Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ২৭, ২০২৬

জগদ্দলের জনসভা থেকে তৃণমূলের সমালোচনা। ‘রাজ্যের নতুন মন্ত্রীসভার শপথে আসতেই হবে’, আত্মবিশ্বাসী বার্তা মোদির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জগদ্দলের জনসভা থেকে তৃণমূলের সমালোচনা। ‘রাজ্যের নতুন মন্ত্রীসভার শপথে আসতেই হবে’, আত্মবিশ্বাসী বার্তা মোদির

দ্বিতীয় দফার ভোট প্রচারের শেষ লগ্নে জগদ্দলের জনসভা থেকে ভাটপাড়া, জগদ্দল সহ সংশ্লিষ্ট বিধানসভার প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে এসে ১৮৫৭ সালে ব্যারাকপুর থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “সারা বাংলা জুড়ে আজ একটাই স্লোগান, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সকালে হাজার হাজার মানুষ আমায় সমর্থন জানাতে এসেছেন, এর চাইতে সৌভাগ্য আর কি হতে পারে? ব্যারাকপুরের মাটিতে এবার পরিবর্তনের ঢেউ। আমি আজ শেষ সভা করে যাচ্ছি। এরপর ৪ মে তারিখে বিজেপি মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমাকে আসতেই হবে। যে দল নিজেদের ১৫ বছরের রিপোর্ট কার্ড দেখাতে পারে না তাদের ভোট পাওয়া উচিত?”

প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, “আপনারা কংগ্রেস, বাম, তৃণমূল সবাইকে সুযোগ দিয়েছেন। একবার বিজেপিকে সুযোগ দিন। দেখেন না এখন কংগ্রেস-বাম-তৃণমূল এক থালায় বসে খাচ্ছে। তাই বলছি বিজেপিকে ভোট দিন। বাংলায় বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠা করুন। আপনাদের উন্নয়নের পথ খুলে যাবে। মিহিলারা সুরক্ষিত হবে, বেকারের হাতে কাজ জুটবে, সিন্ডিকেটরাজ থাকবে না। ব্যারাকপুরে আবার কারখানার মেশিনের আওয়াজ সিনা যাবে, বন্ধ হবে বোমা-বন্দুকের আওয়াজ।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এবারের ভোট প্রচারে আমার অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে। আমি ক্লান্ত বোধ করছি না। রোড-শোগুলোকে আমার তীর্থযাত্রা মনে হয়েছে। সভায় আসার সুমায় বাংলার মানুষের প্রবল আবেগ আমার নজরে পড়েছে। বাংলার ছোট ছোট বাচ্চা, মহিলা ,পুরুষদের আবেগ দেখে আমি আপ্লুত হয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পূর্বের উন্নতিতে বাংলার নির্বাচন খুবই জরুরি। কারণ ভারতের ভাগ্যোদয়ের সঙ্গে পূর্বের সাফল্য জড়িত। তাই বিকশিত ভারতের সাফল্য আনতে অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ-এর উন্নতি দরকার। অঙ্গ-কলিঙ্গ পদ্মের দখলে এসেছে। এবার বাংলায় পদ্ম ফুটবে। তারপর  অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে পুরো বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সংকল্প পূরণ হবে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে, সংস্কৃতি, সাহিত্যে বাংলার ভূমিকা অপরিসীম। বাংলা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মভূমি। বন্দেমাতরম  মন্ত্র তাঁর লেখা, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল মন্ত্র, বন্দেমাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাকে বন্দেমাতরম মন্ত্রে পরিচালিত করতে হবে।”

এদিন প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ করে বলেন, “ওরা মোদিকে, সেনাকে, বাংলার মানুষকে ধমক ও গালি দিচ্ছে। এতো বড় ভোট চলছে প্রচারে ১৫ বছরের কাজের কোনও হিসেবে তৃণমূল দিচ্ছে না। তৃণমূলের কাছে বাংলার ভবিষ্যতের রোডম্যাপ নেই। ওদের কাছে বাংলার জন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই, কোনও লক্ষ্যও নেই।”

এরপর ব্যারাকপুরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগে ব্যারাকপুরে শ্রমিকরা কাজ করতে আসতো। এখন এখানকার সব কারখানার, পেপার মিল, জুট মিল বন্ধ যেয়ে গেছে। ব্যারাকপুরে মেশিনের শব্দ স্তব্ধ হয়ে বোমা-গুলির শব্দ বেড়েছে। অকল্যান্ড জুট মিল-এ কি হয়েছে ? আগের দিন কাজ করে বাড়ি ফিরে পরদিন সকালে কারখানায় কাজ করতে এসে শ্রমিক দেখেছেন কারখানার তালা পরে গেছে।এখানে ১২টি জুট মিল বন্ধ হয়েছে। পরিবর্তে বোমার কারখানা হয়েছে, তৃণমূলের সিন্ডিকেটের প্রভাব বেড়েছে, তৃণমূলের জঙ্গলরাজ বেড়েছে। কিছু করতে হলেই তৃণমূলের সিন্ডিকেটে টাকা দিতে হয়। তাই তৃণমূলকে পরাজিত করতে হবে। না হলে ওদের সিন্ডিকেটরাজ্ বন্ধ হবে না। আমি আপনাদের ভরসা দিচ্ছি, ব্যারাকপুরে আইনের শাসন ফেরাব। ব্যারাকপুরে মেক-ইন-ইন্ডিয়া হ্যাব হবে। ব্যারাকপুরে আগে মানুষ কাজ করতে আসত, এখন কারখানা বন্ধ। বন্ধ কারখানার জন্য রিভাইভাল প্ল্যান বানাবো। পিএম-সিএম একসাথে, উন্নয়ন হবে দিনেরাতে।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!