Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

‘পিএম কেয়ার্স’ প্রসঙ্গ নিয়ে সংসদে আলোচনা নয়, জানিয়ে দিল প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘পিএম কেয়ার্স’ প্রসঙ্গ নিয়ে সংসদে আলোচনা নয়, জানিয়ে দিল প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল বা পিএম কেয়ার্স নিয়ে সংসদে আর কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। লোকসভা সচিবালয়কে দেওয়া এক চিঠিতে এই কড়া বার্তা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় (PMO)। শুধু পিএম কেয়ার্স নয়, আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ তহবিলকেও সংসদীয় আলোচনার আওতার বাইরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদন ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় যে তিনটি তহবিলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লোকসভাকে চিঠি দিয়েছে সেগুলি হলো: ১. পিএম কেয়ার্স ফান্ড (PM CARES Fund): ২০২০ সালের করোনা অতিমারির সময় তৈরি। ২. প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF): দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য দীর্ঘদিনের পুরনো তহবিল। ৩. জাতীয় সামরিক তহবিল (National Defence Fund): দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক বাহিনীর কল্যাণে ব্যবহৃত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় লোকসভা সচিবালয়কে জানায় যে, এই তহবিলগুলো নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা আলোচনা করা যাবে না। এর সপক্ষে লোকসভার কার্যবিধির দুটি নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে:

  • অনুচ্ছেদ ৪১(২) (৮): যে বিষয়ের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না।
  • অনুচ্ছেদ ৪১(২) (১৭): ভারত সরকারের প্রতি সরাসরি দায়বদ্ধ নয়, এমন কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয়ে সংসদে আলোচনা নিষিদ্ধ।

সচিবালয়ের দাবি, এই তহবিলগুলোতে সরকারের সঞ্চিত তহবিল বা ‘কনসোলিডেটেড ফান্ড অফ ইন্ডিয়া’ থেকে কোনো অর্থ মঞ্জুর করা হয়নি। সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংস্থা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এখানে দান করেন। তাই এই অর্থ ও তার খরচ নিয়ে সরকারকে সংসদে জবাবদিহি করতে হবে না।

২০২০ সালের ২৭ মার্চ কোভিড মোকাবিলায় গঠিত হওয়ার পর থেকেই পিএম কেয়ার্স ফান্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। ফান্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এই তহবিলে জমা পড়েছিল প্রায় ৬,২৮৩.৭ কোটি টাকা। কিন্তু সিএজি (CAG) অডিট এবং তথ্যের অধিকার আইন (RTI)-এর আওতায় এটি না আসায় প্রথম থেকেই বিতর্ক জারি ছিল।

পিএমও-র এই সাম্প্রতিক চিঠির পর বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, বিপুল অংকের টাকার উৎস এবং খরচ গোপন রাখতেই এই ‘রক্ষাকবচ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারি পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় যে, এটি পুরোপুরি একটি ট্রাস্ট হিসেবে পরিচালিত হয় যা সংসদীয় জবাবদিহির ঊর্ধ্বে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!