- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
বিহারের গণ্ডি পেরিয়ে দিল্লিতে নজর প্রশান্ত কিশোরের, ২৯-এর লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে সংগঠন গড়ার প্রস্তুতি
বিহারের পর এ বার দিল্লিতে সংগঠন বিস্তারের প্রস্তুতি শুরু করল প্রশান্ত কিশোরের জন সুরজ পার্টি (জেএসপি)। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে দলের সাংগঠনিক ভিত শক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার দিল্লিতে দলের সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন প্রশান্ত কিশোর। ওই বৈঠকেই রাজধানীতে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব কারা সামলাবেন, তা ঘোষণা হতে পারে। সম্ভাব্য কমিটিতে রয়েছেন বক্সারের প্রাক্তন সাংসদ কে কে তিওয়ারির পুত্র এবং পেশায় আইনজীবী তথাগত হর্ষবর্ধন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশবন্ধু কলেজের অধ্যাপক শান্তনু কুমার এবং হিমাচল প্রদেশ পুলিশের প্রাক্তন শীর্ষ কর্তা জে পি সিং। বিহারে জন সুরজ পার্টির কয়েক জন নেতাকেও দিল্লির সংগঠনে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লিতে এখনও দলের কোনো শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি হয়নি। তবে সংগঠন না থাকলেও মানুষের মধ্যে দলের মতাদর্শ এবং প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক ভাবনা তুলে ধরার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শান্তনু কুমার। তাঁর দাবি, সে প্রচারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও মিলছে। রাজধানীতে দলীয় কার্যালয় খোলার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পার্টি অফিসের জন্য দু’টি জায়গা বাছাই করা হয়েছে। লিজ এবং ভাড়া সংক্রান্ত কিছু আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই সেখানে দলের কার্যালয় চালু করা হবে।
তবে আপাতত গোটা দিল্লিতে একসঙ্গে সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা করছে না জেএসপি। প্রাথমিক পর্যায়ে দলের লক্ষ্য দিল্লির ‘পূর্বাঞ্চলী’ জনগোষ্ঠী—অর্থাৎ বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজধানীতে গিয়ে বসবাসকারী মানুষ। উত্তর-পূর্ব, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির প্রায় ১৫ থেকে ২০টি বিধানসভা আসনে এই জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে দলের তরফে মনে করা হচ্ছে।
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই দিল্লিতে দীর্ঘমেয়াদি সংগঠন তৈরির প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে আসন্ন পুরভোট এবং ২০৩০ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জেএসপি লড়াই করবে বলে জানিয়েছেন শান্তনু কুমার। তাঁর বক্তব্য, দিল্লিতে দলের লক্ষ্য শুধু কোনো একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়া নয়। সব শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই সংগঠন গড়তে চায় জেএসপি। দলের হিসাব অনুযায়ী, দিল্লির ভোটারদের প্রায় ২৫ শতাংশ পূর্বাঞ্চলী। তবে তাঁদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্তরের মানুষের সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে দলের।
দিল্লির নাগরিক সমস্যাকেও রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু করতে চাইছে জন সুরজ পার্টি। বায়ুদূষণ এবং যমুনা নদীর সংস্কারের মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজাকেই দলের অন্যতম ‘ইউএসপি’ বা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, বিহারের বাইরে প্রথম বড়ো রাজনৈতিক বিস্তারের ক্ষেত্রে দিল্লিকে আগামী দিনের সংগঠন তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে প্রশান্ত কিশোরের দল।
❤ Support Us







