- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১১, ২০২৬
কাঁচরাপাড়ার বেসরকারি স্কুলে রাতভর তল্লাশি, উদ্ধার বিপুল নগদ
উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার একটি ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি স্কুলে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বীজপুর কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস তাঁর বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডার বা ‘ডেটা ব্যাঙ্ক’ তৈরির উদ্যোগ নেন। সেই প্রক্রিয়ার সময় সংশ্লিষ্ট স্কুল সম্পর্কে কিছু তথ্য সামনে আসে। এরপর বিধায়কের প্রতিনিধিরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সন্দেহজনক পরিস্থিতির সন্ধান পান এবং রাতেই বিধায়ককে খবর দেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সুদীপ্ত দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছন। খবর দেওয়া হয় বীজপুর থানায়। পরে স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা স্কুলে এসে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। নগদ অর্থ উদ্ধারের পর টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করতে রাতেই টাকা গোনার যন্ত্র আনা হয়। প্রথমে দুটি এবং পরে আরও একটি মেশিন ব্যবহার করে টাকা গণনা করা হয়। ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত গণনায় প্রায় ১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা পাওয়া যায় বলে সূত্রের দাবি।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিধায়ক সুদীপ্ত দাস দাবি করেন, এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কোনও স্কুলের স্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের অংশ হতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, এই অর্থ স্কুলের নয়, বরং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ‘কালো টাকা’, যা তদন্তকারী সংস্থার নজর এড়াতে স্কুলে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতির পদে এক সময় কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল অধিকারী ছিলেন। এগুলো তাঁদের লুকিয়ে রাখা টাকা। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে কমল অধিকারী, সুবোধ অধিকারী বা পার্থ ভৌমিকের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, স্কুলের প্রিন্সিপাল বিকাশচন্দ্র পাল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ স্কুলে ভর্তির ফি বাবদ জমা পড়া টাকা। তাঁর দাবি, এপ্রিল মাস থেকে বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীর ভর্তি ফি সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সেই অর্থ ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তিনি বলেন, এটি অ্যাকাউন্টস বিভাগের দায়িত্বে থাকা অর্থ।
পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া অর্থের প্রকৃত উৎস, স্কুলে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কেন রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও আর্থিক অনিয়ম জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে স্কুলের ক্যাশিয়ার অভীক নাথ এবং সহকারী হিসাবরক্ষক সায়ন ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বীজপুর থানার পুলিশ। প্রাথমিক জেরায় তাঁদের বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে এই বিপুল নগদ উদ্ধারের ঘটনায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।
❤ Support Us






