- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৪, ২০২৩
স্বপ্নদীপের মৃত্যুর পর হস্টেল ছেড়েছেন কারা ? কারাই বা শহরের বাইরে গিয়েছেন ঘটনার পর? পুলিশি তদন্তে এবার সেই দিকে নজর
যাদবপুরের ঘটনার রাতেই কোনও কোনও ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলে ছাত্রদের একাংশের অভিযোগ, এরা ওই মেন হোস্টেলের আবাসিক। তারা জানিয়েছে, ঘটনার রাতে ব্যাগ গুছিয়ে অনেকে শহরের বাইরে গিয়েছেন। তাঁরা কারা? কেনই বা হস্টেল ছেড়ে দিলেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যাঁরা বুধবার রাতের ঘটনার পর থেকে হস্টেল ছেড়েছেন, তাঁদের সম্বন্ধে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে পুলিশ। ছাত্রমৃত্যুর সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ আছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ন্যূন নয়। সম্প্রতি, নদিয়ার ছাত্রের মৃত্যুর পর সেই অভিযোগ অনেক বড় আকারে প্রকাশ পেয়েসে এবং প্রতিবাদ হচ্ছে সমাজের সর্বস্তরে । অভিযোগ র্যাগিংয়ের ফলেই স্বপ্নদীপ নামের ওই ছাত্রটির মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনার পর একে একে হস্টেলের নানা অব্যবস্থার ছবি এবার প্রকাশ্যে এসেছে ও আসছে। অভিযোগ, হস্টেলের বেশিরভাগ ঘরই প্রাক্তনীদের দখলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও তাঁরা ঘর আটকে রেখেছেন। হস্টেলে তাঁদেরই বিরাট দাপট চলে। সিসি ক্যামেরা না থাকায় অবাধে চলে বেআইনি কাজ। নতুন ছাত্রেরা হস্টেলে এলে অন্য ছাত্রের অতিথি হিসাবে তাঁদের থাকতে হয়।
এখন যাদবপুর মেন হস্টেলে থাকতে ভয় পাচ্ছেন অনেক ছাত্র। সেই কারণেই কেউ কেউ বিতর্ক এড়াতে হস্টেল ছেড়ে চলে গিয়েছেন কি না সেটা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। তবে তাঁরা প্রত্যেকেই তদন্তকারীদে নজরের মধ্যেই রয়েছেন। যাদবপুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্ট কমিশন (ইউজিসি)-এর প্রতিনিধি দল আসবে আগামী বুধবার।
ছাত্রমৃত্যুর পর হস্টেলে ওই ছাত্রের ঘর থেকে একটি হলুদ রঙের ডায়েরি পাওয়া গিয়েছে। তাতে বিভাগীয় সিনিয়রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডিন অফ স্টুডেন্টস’কে লেখা একটি চিঠিও ছিল। যাকে ঘিরে নতুন রহস্য দানা বেঁধেছে। চিঠিতে এক ছাত্রের নাম করে তিনি প্রথম বর্ষের পড়ুয়াকে ‘ভয় দেখানোর’ চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। চিঠিতে তারিখ হিসাবে ছিল ছাত্রমৃত্যুর পরের দিন অর্থাৎ, বৃহস্পতিবারের কথা। অথচ স্বপ্নদীপের পরে যাওয়ার ঘটনা ৯ অগাস্ট রাতে, বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয় কেপিসি হাসপাতালে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে ওই চিঠি লিখল কে?
ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত যে তিন জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, তাঁরাই কি এই চিঠি লিখিয়েছিলেন? পুলিশের সন্দেহের তালিকায় আরও কয়েক জন রয়েছেন। চিঠি লেখা বা লেখানোর নেপথ্যে তাঁদেরও হাত থাকতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল রবিবারই জানিয়েছিলেন, এই ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চলছে। শীঘ্রই সব রহস্যের সমাধান হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অন্য দিকে, ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়ে সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল শুরু হয়েছে। কালো পতাকা নিয়ে ওই মিছিলে অংশ নিয়েছেন ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মীদের একাংশ।
❤ Support Us






