Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৯, ২০২৫

চিন সফরেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে হত্যার চক্রান্ত ! মস্কো-নয়াদিল্লির তৎপরতায় বানচাল ছক, কোন গোপন অভিসন্ধি ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চিন সফরেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে হত্যার চক্রান্ত ! মস্কো-নয়াদিল্লির তৎপরতায় বানচাল ছক, কোন গোপন অভিসন্ধি ?

মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ? প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ছক । এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি ও অভিযোগ করা হয়েছে  ‘অর্গানাইজার’-এ সাম্প্রতিকতম প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট যখন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী শাংহাই কর্পোরেশনের বৈঠকে যোগ দিতে চিনে গিয়েছিলেন, সেইসময় তাঁকে হত্যার পরিকল্পণা ছিল ।
ওই দিনই ঢাকায় ওয়েস্ট ইন হোটেলের, ৮০৪ নম্বর ঘর থেকে এক মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্মীর দেহ উদ্ধার হয়। ‘অর্গানাইজার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মার্কিন সেনা অফিসার নরেন্দ্র মোদির উপর আক্রমণের অন্যতম  প্রধান হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল আরএসএস-এর মুখপত্র দাবি করছে, ভারত এবং রাশিয়ার গুপ্তচর বাহিনী যৌথ ‘অপারেশন’-এর ফলে টেরেন্স জ্যাকসনদের ‘পরিকল্পনা’ ব্যর্থ হয়ে যায়। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র বিরুদ্ধে আরএসএস-এর মুখপত্রে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ তোলা হল ঠিক সেই সময়, যখন মার্কিন  সংবাদপত্র ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শিল্পগোষ্ঠী আদানিদের সংস্থায় লাইফ ইনসিওরেন্স কর্পোরেশনের তরফে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের খবর ফাঁস করে হইচই ফেলে দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদি বা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নির্দেশেই কি লাইফ ইনসিওরেন্স কর্পোরেশনের মতো সংস্থা সাধারণ লগ্নীকারীদের টাকা ঝুঁকিতে ফেলে আদানিদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন কিনা, সেই বিতর্কে যখন ভারতবর্ষের রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই আরএসএস-এর মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’ এইরকম বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনল।
একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সখ্য নিয়ে নরেন্দ্র মোদি গর্বিত বোধ করতেন, যে মার্কিন ‘রিপাবলিকান’ রাজনীতিকের সমর্থনে তিনি আমেরিকায় গিয়ে বলেছিলেন, “আব কি বার, ট্রাম্প সরকার”, সেই মার্কিন প্রশাসন এবং সেদেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এমন কী বৈরিতা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হল, যে মার্কিন গুপ্তচর বাহিনীর বিরুদ্ধে এরকম গুরতর অভিযোগ উঠেছে ।
৩১ আগস্ট একই গাড়িতে প্রায় ৪৫ মিনিট রুশ প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে ছিলেন, তখনই সিআইএ-র এই পরিকল্পনা এবং আততায়ীদের পাঠানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ‘অর্গানাইজার’ লিখছে, ঢাকায় টেরেন্স জ্যাকসনের মৃত্যু এবং সিআইএ-র পরিকল্পনা জানার পর নরেন্দ্র মোদি নরেন্দ্র এতটাই উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন, যে, ২ সেপ্টেম্বর যখন তিনি দিল্লিতে ফিরে আসেন এবং একটি সম্মেলনে তাঁকে দেখে সবাই যখন হাততালি দিচ্ছিল, তখন নরেন্দ্র মোদি বলে ফেলেন, “আপনারা হাততালি কেন দিচ্ছেন ? আমি চিনে গিয়েছিলাম বলে ? না আমি চিন থেকে ফিরে এসেছি বলে ?” ‘অর্গানাইজার’ এর ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিনে শাংহাই কর্পোরেশনের বৈঠকের সময়ই সিআইএ তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা ঠিক করে ফেলেছিল।  তবে মস্কোর সহযোগিতায় ভারতীয় গোয়েন্দারা সিআইএ-র সেই পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।  এই খবর জানতে পারার পরে উত্তেজিত, বিহ্বল নরেন্দ্র মোদি দেশে ফিরে সকলের সামনে এই কথা বলে ফেলেন।
বিজেপি নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় সরকার কোনো খবরের জেরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে, তা সরিয়ে দেয়। যেমন, ওয়াকফ আইন নিয়ে বিতর্কের পরে ভারতবর্ষের বিভিন্ন চার্চের অধীনে কত জমি রয়েছে তার একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি ‘এবার আরএসএস খ্রিস্টানদের নিশানা করছে’ বলে অভিযোগ তোলার পর ‘অর্গানাইজার’ তাদের ওয়েবসাইট থেকে ওই প্রতিবেদন সরিয়ে নেয়। কিন্তু এবার সরাসরি সিআইএ-র বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে হত্যার চক্রান্তের অভিযোগ উঠলে, সে নিয়ে বিদেশে হলেও দেশে চর্চা হয়নি।
টেরেন্স অ্যারেভিল জ্যাকসন ছিলেন মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের প্রাক্তন কর্মী। বিশেষ কাজে জ্যাকসন সেন্ট মার্টিনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ঢাকায় ছিলেন।বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন ঘিরে মার্কিনীদের তৎপরতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে বহুবার । এবিষয়ে সেদেশের সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লিগের নেতারা বহু প্রশ্নও তুলেছে অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে । বাংলাদেশ-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যৌথ মহড়া, এই বলেই এড়িয়েছে সেদেশের সরকার । এর আগেও কক্সবাজার এলাকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার এবং সেনাবাহিনীর কনভয়ের ছবি নিয়ে চর্চা হয়েছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে । এবার ভারতকে জড়িয়ে, বিশেষত দেশের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার যে অভিযোগ উঠেছে, তার পেছনে কী ভূরাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা । একদিকে মার্কিন শুল্কচাপে, কিছুটা হলেও খনিজ তেলের আমদানি সে দেশ থেকে বাড়িয়েছে ভারত। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে, দুপক্ষই একাধিকবার আলোচনার টেবিলে বসেছে । রফাসূত্র চূড়ান্ত হবে দ্রুত, এবিষয়ে এখাধিকবার সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন মোদি সরকারের একাধিক মন্ত্রী । তারপরেও মার্কিন  গুপ্তচর বাহিনীর বিরুদ্ধে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী হত্যার চক্রান্তের অভিযোগ, নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার । নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ময়ানমার- এই সবকটি প্রতিবেশী দেশের অর্থসামাজিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল । অন্যদিকে ভারতের রুশ ও চিন সক্ষ্যে উষ্মা বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের । এমতাবস্থায় রাজনৈতিক দাবায় পাল্টা চাল দিয়ে, দিল্লিকে সমঝে চলার বার্তাই দিতে চাইছে কী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ? নাকী পড়শিদের অশান্তির ফায়দা তুলতে, নতুন অভিসন্ধির ঘুঁটি সাজাচ্ছে ক্ষমতা থেকে অপসারিত শক্তি, তা স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিনদের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহম্মদ ইউনূসের নৈকট্য বহুচর্চিত, এমতাবস্থায় সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের গুপ্ত সংস্থার তৎপরতায় ছাড়, খানিকটা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাদেই দিচ্ছে সেখানের সরকার, এ অভিযোগ তুলছেন অনেকেই। তবে মার্কিন চক্রান্ত ব্যর্থ করতে, রুশ গুপ্তচর বাহিনীর সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতা নিয়েও ভ্রুকুঞ্চিত অনেকের। এটা বাণিজ্য বিস্তারের নতুন ছক নয় তো ?

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!