Advertisement
  • এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • অক্টোবর ২৪, ২০২৫

ফেভিকল থেকে ক্যাডবেরি, বিজ্ঞাপনের কিংবদন্তি কারিগর পীযূষ পাণ্ডে প্রয়াত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফেভিকল থেকে ক্যাডবেরি, বিজ্ঞাপনের কিংবদন্তি কারিগর পীযূষ পাণ্ডে প্রয়াত

ভারতের বিজ্ঞাপন জগতের এক কিংবদন্তি, ফেভিকল, ক্যাডবেরি, এশিয়ান পেইন্টসসহ অসংখ্য আইকনিক বিজ্ঞাপনের নির্মাতা পীযূষ পাণ্ডে প্রয়াত। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। জানা যাচ্ছে, গত এক মাস ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটেছিল। বৃহস্পতিবার তিনি চিরঘুমে সমাহিত হলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭০।

প্রায় ৪ দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন সংস্থা ‘ওগিলভি ইন্ডিয়া’-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পাণ্ডে। তাঁর নেতৃত্বে দেশের বিজ্ঞাপন জগতে এসেছে এক নতুন দিগন্ত। ১৯৮২ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে ওগিলভিতে যোগ দিয়ে তিনি বিজ্ঞাপনে দেশীয় ছাপ আনেন, যা তখন পর্যন্ত পশ্চিমা ও ইংরেজি প্রভাবের দুনিয়ায় বিরল ছিল। তিনি মানুষের মন এবং বিজ্ঞাপনের মধ্যে সেতু স্থাপন করেছিলেন, এটিই তাঁর অন্যতম অনন্য দক্ষতা, যা তাঁকে ভারতের বিপণন দুনিয়ায় অবিস্মরণীয় করে রেখেছে। দেশের মানুষ প্রথমবারের মতো ‘কুছ খাস হ্যায়’, ‘হর খুশি মেইন রং লায়ে’, ফেভিকলসহ একাধিক জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন তাঁর হাত ধরেই দেখেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির ‘অব কি বার, মোদী সরকার’ এবং ‘আচ্ছে দিন আনে ওয়ালে হ্যায়’ স্লোগানের নেপথ্যেও ছিলেন তিনি।

পীযূষ পাণ্ডের জন্ম জয়পুরে। তাঁর দাদা প্রসূন পাণ্ডে ছিলেন রেডিও জিঙ্গলের ভয়েস আর্টিস্ট। পরিবার থেকেই শিল্পের প্রতি ঝোঁক উত্তরাধীকারসূত্রেই পেয়েছিলেন। তিনি গায়ক ইলা অরুণের ভাইও। বিজ্ঞাপনের বাইরে ক্রিকেট, টি-টেস্টিং এবং নির্মাণকাজেও আগ্রহী ছিলেন। তবে তাঁর প্রকৃত ভালোবাসা ছিল বিজ্ঞাপনেই। কঠিন শব্দ বা জটিল ভাবাবলীর পরিবর্তে সরল, মানুষের মন ছুঁয়ে যাওয়া ভাষা ব্যবহার করাই ছিল তাঁর মূলমন্ত্র। তবে পাণ্ডে শুধু বিজ্ঞাপনের মানুষই ছিলেন না, বড়পর্দাতেও অভিনয় করেছেন। ২০১৩ সালে জন আব্রাহামের ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’-তে তিনি মন্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। বিজ্ঞাপন ও বিনোদন জগতে তাঁর অবদান মাপা কঠিন। ‘মিলে সুর মেরা তোমহারা’ জাতীয় ঐক্য প্রচারক গানের কথার নেপথ্যেও ছিলেন তিনি। তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৬ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। তাঁর হাত ধরে বিজ্ঞাপনের ভাষা মানুষকে ছুঁয়ে গেছে, ব্র্যান্ডের সীমা পেরিয়েছে এবং দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশেছে।

তাঁর প্রয়ানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সর্বস্তরে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ভারতের বিজ্ঞাপনের এক কিংবদন্তি, তিনি দৈনন্দিন জীবনের সরল হাস্যরস, আন্তরিক উষ্ণতা ও বোধগম্য ভাষাকে বিজ্ঞাপনে প্রাণবন্ত করেছিলেন।’ কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা উদয় কোটাক বলেছেন, ‘দুঃখজনক যে পীযূষ পাণ্ডে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। অসাধারণ চিন্তাবিদ, নম্র মানুষ এবং ভারতীয় প্রেক্ষাপটে সৃজনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ। তাকে মিস করব।’ শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। প্রয়াত কিংবদন্তির আইকনিক কাজের মধ্যে ফেভিকল-এর ‘তোরো নেহি, জোড়ো’, পন্ডসের ‘গুগলি উগলি উশ’, ভোডাফোনের জুজু ক্যাম্পেইন, গুজরাট পর্যটন প্রচারণা, ক্যান্সার পেশেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ধূমপান বিরোধী প্রচারণা এবং পোলিও সচেতনতা অভিযানে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ উল্লেখযোগ্য। তাঁর অবদান বিজ্ঞাপন শিল্পে এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!