অধীনে ১৩২ কোটি ৫০ লাখ শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৫০ কোটি ১০ লাখ। এর মানে চলতি বছরে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস হয়েছে। দুই বছর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের তুলনায় যা ১৭৮ কোটি ১০ লাখ ছিল, সেখানে হ্রাসের পরিমাণ ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি বছর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়া উদ্বেগের বিষয়। রাজ্যভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, উত্তরাখণ্ডে ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ, তেলেঙ্গানায় ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস হয়েছে। ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর প্রদেশে হ্রাসের হার যথাক্রমে ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ।
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি আলাদা। গত তিন বছর ধরে এই রাজ্যে কেন্দ্রের অর্থ বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে। তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও বিজেপি সরকারের পদক্ষেপে গরিব মানুষ দণ্ডিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় দিলেও ১ আগস্ট থেকে প্রকল্পটি শুরু হয়নি, এবং কবে শুরু হবে তা এখনও অনিশ্চিত। একশো দিনের কাজ চালুর দাবিতে রাজ্যে তৈরি হয়েছে নতুন সামাজিক মঞ্চ। লিবটেকের গবেষক এম রাহুল জানান, গত দুই অর্থবর্ষে বহু কর্মীর জব কার্ড বাতিল হয়েছে। তুলনায় নতুন নামের যোগ খুব কম হয়েছে। যদিও গত অর্থবর্ষে কিছু নতুন নাম যুক্ত হয়েছিল, চলতি অর্থবর্ষে আবারও হ্রাস দেখা গেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, নিবন্ধন হওয়া কেবল প্রকল্পের প্রথম ধাপ। প্রকৃত মূল্যায়ন তখন হয় যখন শ্রমিক কাজ পায় এবং তার মজুরি ঠিকমতো পাওয়া যায়।
সম্প্রতি, একশো দিনের কাজে ই-কে-ওয়াইসি চালু করা হয়েছে। আধারের ভিত্তিতে মুখের ছবি শনাক্তকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ন্যাশনাল মোবাইল মনিটরিং সিস্টেমের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে গ্রামের গরিব শ্রমিকদের। অনেকেই বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর নিকটতম আধার কেন্দ্রে ঘুরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন, এতে তাদের খরচ ও মজুরি দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লিবটেকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় নতুন ৯০ লাখ শ্রমিক যোগ হয়েছে, যেখানে ১১ লাখ ২০ হাজার শ্রমিক বাতিল হয়েছে। তবে অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ শ্রমিক বাতিল হওয়ায় এক মাসের মধ্যে নেট ১৭ লাখ শ্রমিক হারিয়েছে প্রকল্পের লাভ। সক্রিয় শ্রমিকের সংখ্যাও প্রায় ৬ লাখ কমেছে, যা নির্দেশ করে যে প্রকল্পে অংশ নেওয়া বর্তমান কর্মীরাও প্রভাবিত হচ্ছেন। গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে একশো দিনের প্রকল্পে মোট শ্রমিক সংখ্যা ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৫৬ হাজার, যার মধ্যে আধার সিডিং সম্পন্ন হয়েছে ২২ কোটি ৯৪ লাখ ৬৯ হাজার। সক্রিয় শ্রমিক সংখ্যা ১২ কোটি ১৭ লাখ ৪৮ হাজার, যাদের মধ্যে আধার সিডিং সম্পন্ন হয়েছে ১২ কোটি ১৩ লাখ ৪১ হাজার।
❤ Support Us






