- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
অভিষেকের হাত ধরেই ঘাসফুলে অভিষেক প্রতীক উরের
‘এই সময় দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাই আমি সিপিএম ছেড়ে, বাংলার অস্মিতা রক্ষার জন্য তৃণমূলে যোগ দিলাম…’ ঠিক এই ভাষায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে, আমতলার তৃণমূল কার্যালয় থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন প্রতীক উর রহমান।
এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক উর রহমান এবং সিপিআই(এম) এর তরুণ প্রজন্মের একাংশকে দরাজ সার্টিফিকেট দেন। অভিষেক বলেন, ‘এখনও প্রতীক উর রহমান ও তাঁরই মতো কিছু তরুণ সিপিআই(এম) কর্মী রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। আর একদল স্নো, পাউডার মেখে সোশাল মিডিয়ায় ভাষণ দিচ্ছেন।’ প্রতীক উর রহমানকে পাশে নিয়ে অভিষেক জানিয়ে দেন, ‘প্রতীক উরকে আমরা প্রার্থী করছি। প্রতীক উর আমায় বলেছেন সিপিআই(এম) আমায় টিকিট দিলেও নেবো না। আমি তৃণমূলে টিকিটের জন্য আসিনি। আমি কাজ করব, তাই এসেছি। এদের চাওয়া পাওয়া নেই। মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। আর সিপিআই(এম) এর স্নো,পাউডার মাখা নেতা বলছেন প্রতীক উরের সঙ্গে ডিল হয়েছে।’
এরপর অভিষেক বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মহাশ্বেতা দেবী, অমর্ত্য সেনরা সার্টিফিকেট দিয়েছেন, মহম্মদ সেলিমের সার্টিফিকেটের দরকার নেই। তৃণমূলের আদর্শ, বাড়িতে আগুন লাগলে, কেউ অসুস্থ হলে যে পৌঁছে যায় সে তৃণমূল, এটাই তৃণমূলের আদর্শ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে মহিলাদের ১৫০০ টাকা মাসে দিচ্ছেন। মুখে মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথা বলে থেমে নেই। প্রতীক উর সিপিএম ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর সিপিএমে এসেছে। আমার থেকে ৪/৫ বছরের ছোট। আর সিপিএম বলছে ডিল করে এসেছে। ঋতব্রত ডিল করে এসেছেন? সিপিএম-এর ৩৫% ভোট বিজেপিতে চলে যাওয়া কি ডিল নয়? আয়নায় আগে নিজের মুখ দেখুন। বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে যারা বাংলায় আগুন জ্বালাতে যাচ্ছে তাদের সঙ্গে যখন বৈঠক করেন তাতে ডিল হয় না। এতো বড় আদর্শবান দল তাহলে নওশাদ সিদ্দিকি, হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করতে হচ্ছে কেন? আয়নায় নিজের মুখ দেখুন। তাই আমি বলছি, যতদিন আমি আছি সব দলের কাজ করতে চাওয়া তরুণ প্রজন্মকে বলছি আসুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুব সমাজের প্রতিনিধিদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। সায়নী ঘোষকে সাংসদ করেন। দেবাংশু ভট্টাচার্যের মতো ছেলেকে প্রার্থী করা হয়েছে লোকসভা নির্বাচনে।’
এদিকে প্রতীক উর যখন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যলয়ে ঢুকেছেন, তার কিছুক্ষণ আগে জরুরি বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক প্রতীক উর রহমানকে দল থেকে বহিস্কারের কথা ঘোষণা করেন।
এদিন সাংবাদিকরা অভিষেককে প্রশ্ন করেন, প্রতীক উর আপনার বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন, আজ তাঁকে দলে নিলেন, এটা কি আপনার উদারতা? অভিষেক বলেন, ‘প্রতীক উর সিপিএম এর বেড়াজাল ছিড়ে যে আাসা সৎ সাহস দেখিয়েছে, তার জন্য তাঁকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ অভিষেক যখন প্রতীক উরকে পাশে নিয়ে প্রশংসা করছেন তখন নীরব হয়ে ছিলেন সদ্য দল ছাড়া প্রতীক উর। সাংবাদিকরা প্রতীক উরকে প্রশ্ন করেন, এত নীতি নৈতিকতার কথা বলে তৃণমূলে এলেন? উত্তরে প্রতীক উর বলেন, ‘হ্যাঁ যারা বলছে ডিল হয়েছে, আমি তাঁদের বলি হ্যাঁ ডিল হয়েছে, বাংলাকে বিজেপি মুক্ত করার ডিল। আর যাঁরা হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে মন বুঝতে যায় সেটা কোন ডিল?’
সাংবাদিকদের নানান প্রশ্নের উত্তরে প্রতীক উর আরও বলেন, ‘গত লোকসভা নির্বাচনের এক মাস আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমায় আমার দল দাঁড় করায়। আমি, দল সবাই জানতাম আমি হারবো। তাই আমি হারার পর কি বলবো আমি হেরেছি? সে কারণেই বলেছি, ভোট লুঠ হয়েছে।’ এই সময় অভিষেক প্রতীক উর এর মুখ থেকে কথা ছিনিয়ে নিয়ে বলেন, ‘ডায়মন্ড হারবারে ২০০০ বুথ আছে। ওখানে সিপিএমের ২০০০ কর্মী আছে?’ এদিন অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতীক উর রহমান বলেন, ‘জয় বাংলা’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ থেকে দলত্যাগী প্রতীক উর রহমানের স্লোগান এবার বদলে গেল।
❤ Support Us





