- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ১৪, ২০২৩
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিহুর অনন্য নজির। ১১৩০৪ নৃত্যশিল্পী ও ৩০০০ ঢুলিয়ার সমবেত নৃত্য-বাদ্যে তৈরি হল নয়া বিশ্বরেকর্ড
চিত্র: সংবাদ সংস্থা
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাতাসে যেন আজ রঙীন উচ্ছ্বাস। একই দিনে ঐতিহ্যবাহী বিহু উৎসব গিনেস বুকে নাম তুলে নয়া নজির গড়ল আর সেদিনই প্রধানমন্ত্রী উৎসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্যের জন্য একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করলেন। যা আসামসীদের উৎসবের আনন্দ যেন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল।
বিহু অসমের জাতীয় উৎসব। সাধারণত তিন ধরণের বিহু পালন করা হয়য়। এক ভোগালি, দুই কাঙালি, তিন রাঙ্গালি। অহমীয়াদের নববর্ষ উদাযাপন উপলক্ষে রাঙ্গালি পালন করা হয়। কৃষিভিত্তিক সমাজে খেত থেকে নতুন ফসল তোলার সময় উৎসব অনুষ্ঠান পালন লোকসংস্কৃতির স্বাভাবিক অঙ্গ। আসামের লোকজীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত বিহু এ বছর নয়া এক নজির গড়ল। ১১,৩০৪ ছেলে মেয়ে একসাথে বিহুর নাচে অংশগ্রহণ করল। হাজার হাজার দর্শকের সামনে নৃত্যের তালে মাতিয়ে তুললেন সরুসাজাই স্টেডিয়াম। একই সঙ্গ তিন হাজার ঢুলিয়ার সমবেত ঢাকের বোল অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের উপস্থিত প্রতিনিধিরাও নৃত্য ও বাদ্যের অপূর্ব সমন্বয় দেখে অভিভূত। নাচ ও বাজনার এমন অভাবনীয় কীর্তির পর বিশ্ব রেকর্ড রূপে তা নথিভুক্ত করা ছিল নিতান্তই নিয়মরক্ষা মাত্র।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেমন ভারতের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। বিহুর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দৈহিক উপস্থিতি ও অভিনন্দন জ্ঞাপন কেবল নয়, একদিনের সফরে আসামের উন্নয়নের স্বার্থে ১৩ ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদি। গুয়াহাটিতে তাঁর হাত ধরে ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স অর্থাৎ এইমস-এরও শুভ সূচনা হয়। । ৬ বছর আগে ১১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালের শিলান্যস করা হয়। দীর্ঘ সময়ের অতিবাহিত হওয়ার পর আসামে এই প্রথম চালু হবে এইমসের মতো বিশ্বমানের হাসপাতাল।
চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার জন্য অন্য রাজ্যে আসামের ছেলেমেয়েদের ছুটে যেতে না হয়, তার জন্য তিনটি মেডিক্যাল কলেজের উদ্বোধন করেন তিনি। এছাড়াও আয়ুস্মান ভারতের ১ কোটি কার্ড তিনি বিতরণ করেন। এই প্রকল্পে সুবিধাভোগীরা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবায় ছাড় পেয়ে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রী তার আসাম সফরে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আজকাল একটি নতুন রোগ দেখা যাচ্ছে। আগেকার সরকার অভিযোগ করে যে তারাও কয়েক দশক ধরে দেশ শাসন করেছে, কিন্তু কোন কৃতিত্ব তাঁরা পায়নি। বলে সবসময় অভিযোগ করে। নিজেদের সেবক বলে দাবি করে তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বকে আমাদের দূরের মনে হয় না এবং একনিষ্ঠতার অনুভূতিও রয়েছে। উত্তর-পূর্বের মানুষ নিজেরাই উন্নয়নের লাগাম টেনে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। উৎসবের দিনেও বিরোধী শিবিরকে তুলোধোনা করতে কোনরকম ফাঁক রাখলেন না প্রাধানমন্ত্রী।
❤ Support Us







