Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ১১, ২০২৬

উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবাসী ভারতীয়দের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে ‘বিকশিত কেরালাম’-এর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবাসী ভারতীয়দের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে ‘বিকশিত কেরালাম’-এর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা ঘিরে উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের আবহে কেরালার মানুষকে আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির ‘বিকশিত কেরালাম’-এর রূপরেখা তুলে ধরে কংগ্রেস ও সিপিএম— দুই শিবিরকেই একযোগে আক্রমণ শানালেন তিনি। বুধবার কোচির জওহরলাল নেহরু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এনডিএ-র বিশাল জনসভা থেকে কেরালার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, বাহরিনে বিপুল সংখ্যক মালয়ালি প্রবাসীর কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ঘিরে কেরালার বহু পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে বিদেশে বিপদে পড়া ভারতীয়দের পাশে কেন্দ্রীয় সরকার সবসময়ই থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ যখন বিদেশে সমস্যায় পড়েন, তখন আমরা তাঁদের একা ফেলে রাখি না। আমাদের দূতাবাস ও মিশনগুলি ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু রেখেছে। গাল্ফ অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের জন্য প্রয়োজনীয় সব সাহায্য করা হবে।’ পশ্চিম এশিয়ার বন্ধুসুলভ দেশগুলির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করা ‘দুর্ভাগ্যজনক’। বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারের প্রসঙ্গে ইয়েমেনে বন্দিদশা থেকে ফাদার টম উঝুন্নালিলের মুক্তি এবং  পুরোহিত অ্যালেক্সিস প্রেম কুমারের উদ্ধারের উদাহরণ টানেন তিনি।

পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে কেন্দ্রের নীতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি জানান, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমাতে ভারত দ্রুত এগোচ্ছে। সে প্রেক্ষিতেই কোল্লাম জেলার পশ্চিম কল্লাডায় ৫০ মেগাওয়াটের ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ প্রকল্প কেরালার নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়াবে এবং দেশের পরিচ্ছন্ন শক্তি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সভা থেকেই বিজেপির ‘বিকশিত কেরালাম’ প্রচারাভিযানের সূচনা করেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁর দাবি, কেরালার পর্যটন, প্রতিভা আর প্রযুক্তিকে এক করে, এক নতুন কেন্দ্রে পরিণত করতে চায় বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়েলনেস ট্যুরিজম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং, আন্তর্জাতিক কনসার্ট এবং বিশ্বমানের সম্মেলনের জন্য কেরল ভারতের প্রথম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।’

কেরালার পরিকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে কেরলকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন। তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যুবসমাজ অসাধারণ প্রতিভাবান। অনেকেই ড্রোন তৈরি করছে, নতুন নতুন স্টার্টআপ গড়ে তুলছে। তাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সঠিক পরিবেশ তৈরি করব।’ নাম না করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও কটাক্ষ করেন তিনি। মোদীর বক্তব্য, ‘কংগ্রেসের যুবরাজ জানেনই না যে, দেশের তরুণরা ড্রোন ও নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছে।’ তাঁর দাবি,  বিজেপি  কেরালার ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি, জমি মাফিয়া, হরতাল মাফিয়া এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান ঘটানো হবে।

এদিন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এবং সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ—দুই জোটের বিরুদ্ধেই তীব্র আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য গঠনের পর থেকে পালা করে ক্ষমতায় থাকা এই দুই শিবিরই কেরলের তরুণ প্রজন্মকে হতাশ করেছে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ইউডিএফ সরকারের সময় ‘সোলার স্ক্যাম’ সামনে এসেছিল, আর এলডিএফ সরকার সিএমআরএল বিতর্কে অভিযুক্ত। সাবরিমালা মন্দিরের সোনা চুরির ঘটনাতেও বাম সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।  রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস জামাত ঘরানার শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, আর বামপন্থীরা চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কেরলের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের উন্নয়ন প্রত্যাশিত গতিতে হয়নি। রাজ্যের মানুষকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সুযোগ দেওয়ার আবেদনও জানান প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়নের গতি বাড়বে— ‘ডাবল ইঞ্জিন’ তত্ত্বও আবার তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কেরালা সফর ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। কোচিতে প্রায় ১০,৮০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান ক্ষমতাসীন বাম সরকার বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, স্থানীয় স্বশাসনমন্ত্রী এম বি রাজেশ এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী কে কৃষ্ণনকুট্টি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি অনুষ্ঠানের তালিকা থেকে রাজ্যের জনপথ দপ্তরের মন্ত্রী মোহাম্মদ রিয়াসের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এরনাকুলামের কংগ্রেস সাংসদ হিবি ইডেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এ দিন কোচিতে ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের রিফাইনারিতে প্রস্তাবিত পলিপ্রোপিলিন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পাশাপাশি জাতীয় সড়ক ৬৬-এর থালাপাডি–চেঙ্গালা অংশের ছয় লেন এবং কোঝিকোড বাইপাসের ভেঙ্গালাম থেকে রামানাট্টুকারা পর্যন্ত ছয় লেন প্রকল্পের কাজের সূচনা হয়। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এম বি গোবিন্দন অভিযোগ করেন, পিডব্লিউডি মন্ত্রীকে অনুষ্ঠানে না ডাকা অযৌক্তিক। তাঁর দাবি, জাতীয় সড়কের উদ্বোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত রাজ্যের জনপথ মন্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মন্ত্রী মোহাম্মদ রিয়াসও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘এটা শুধু রাজ্যের পিডব্লিউডি মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া নয়, কেরালাকেই অপমান করার সামিল।’ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর এবং তাকে ঘিরে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন ‘মশলার রাজ্যে’ ভোট রাজনীতিকে যে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলল, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!