- দে । শ
- নভেম্বর ৫, ২০২৫
বৈধ কাগজ ছাড়াই ৫ বছর ধরে নদীয়ায় বসবাস, গ্রেফতার বাংলাদেশের ব্লগার
বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এপার বাংলায় অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে এক বাংলাদেশি ব্লগারকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। পরিচয় গোপন করে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই রাজ্যে বসবাস করছিলেন। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একসপ্তাহ ধরে তদন্ত চালিয়ে রানাঘাট পুলিশ জেলার কল্যাণী থানার পুলিশ মুফতি আবদুল্লাহ হাফিজ আল মাসুদ নামে ওই বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করে। তিনি বাংলাদেশের ফিরোজপুর জেলার নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কল্যাণী পুলিশের একটা দল নদীয়া জেলার গোকুলপুর এলাকার একটা ভাড়া বাড়ি থেকে মাসুদকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুফতি আবদুল্লাহ হাফিজ আল মাসুদকে আটক করে। প্রাথমিকভাবে মাসুদ দাবি করেছিলেন, তাঁর কাছে বৈধ পাসপোর্ট এবং ভিসা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখে যে, দুটি নথির মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, ২০১৭ সালে বৈধ পাসপোর্ট এবং ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন মাসুদ। ওই পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ ২০২০ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে পাসপোর্ট নবীকরণ করা হলেও তিনি নতুন করে আর ভিসা পাননি। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে কল্যাণীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার আগে তিনি একাধিক স্থানে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
মাসুদকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে রানাঘাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার আশিষ মৌর্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এই বাংলাদেশি নাগরিক ২০১৭ সালে বৈধ পাসপোর্ট এবং ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর ভিসা এবং পাসপোর্টের মায়াদ ২০২০ সালে শেষ হয়ে গিয়েছিল। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও কোনও বৈধ নথি ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে থাকছিলেন এবং কোনও প্রোটোকল অনুসরণ করেননি। বিদেশি আইনসহ আইনের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ আদালতে তোলার পর বিচারক মাসুদকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, মাসুদ বাংলাদেশের একজন স্ব-ঘোষিত উদারপন্থী ব্লগার ছিলেন। যিনি নাস্তিকতা নিয়ে আলোচনা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে ইউটিউবে ভিডিও পোস্ট করতেন। মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলির তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং হুমকির মুখে ২০১৭ সালে নিরাপত্তার খোঁজে ভারতে পালিয়ে আসেন। তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আত্মগোপন করেন এবং সনাক্তকরণ এড়াতে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করেন। মাসুদের অনলাইন কার্যকলাপ যাচাই করার জন্য সিআইডিসহ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তদন্ত শুরু করেছে। তিনি যে বাড়িতে ভাড়া থাকছিলেন সেখানকার অন্য বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
❤ Support Us





