- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২৫, ২০২৬
ফের জ্বালানির ধাক্কা, ১০ দিনে চতুর্থ বার দাম বৃদ্ধি
দেশ জুড়ে আবারও বাড়ল পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম। শনিবারের মূল্যবৃদ্ধির পর সোমবার ফের জ্বালানির দামে বড়সড় বৃদ্ধি ঘটেছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এই নিয়ে চতুর্থ বার দাম বাড়ল। এর ফলে রাজধানী দিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ১০০ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন মহানগরেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে।
সোমবার দিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ২.৬১ টাকা এবং ডিজ়েলের দাম ২.৭১ টাকা বেড়েছে। নতুন দরে সেখানে এক লিটার পেট্রল বিক্রি হচ্ছে ১০২.১২ টাকায় এবং ডিজেল ৯৫.২০ টাকায়।
কলকাতাতেও জ্বালানির দামে বড় বৃদ্ধি হয়েছে। শহরে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ২.৮৭ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫১ টাকায়। ডিজেলের দাম বেড়েছে ২.৮০ টাকা, ফলে বর্তমানে কলকাতায় এক লিটার ডিজেলের দাম ৯৯.৮২ টাকা।
অন্যদিকে, মুম্বইয়ে পেট্রলের দাম ২.৭২ টাকা বেড়ে হয়েছে ১১১.২১ টাকা প্রতি লিটার। সেখানে ডিজেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭.৮৩ টাকা। চেন্নাইয়ে পেট্রলের দাম ২.৪৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০৭.৭৭ টাকা এবং ডিজ়েলের দাম ২.৫৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯৯.৫৫ টাকা প্রতি লিটার।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। শুধু গাড়ি চালানো বা পরিবহণ খরচ নয়, পরিবহণ ব্যয় বাড়ার কারণে খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় দুধ, রুটি-সহ একাধিক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির খবর মিলছে।
গত ১৫ মে সারা দেশে এক ধাক্কায় পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এরপর ১৯ মে আবার ৯০ পয়সা করে দাম বৃদ্ধি করা হয়। তারপর ২৩ মে, শনিবার আরও ৮৭ পয়সা দাম বাড়ে। সোমবারের নতুন বৃদ্ধির ফলে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে দেশে পেট্রলের দাম ৭ টাকারও বেশি বেড়ে গেল।
এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি। আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে চাপ বেড়েছে। ভারত যেহেতু বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠাপড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছেন। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার রক্ষা করতে আগামী এক বছর সোনা না কেনার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
দেশের প্রধান তেল সংস্থাগুলি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে জ্বালানি কিনেও দেশের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ১০০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল সংস্থাগুলিকে। সেই ক্ষতির চাপ সামলাতেই শেষ পর্যন্ত পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শনিবার মূল্যবৃদ্ধির পর ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন দাবি করেছে, দেশে জ্বালানির কোনও সামগ্রিক ঘাটতি নেই। কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য না থাকায় স্থানীয় স্তরে দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছে তারা।
❤ Support Us






