- দে । শ
- জানুয়ারি ২, ২০২৩
মাকে হারানোর দিনেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য বন্দে ভারত সহ একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা মোদির
মাতৃ বিয়োগের কারণে সফর বাতিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের তার পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে সশরীরে উপস্থিত না হলেও ভার্চুয়ালে যোগ দিয়ে নিজের কর্মসূচী সারলেন মোদি।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তার মধ্যে একটি অন্যতম ছিল হাওড়া নিউ জলপাইগুড়ি ‘বন্দে ভারত’ এক্সপ্রেসের শুভ উদ্বোধন। মাতৃ বিয়োগের কারণে তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। কিন্তু ভার্চুয়াল মাধ্যমে এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠান মঞ্চে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নতুন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
এদিনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কথা উল্লেখ করে নিজের মাতৃভূমির উন্নয়নের ওপর জোর দেন। এরপরে গত আট বছরে রেলের উন্নতির ও আধুনিকীকরণের ব্যাপারে তার সরকারে র সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ‘রেলে যে উন্নতি হচ্ছে, তা আগে কখনও হয়নি।’ ভিস্তা কোচ ও বিমানবন্দরের ধাঁচে রেলস্টেশনগুলোকে সাজানো হয়েছে এই সময়ে। বন্দে ভারত ছাড়াও ৫০০০ কোটি টাকা খরচে জোকা-এসপ্লানে়ড মেট্রো রুটের কাজ হচ্ছে। তাতে সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে বলেই মোদি মন্তব্য করেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের বৈঠকে সদ্য মাতৃহারা প্রধানমন্ত্রীকে সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই বেদনা দায়ক ঘটনার কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠান সময় সূচী সংক্ষিপ্ত করার আবেদন জানান। তিনি আরো বলেন যে তার রেলমন্ত্রী থাকার সময়ে এই প্রকল্পের সুচনা হয়েছিল। তাই আজ এই ট্রেন পথচলা শুরু করায় তিনি খুশি।
সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে আমেদাবাদ থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রী মোদি সবুজ পতাকা নাড়িয়ে ট্রেনের যাত্রার সূচনা করেন। হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি যাওয়ার পথে ডানকুনি, কামারকুণ্ডু, মশাগ্রাম ,বর্ধমান, খানা, বোলপুর, আহমদপুর, সাঁইথিয়া, রামপুরহাট, চাতরা, নিউ ফরাক্কা, মালদা টাউন, মুকুরিয়া, বারসোই, কিষাণগঞ্জ, আলুয়াবাড়ি রোড সহ মোট ১৮ টি স্টেশনে দাঁড়ায়। নতুন এই ট্রেনটি ডানকুনি স্টেশনে পৌঁছয় দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে।নিয়ম অনুযায়ী প্রতি স্টেশনে ২ মিনিট করে দাঁড়ানোর কথা। কিন্তু ডানকুনিতে প্রচুর মানুষ এই নতুন ট্রেনে ওঠায় নির্ধারিত সময়েরর থেকে বেশ কিছু দেরিতে ছাড়ে এই ট্রেনটি। ১২ টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি ডানকুনি ছাড়ে। তারপর কামারকুণ্ডু, মসাগ্রাম হয়ে বর্ধমান পৌঁছয়। বোলপুরে আবার আরপিএফ ও রেলকর্মীদের মধ্যে সংঘাত দেখা দিলেও রেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ট্রেনটি প্রথম দিনে ১৮ টি স্টেশনে দাঁড়ালেও রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অন্য সাধারণ দিনে বোলপুর (শান্তিনিকেতন), মালদা টাউন এবং বারসোই স্টেশনে দাঁড়াবে এই ট্রেন।
