- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
রাইসিনা হিলে নয়া ইতিহাস! বদলে গেল প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ঠিকানা। ‘সেবা তীর্থ’ উদ্বোধন করে একাধিক ঘোষণা নরেন্দ্র মোদির
স্বাধীনতার পর প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ঠিকানা বদলাল। দীর্ঘকাল ব্রিটিশ আমলে নির্মিত নর্থ ও সাউথ ব্লককে পেছনে রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার উদ্বোধন করলেন ‘সেবা তীর্থ’ নামের নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্সের। ৩ ভবন যুক্ত এই কমপ্লেক্সে এখন এক ছাদের তলে স্থানান্তরিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পিএমও, ক্যাবিনেট সচিবালয় এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের এই আধুনিক কমপ্লেক্সের উদ্বোধন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুধু দফতর বদল করেননি, এক ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারও কার্যকর করেছেন।
উদ্বোধনের দিনেই প্রধানমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেন, যা দেশের নারীদের স্বনির্ভরতা, কৃষি অবকাঠামো, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং উদ্ভাবন অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। সেইদিনই শুরু হয় পিএম রাহত প্রকল্প, যা সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। এ প্রকল্পের আওতায় আহত ব্যক্তি সর্বোচ্চ এক-দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। সরকারের ব্যাখ্যা, আর্থিক অসুবিধার কারণে জরুরি চিকিৎসা বিলম্বিত না হয় এবং অকাল প্রাণহানি রোধ হয়, সেটাই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ লাখপতি দিদি মিশন। ২০২৩ সালে চালু হওয়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল। নির্ধারিত সময়সীমায় ৩ কোটি মহিলাকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী মোদি সেই লক্ষ্য দ্বিগুণ করে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে ৬ কোটি মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার ঘোষণা করেছেন। প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের বিনাসুদে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য বা উদ্যোগ সহজে শুরু করতে পারেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়।
কৃষি খাতেও বড়োসড়ো পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষি অবকাঠামো তহবিল ১ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই তহবিল মূলত ফসল কাটার পর সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামো—যেমন গুদাম, কোল্ড স্টোরেজ এবং প্রসেসিং ইউনিট ইত্যাদি গড়ে তুলতে ব্যবহার করা হবে। সরকারের বক্তব্য, বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে, মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং চাষিদের আয় বৃদ্ধি পাবে। পুরো কৃষি মূল্য শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করা সরকারের লক্ষ্য। উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিখাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ফান্ড অব ফান্ডস ২.০’-এর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। এটি প্রাথমিক পর্যায়ের সংস্থা, ডিপ-টেক, উন্নত উৎপাদন ও উদীয়মান ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হবে। সরকারের আশা, মূলধনের এমন যোগান নতুন প্রজন্মের স্টার্টআপগুলিকে গতি দেবে এবং বৈশ্বিক উদ্ভাবন মানচিত্রে ভারতের অবস্থান মজবুত করবে।
‘সেবা তীর্থ’ কমপ্লেক্সের ৩ টি ভবনই আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুযায়ী তৈরি। প্রধানমন্ত্রীর দফতর সেবা তীর্থ-১-এ, ক্যাবিনেট সচিবালয় সেবা তীর্থ-২-এ এবং ন্যাশনাল নিরাপত্তা উপদেষ্টা দফতর সেবা তীর্থ-৩-এ স্থানান্তরিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩টি বিভাগ আলাদা আলাদা স্থানে কাজ করলেও নতুন কমপ্লেক্সে তাদের কার্যক্রম একত্রিত হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে। কেন্দ্রীয় রিসেপশন, নির্দিষ্ট জন-সাক্ষাৎ অঞ্চল এবং উন্নত ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা নাগরিক পরিষেবা সহজ করবে। পাশাপাশি, ভবনগুলোতে নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহার, জল সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শক্তি-সাশ্রয়ী নকশা রাখা হয়েছে।
পুরনো নর্থ ও সাউথ ব্লক খালি হওয়ার পর এগুলি রূপান্তরিত হবে ‘যুগে যুগীন ভারত জাতীয় জাদুঘর’ হিসেবে। এখানে ৫,০০০ বছরের ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস প্রদর্শিত হবে। প্রাচীন জ্ঞানব্যবস্থা, সিন্ধু সভ্যতা, মৌর্য-গুপ্ত-চোল সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, এবং আধুনিক ভারতের বিজ্ঞান ও মহাকাশ অগ্রগতি প্রদর্শিত হবে প্রায় ৯৫০টি কক্ষ এবং ৩০টি গ্যালারিতে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ফ্রান্সের মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্ট লুভর আবুধাবি প্রকল্পের মতো প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। কেন্দ্র সরকারের মতে, নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বয় বৃদ্ধি, ব্যয় হ্রাস এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। এটি শুধু দফতর বদল নয়, বরং ‘সত্তা থেকে সেবা’-র প্রতীকী রূপান্তর। প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত ৩টি ক্ষেত্রেই ‘সেবা তীর্থ’কে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখছে কেন্দ্র। যদিও শুরু থেকেই এই প্রকল্পের বিরোধিতায় সরব কংগ্রেস সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা।
❤ Support Us






