Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৩০, ২০২৫

‌বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় ভারত ও চিনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‌বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় ভারত ও চিনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

আঞ্চলিক শান্তি এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য ভারত–চিনের মধ্যে স্থিতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ  সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মার্কিন শুল্ক ব্যবস্থার ফলে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে চীন সফরের একদিন আগে তিনি ভারত ও চীনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

দিল্লি ও টোকিওর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য দু’‌দিনের জাপান সফরে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ৩১ আগস্ট তিয়ানজিনে যাবেন। চিন সফরের আগে ভারত ও চিনকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক শৃঙ্খলায় স্থিতিশীলতা আনতে একসাথে কাজ করার কথা বলেছেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মতে, বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এশিয়ার বিশাল শক্তিগুলির মধ্যে স্থিতিশীল, পূর্বাভাসযোগ্য এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাপানি দৈনিক ‘‌ইয়োমিউরি শিম্বুন’‌কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‌বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ব অর্থনৈতিক শৃঙ্খলায় স্থিতিশীলতা আনতে ভারত ও চীনের এক সঙ্গে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর দুটি বৃহত্তম দেশ ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধির উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌ভারত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে কৌশলগত এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত।’‌ প্রধানমন্ত্রী চিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির কথা তুলে ধরেন এবং আঞ্চলিক ও বিশ্ব শান্তির জন্য এর গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সম্পর্ক কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং বৃহত্তর এশীয় অঞ্চলের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং রাশিয়ার সঙ্গে তেল ক্রয়ের জন্য জরিমানা হিসেবে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ। একইভাবে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক ১৪৫ শতাংশে উন্নীত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে ১২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও এর বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। মার্কিন এই শুল্কনীতিতে যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে চীন।

‘‌ইয়োমিউরি শিম্বুন’‌কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও উল্লেখ করেছেন যে, গত বছর কাজানে প্রেসিডেন্ট শি–র সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের পর থেকে ভারত–চিন সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‌আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনটি অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে।’‌

গালোয়ান সংঘর্ষের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের পর ভারত ও চিন সম্প্রতি সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য কাজ করছে। দুই দেশ উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা করেছে। যার ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর কিছু স্পর্শকাতর এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়াও, অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চিনের ভারতে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং সরাসরি বিমান ও সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বর্তমানে জাপান সফরে রয়েছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বেশ কয়েকটা উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ৩১ আগস্ট তিয়ানজিন যাবেন। এই শীর্ষ সম্মেলনে ২৫টি সদস্য রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে দেখা হবে মোদীর। ‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!