- দে । শ
- ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর । অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত
ভারত–জর্ডান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বৃহৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জর্ডান সফরে গিয়ে তিনি জানালেন, আগামী ৫ বছরে দু–দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য। মঙ্গলবার আম্মানে অনুষ্ঠিত ভারত–জর্ডান ব্যবসা ফোরামে জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর উপস্থিতিতে এ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে, দ্বিপাক্ষিক গণ্ডি ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে ভারত।
এদিন, বাণিজ্য ফোরামে ভাষণ দিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ভারত ও জর্ডানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। ভারত আজ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড়ো অর্থনীতি। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে জর্ডান।’ তাঁর বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে জর্ডানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসর হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ভারতীয় সংস্থাগুলি। চার দিনের, তিন দেশ সফরের প্রথম পর্যায়ে জর্ডানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সফরের পরবর্তী গন্তব্য ইথিওপিয়া ও ওমান। আম্মানের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জর্ডানের ক্রাউন প্রিন্স হুসেইন বিন আবদুল্লাহ আল-হাশেমি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী এবং বিনিয়োগমন্ত্রী। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত।
রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি এবং জর্ডানের বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির নেটওয়ার্ক একসঙ্গে কাজ করলে একটি শক্তিশালী ‘অর্থনৈতিক করিডর’ তৈরি করা সম্ভব। তিনি ভারত–মধ্যপ্রাচ্য–ইউরোপ করিডর–এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ‘ইন্টিগ্রেটেড প্রসেসিং হাব’ গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ফোরামে মোদি আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিকাঠামো পুনর্গঠনে ভারতীয় ও জর্ডানীয় সংস্থাগুলি যৌথ ভাবে কাজ করতে পারে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, গোটা অঞ্চলের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভারতের ভূমিকা বাড়ানোর বার্তা বহন করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির দু–দিনের এই সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ও নবায়নযোগ্য শক্তি, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তি। জর্ডান আন্তর্জাতিক সৌর জোট, গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স এবং দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, জনসংখ্যা-পরিসরের ডিজিটাল সমাধান ভাগাভাগি করার বিষয়ে একটি অভিপ্রায়পত্রেও সই হয়েছে।
ভারতের তরফে আম্মানের আল হুসেইন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে অবস্থিত ভারত–জর্ডান সেন্টার অব এক্সেলেন্সকে সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী তিন বছরে সেখানে ১০ জন ‘মাস্টার ট্রেনার’-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী এক্স–এ লেখেন, ‘এই সফরের ফলাফল ভারত–জর্ডান অংশীদারিত্বের এক অর্থবহ সম্প্রসারণ। নবায়নযোগ্য শক্তিতে সহযোগিতা পরিচ্ছন্ন বৃদ্ধি ও জলবায়ু দায়বদ্ধতার প্রতি আমাদের যৌথ অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।’ জল ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদি বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পরিবহণ, এমনকি পারমাণবিক সহযোগিতা— এই ৮ দফা দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন বলে জানান। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ভারত–জর্ডান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারত বর্তমানে জর্ডানের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের শীর্ষ নেতারা এদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণে জোর দিতে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ১১তম বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যৌথ কমিটির বৈঠক ডাকা হবে। পাশাপাশি শুল্ক সহযোগিতা চুক্তির পূর্ণ প্রয়োগ, পরিবহণ ও লজিস্টিক সংযোগ জোরদার এবং জর্ডানের ট্রানজিট অবকাঠামোকে আঞ্চলিক স্তরে যুক্ত করার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে।
❤ Support Us