আপ ২২৩০১ বন্দে ভারত এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশে ছাড়বে ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে। নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছবে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে। আবার ডাউন ২২৩০২ বন্দে ভারত এক্সপ্রেস নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ছাড়বে দুপুর ২টো ৫০ মিনিটে। হাওড়া পৌঁছবে রাত ১০টা ২০ মিনিটে। সপ্তাহে ৬ দিন চলবে এই ট্রেন। ট্রেনের গতিবেগ সম্পর্কে জানা যাচ্ছে যে খাতায় কলমে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের গতি ঘণ্টায় সর্বাধিক ১৮০ কিলোমিটার। কিন্তু হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে বন্দে ভারতের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটারের সীমা পেরোবে না। বস্তুত, এই গতিবেগও সর্বত্র এক রকম থাকবে না। রেল জানাচ্ছে, ডানকুনি থেকে খানা জংশনের মধ্যে বন্দে ভারতের সর্বাধিক গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। তার পর রেললাইনের স্বাস্থ্যের কারণেই গতি আর বাড়ানো যাবে না।
উন্নত মানের ১৬ কামরার সম্পূর্ণ বাতানুকূল ট্রেন বন্দে ভারত। ১৪টি সাধারণ চেয়ারকার, দু’টি এগ্জ়িকিউটিভ চেয়ারকার রয়েছে এই ট্রেনে। দু’প্রান্তে থাকবেন চালক ও গার্ড। বন্দে ভারতের প্রতিটি কামরায় রয়েছে স্বয়ংক্রিয় এবং সেন্সর নিয়ন্ত্রিত বাতানুকূল ব্যবস্থা। শৌচাগারের কল, ভেস্টিবিউলের দরজাও নিয়ন্ত্রণ করছে সেন্সর। সবই বায়ো-টয়লেট।
আইআরসিটিসি-র ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়িতে যাওয়ার জন্য বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের চেয়ার কারের (সিসি) ভাড়া ১,৫৬৫ টাকা। তবে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে হাওড়া আসার জন্য চেয়ার কারের ভাড়া ১,৪৪৫ টাকা। এগজ়িকিউটিভ চেয়ার কার (ইসি)-এর ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে মাথা পিছু ২,৮২৫ টাকা। এ ক্ষেত্রেও আসার ভাড়া কিছুটা কম। সেই ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ২,৬৭০ টাকা। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন ২০২৩ এর মধ্যে দেশে ৭৫ টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু হবে। তার মধ্যে ৫ টি রুটে এই ট্রেন আগেই চালু হয়েছে। আজকে পশ্চিমবঙ্গ পেল ষষ্ঠতম ট্রেনটি।
ট্রেন যখন হাওড়া স্টেশনের ২২ নং প্ল্যাটফর্ম থেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা তখন বেশ কয়েকজন বিজেপি সমর্থক জয় শ্রীরাম শ্লোগান দেয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখনও সেখানে উপস্থিত। তবে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না তৈরি হয় সেজন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। কড়া নিরাপত্তায় মোড়া হাওড়া স্টেশন চত্বরে আর কোনো অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখা যায়নি।
প্রসঙ্গত, এদিন কলকাতায় আয়োজিত দ্বিতীয় জাতীয় গঙ্গা পরিষদের বৈঠকেও তিনি ভার্চুয়ালি যোগ দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামি, কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান প্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর প্রমুখ। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বদলে বৈঠকে যোগ দেন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব।
গঙ্গা নদী এবং এর উপনদীগুলির দূষণ প্রতিরোধ এবং পুনর্জীবন প্রকল্পগুলি তত্ত্বাবধানের সামগ্রিক দায়িত্ব রয়েছে জাতীয় গঙ্গা পরিষদের উপর। এই পরিষদের আওতায় নমামি গঙ্গে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল, গঙ্গার দূষণ কার্যকরভাবে হ্রাস করা, গঙ্গা সংরক্ষণ এবং পুনর্জীবনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রক ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় করা। ২০১৪ সালের জুনে এই প্রকল্পের জন্য ২০,০০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।
❤ Support Us





