- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ৫, ২০২৫
উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে হাওড়ামুখী কালকা মেলের ধাক্কায় নিহত অন্তত ৬ তীর্থযাত্রী, জখম বহু
কার্তিক পূর্ণিমার সকালে গঙ্গাস্নানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন একদল পুণ্যার্থী। চোপান থেকে, কেউ মির্জাপুরের আশপাশের গ্রাম থেকে এসেছিলেন তাঁরা। বিশ্বাস ছিল, গঙ্গার পবিত্র জলে ডুব দিলে সকল পাপের পরিশুদ্ধি হবে। কিন্তু সে ভক্তিভাব করুণ পরিণতি পেল মৃত্যুতে। বুধবার সকালে মির্জাপুর জেলার চুনার রেলওয়ে স্টেশনে রেললাইন পার হওয়ার সময় তীর্থযাত্রীদের উপর দিয়ে ছুটে গেল হাওড়ামুখী কালকা–হাওড়া নেতাজি এক্সপ্রেস। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অন্তত ৬ জনের, আশঙ্কাজনক বেশ কয়েকজন।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় সাড়ে ৯ টায় চোপান–প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ১৩৩০৯) চুনার স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নম্বর ৪-এ এসে পৌঁছয়। তখনই যাত্রীরা নামতে শুরু করেন। গঙ্গাস্নানের উদ্দেশ্যে বারাণসী যাওয়ার তাড়া ছিল তাঁদের। কিন্তু অনেকেই প্ল্যাটফর্মের দিক দিয়ে না নেমে ট্রেনের বিপরীত পাশে নামেন, কারণ প্ল্যাটফর্মে ভিড় ছিল বেশি। সে সময়েই উল্টো দিক থেকে ছুটে আসে নেতাজি এক্সপ্রেস বা কালকা–হাওড়া মেল। দুর্বার গতিতে ছুটে আসা ট্রেনটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তীর্থযাত্রীদের উপর দিয়ে বয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘সবকিছু ঘটেছে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে। হঠাৎ ট্রেনের হর্নের তীক্ষ্ণ আওয়াজ, তারপরই কানফাটানো আর্ত চিৎকার। কারো কিছু বোঝার আগেই সব শেষ।’
মর্মান্তিক এই ঘটনার পরেই স্টেশন চত্বর জুড়ে তৈরি হয় প্রবল চাঞ্চল্য। রেল পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং রেলওয়ে কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দেহ উদ্ধার করে চুনার সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের পাঠানো হয় মির্জাপুর জেলা হাসপাতালে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। রেল বিভাগের এক আধিকারিক জানান, ‘চুনার স্টেশনে ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। কিন্তু যাত্রীরা সেটি ব্যবহার না করে লাইনের উপর দিয়েই পারাপার করছিলেন। এটি সম্পূর্ণ অবহেলার ফল।’ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ট্রেনের গতিবেগ, সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের চলাচল সংক্রান্ত সতর্কতা, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, যাত্রীদের অসাবধানতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি মিলেই ঘটিয়েছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
ঘটনার খবর পেয়ে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এসডিআরএফ এবং এনডিআরএফ-এর দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ‘যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হয়।’ গতকালই ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে ভয়াবহ রেল সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন যাত্রী। সেখানে মেমু যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে ছত্তিশগড় সরকার। এক দিনের ব্যবধানে দেশের দুই রাজ্যে এমন দুই রেল দুর্ঘটনা ফের রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
❤ Support Us






