- দে । শ
- ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫
সমুদ্রে নামতে প্ররোচিত করা হয়েছি় জুবিনকে, পুলিশের চার্জশিটে গুরুতর অভিযোগ ?
সিঙ্গাপুরের স্নিগ্ধ সমুদ্রতটের নীরবতায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে অসমিয়া আইকন জুবিন গর্গের। ঘটনার বেশ কয়েক মাস কেটে গেলেও প্রিয় গায়কের মৃত্যুশোক আজও শোকে মুহ্যমান করে রেখেছে গোটা দেশকে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একাধিকবার দাবি করেছেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সম্প্রতি, অসম পুলিশ যে চার্জশিট দাখিল করেছে, তাতে উঠে এসেছে কীভাবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জুবিনকে সমুদ্রে নামতে প্ররোচিত করা হয়েছিল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং সময়মতো চিকিৎসা সাহায্যও মিলেনি।
উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবের সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন জুবিন গর্গ। উৎসব শুরুর আগে অসম অ্যাসোসিয়েশন সিঙ্গাপুরের উদ্যোগে একটি ইয়ট আউটিং আয়োজন করা হয়। সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অচেতন হয়ে যান। পরে তাঁকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডুবে যাওয়া উল্লেখ করা হলেও , অসম পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সময় জুবিন নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ছিলেন।
এই ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। উৎসবের আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, সহ-সঙ্গীতশিল্পী শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং অমৃতপ্রভা মহন্ত। এছাড়াও জুবিনের খুড়তুতো ভাই এবং অসম পুলিশ সার্ভিসের আধিকারিক সন্দীপন গর্গের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে পুলিশের জমা করা চার্জশিটে বলা হয়েছে, ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা নেশার জন্য দায়ী ছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অমান্য করে জুবিনকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া সাঁতার কাটতে উৎসাহিত করেছিলেন। জানা গেছে, জুবিনের মৃগীরোগের ইতিহাসও ছিল। ড্রামার শেখর জ্যোতি গোস্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জুবিনকে সমুদ্রে নামতে প্ররোচিত করেছিলেন এবং যথাসময়ে তাঁকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
আয়োজক শ্যামকানু মহন্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চিকিৎসকের নিষেধ অমান্য করে জুবিনকে মদ্যপান করিয়েছিলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার তথ্য গোপন করেছেন। চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা না নেওয়ায় জুবিন গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হারিয়েছিলেন, অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছতেও দেরি হয়েছিল। এর পাশাপাশি, জুবিনের সম্পত্তি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে তাঁর দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী – নন্দেশ্বর বোরা ও পরেশ বৈশ্যর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা দায়ের হয়েছে।
সেশন কোর্টে ২২ ডিসেম্বর থেকে মামলার শুনানি হবে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে ৩৯৪ জন সাক্ষীর তথ্য। এর মধ্যে ১০ জন সিঙ্গাপুরবাসী, ২ জন ভারতীয় হাইকমিশন কর্মকর্তা, এবং জুবিন ও অভিযুক্তদের পরিবার, বন্ধু ও চিকিৎসক রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, ‘একজন গ্রেফতারকৃত জুবিনকে হত্যা করেছেন, অন্যরা সাহায্য করেছেন।’ তবে, সিঙ্গাপুর পুলিশ জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক তদন্তে কোনো ‘ফাইল প্লে’ ধরা পড়েনি। মৃত্যুর কারণ যাই হোক, জুবিন গর্গ কেবল একজন গায়কই নন, তিনি অসমের সাংস্কৃতিক প্রতীক। তাঁর অকাল প্রয়াণে সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন।
❤ Support Us





