Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ২৭, ২০২৩

দেশে অভিন্ন দেওয়ানি আইন জারির পক্ষে ফের সওয়াল মোদির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দেশে অভিন্ন দেওয়ানি আইন জারির পক্ষে ফের সওয়াল মোদির

“আজ অভিন্ন দেওয়ানি আইনের নামে জনগণকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। দেশ দুটি আইন কীভাবে চলবে? সংবিধানও সমান অধিকারের কথা বলে…সুপ্রিম কোর্টও অভিন্ন দেওয়ানি আইন বাস্তবায়ন করতে বলেছে। বিরোধীরা ভোটের নামে এটা নিয়ে খেলছে।” মধ্যপ্রদেশ থেকে এভাবেই সারা দেশে অভিন্ন দেওয়ানি আইন জারির পক্ষে সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মঙ্গলবার বিধানসভা ভোটের মুখে মধ্যপ্রদেশে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিন তালাকের উদাহরণ টেনে এনে প্রধানমন্ত্রী অভিন্ন দেওয়ানি আইনের পক্ষেই সওয়াল করেন।

তবে কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিন্ন দেওয়ানি আইন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি কংগ্রেসের কাছে পরাজিত হয়েছে। তবে সংঘ পরিবারের অ্যাজেন্ডা চালুর লক্ষ্যে আবারও মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফের সারা দেশে অভিন্ন দেওয়ানি আইন চালুর পক্ষে মুখ খুললেন।

এর আগে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিন্ন দেওয়ানি আইন কার্যকর করার বার্তা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইতিমধ্যেই বহু বিজেপি শাসিত রাজ্য অভিন্ন দেওয়ানি আইন কার্যকর করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এখনও এই নিয়ে সেভাবে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও বিজেপি নেতারা বরাবরই অভিন্ন দেওয়ানি আইনের পক্ষে সওয়াল করে এসেছে। এই আবহেই মঙ্গলবার ভোপালে দাঁড়িয়ে এই অভিন্ন দেওয়ানি আইন বাস্তবায়নের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

ভোপালে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ”মুসলিমদের ক্ষেত্রে তিন তালাক যদি ধর্মীয় ভাবে এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে কেন এটা নেই?”

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ভারতের গণপরিষদ ৪৪ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, যখনই দেশের সব রাজ্যের বিধায়ক এবং ভারতের সংসদের জন্য পরিস্থিতি অনুকূল হবে তখনই অভিন্ন দেওয়ানি আইন কার্যকর করা উচিত। এই অনুচ্ছেদকে হাতিয়ার করেই বারংবার জনসংঘ থেকে বিজেপি অভিন্ন দেওয়ানি আইনের পক্ষে সওয়াল করে এসেছে। এক দেশ, এক ভাষা, এক আইন সংঘ পরিবারের অ্যাজেন্ডা।

শুরু থেকেই বিজেপি বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তান দত্তক নেওয়া থেকে শুরু করে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দেশে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একটি আইন কার্যক করার দাবি করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী বিজেপি ও সংঘ পরিবারের এই অ্যাজেন্ডাকে সামনে রেখেই মঙ্গলবার বললেন, “সংখ্যালঘুদের তোষণ ও তুষ্টির রাজনীতির কারণেই ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে এখনও অভিন্ন দেওয়ানি আইন চালু করেনি কংগ্রেস সহ বিরোধীরা।”

এই পথ ধরেই বিজেপি বারবার তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিষয়টি উল্লেখও করেছে।
একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে ইতিমধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার জন্য আইন আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে জাতীয় স্তরে এখনও এই আইন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। এদিকে অভিন্ন দেওয়ানি আইন চালুর দাবিতে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা হয়। তবে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার রয়েছে শুধুমাত্র সংসদের।

এই পরিস্থিতিতে কয়েক সপ্তাহ আগেই একটি নোটিশ জারি করে অভিন্ন দেওয়ানি আইন নিয়ে জনসাধারণ এবং বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের থেকে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে আগের আইন কমিশনও বিভিন্ন সংগঠনের থেকে অভিন্ন দেওয়ানি আইন নিয়ে মতামত চেয়েছিল। তবে এরপর ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে জয়ের পর এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তবে ২০২৪ সালের ভোটের আগে আবার একবার অভিন্ন দেওয়ানি আইন নিয়ে তৎপর হয়েছে বিজেপি। এবার নরেন্দ্র মোদির গলাতেও সেই অভিন্ন দেওয়ানি আইনের পক্ষে সুর শোনা গেল।
এদিকে রাজনৈতিক ভাবে অভিন্ন দেওয়ানি আইন নিয়ে সুর চড়ালেও আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে সংসদে এই সংক্রান্ত বিল আনা বেশ কঠিন কাজ হবে বিজেপির পক্ষে, কারণ আইন কমিশন সাধারণ মানুষের মতামত জানার পর এই নিয়ে বিলের খসড়া তৈরি করবে। যেটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!