Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ২৮, ২০২৫

বাংলা-বিহার দু-রাজ্যের ভোটার তালিকায় প্রশান্ত ! এসআইআর-এর শুরুতেই প্রবল বিতর্ক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলা-বিহার দু-রাজ্যের ভোটার তালিকায় প্রশান্ত ! এসআইআর-এর শুরুতেই প্রবল বিতর্ক

রাজনৈতিক কৌশলবিদ থেকে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, বিহারের বর্ণময় চরিত্র প্রশান্ত কিশোর আরও একবার বিতর্কের কেন্দ্রে। জানা গেছে, দুই রাজ্যের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে তাঁর। পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর এবং বিহারের করগাহার বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তিনি। বাংলায় এসআইআর-এর শুরুতেই এ তথ্য সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে কিশোরের ঠিকানা ১২১ কালীঘাট রোড, তৃণমূল কংগ্রেসের সদর দফতর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা আসন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কিশোর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছিলেন। তখন পশ্চিমবঙ্গে তার ভোটকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বি. রানিশঙ্করী লেনের সেন্ট হেলেন স্কুল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাংলার রাজনীতিতে তাঁর উপস্থিতি তখন প্রকট। অন্যদিকে, বিহারে তাঁর ভোটার নিবন্ধন রোহতাস জেলার কোনার গ্রামের মধ্য বিদ্যালয়ে রয়েছে। এই গ্রাম করগাহার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এবং কিশোরের পৈতৃক বাড়ি। এ বিষয়ে প্রশান্ত নিজে কোনো মন্তব্য না করলেও, জন সুরাজ পার্টির এক সদস্য জানিয়েছেন, বাংলার ভোট শেষ হওয়ার পরই প্রশান্ত কিশোর বিহারে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করান এবং বাংলার ভোটার কার্ড বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। তবে সে আবেদনের বর্তমান অবস্থা এখনো অস্পষ্ট। বিহারের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা বিনোদ সিং গুঞ্জিয়ালও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর, মুখ্যমন্ত্রীর ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ১২১ কালীঘাট রোড আমাদের দলীয় কার্যালয়। প্রশান্ত কিশোর এখানে কাজ করতেন এবং প্রায়ই এখানে থাকতেন। তবে তিনি এখানে নিজের ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন কি না, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। এ প্রসঙ্গে সিপিআইএমের ভবানীপুর-২ এলাকার সম্পাদক বিশ্বজিৎ সরকার জানান, লোকসভা ভোটের সময়ই তারা নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছিল যে, প্রশান্ত কিশোর ভবানীপুরে বসবাস করেন না, তাই তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত। আইনগত দিক থেকে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি একাধিক কেন্দ্রে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারেন না। ধারা ১৮ অনুযায়ী একই কেন্দ্রে একাধিকবার নাম নেওয়াও বৈধ নয়। বাসস্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভোটারদের ফর্ম ৮ পূরণ করে নতুন কেন্দ্রে নাম স্থানান্তর করতে হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের অভিমত, একাধিক স্থানে ভোটার তালিকায় নাম থাকা অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় ঠিকানা পরিবর্তনের পর পুরোনো কেন্দ্রে নাম বাদ দিতে ভুলে যান। এ সমস্যা সমাধানের জন্য বিহার থেকে শুরু করে সারা দেশে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।

বিহারের এসআইআর-এ প্রায় ৬৮.৬৬ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় ছিল। নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, এত বড়ো সংশোধনের পরও কিছু দ্বৈত নিবন্ধন থেকে যেতে পারে, ফলে প্রশান্ত কিশোরের দু-জায়গায় নাম থাকা অস্বাভাবিক নয়। বাংলায় এসআইআর-এর কাজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে চলেছে, এতেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে। ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের এই দ্বিতীয় পর্যায়ে আন্দামান, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরাল, মধ্যপ্রদেশ, পণ্ডিচেরি, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কেন্দ্রে এ প্রক্রিয়া চলবে। প্রধান নির্বাচনী কমিশনার জ্যোতিন্দ্র পুরোহিত জানিয়েছেন, অক্টোবর ২৮ থেকে নভেম্বর ৩ পর্যন্ত প্রিন্টিং ও প্রশিক্ষণ, আর নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর ৪ পর্যন্ত গণনা হবে। এরকম আবহে প্রশান্ত কিশোরের দুই জায়গার ভোটার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে প্রশান্ত কিশোরের দুই রাজ্যের ভোটার হিসেবে নাম থাকা ইচ্ছাকৃত, তবে নির্বাচন কমিশন তাঁকে বিহারে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করতে পারে। এটি তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও প্রবল ধাক্কা হতে পারে। জন সুরাজ পার্টি বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে সক্রিয় হলেও কিশোর নিজে প্রার্থী নন, তবে এই বিতর্ক তাঁর দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!