- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ৩০, ২০২৫
বিহারেও মোদির সন্ত্রাসবিরোধী হুংকার, ‘ভারতের শক্তি দেখল বিশ্ব’। ভোটের দিকে তাকিয়েই তোয়াজমুখী অঙ্গীকার, ‘বিহারের উন্নয়ন মানেই ভারতের উন্নয়ন’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রোহতাস জেলার বিক্রমগঞ্জে জনতার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করলেন, ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি, আবার বিহারে এসেছি।’ কেবল ওপারের সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদকে জবাব দেয়নি, বিশ্ব ভারতের শক্তির সাক্ষী হয়ে রইল। এটা আমাদের একটা তীর মাত্র।’ পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘এটাই নতুন ভারতের মন্ত্র, ‘প্রাণ যায় যাক, কথা যেন না যায়’। আমি সে কথাই রেখেছি।’
বিশাল জনসভা, তীব্র দাবদহে গরম গলে পড়ছে। মুর্হুমুহ উচ্ছ্বাস লাফাচ্ছে। এরকম আবহেই বিহারের জন্য একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন, শিলান্যাসও করলেন কঠিন কাজ আর নতুন ভারতের প্রদর্শনকামী প্রবক্তা। গতকাল উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার থেকেই শুরু হয়েছে তাঁর অন্য এক অভিযান। সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের সাফল্য আর উন্নয়নের কথা বারবার বলা শুরু হলো। কারণ কী ? সামনে বিধানসভা ভোট। প্রথমে বিহারে। বছর ঘুরতেই দুর্ভেদ্য বাংলায়। তাঁর কর্ম-প্রচার আর অঙ্গীকারকে ছাড় দেননি বাংলার জনমুখী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, মোদিজি সিঁদুর বেঁচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অথচ বাংলাকে বঞ্চনার প্রবণতা অব্যাহত রেখেছেন। প্রাপ্য ১৭ লক্ষাধিক কোটি টাকা দেননি।
দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসক আর আধিপত্যবাদী বলে নিন্দিত প্রধানমন্ত্রী বিহারে এদিন যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন তা হচ্ছে এই – অরঙ্গাবাদ জেলার নবীনগরে প্রস্তাবিত সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট, প্রায় ২৯,৯৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি শুধু বিহার নয়, সমগ্র পূর্ব ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, দাবি কেন্দ্রের। একইসঙ্গে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে আর সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়ক হবে। এদিন বিহারের সড়ক পরিকাঠামোতেও বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা হয়। মোদি শিলান্যাস করেন পাটনা–আড়া–সাসারাম জাতীয় সড়ক ১১৯এ–র চার-লেন নির্মাণ, বারাণসী–রাঁচি–কলকাতা হাইওয়ে এবং রামনগর–কচ্চি দরগা রোডের ছয় লেন সম্প্রসারণ প্রকল্পের। একই সঙ্গে বক্সার ও ভরাউলির মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে নির্মিত হবে নতুন গঙ্গা সেতু। এছাড়াও, পাটনা–গয়া–ডোবি রাস্তায় চার লেন নির্মাণ, আনুমানিক খরচ ৫,৫২০ কোটি টাকা, গোপালগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া এনএইচ–২৭–এ এলিভেটেড হাইওয়ে ও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও এদিন প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের তালিকায় ছিল। রেল পরিষেবার উন্নয়নে সোননগর থেকে মহম্মদগঞ্জ পর্যন্ত তৃতীয় রেলপথের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১,৩৩০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দেন, ‘সমগ্র দেশে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নই আমার অঙ্গীকার।’
সরাসরি আক্রমণ কংগ্রেস ও আরজেডির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, রেলে চাকরির নামে গরিবের জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এটা কোন ধরণের সামাজিক ন্যায় ? এই প্রশ্ন তুলেই সমগ্র অনগ্রসর শ্রেণীর প্রতি- কেন্দ্রের মনোভাব ব্যক্ত করে জানালেন, যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল না, তাঁদের কাছে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। এসব মানুষ ধারাবাহিক বঞ্চনার শিকার হয়ে আগের ক্ষমতাসীন দলগুলিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এসব দলই সামাজিক ন্যায়ের বুলি আওড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর অঙ্গীকার ঘোষণা করে জানালেন, প্রস্তাবিত নতুন বিহার; বাবাসাহেব আম্বেদকর, জগজীবন রাম, জয়প্রকাশ নারায়ণের স্বপ্নপূরণ করবে। বিহারের উন্নয়ন মানেই ভারতের উন্নয়ন।
❤ Support Us






