- দে । শ
- ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
রাজ্যপালের অনুমোদনে কাটল জট, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মানিক-রত্নার বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে বিচার প্রক্রিয়া
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অবশেষে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পথ খুলল। রাজ্যপালের অনুমোদন মেলায় তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য এবং পর্ষদের প্রাক্তন সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচীর বিরুদ্ধে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হতে চলেছে।
গত ৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেয়। একই সঙ্গে তৎকালীন সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচীর বিরুদ্ধেও ব্যাঙ্কশাল আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়। তবে সরকারি পদাধিকারী থাকাকালীন সংঘটিত অভিযোগ হওয়ায় রাজ্যপালের সাংবিধানিক অনুমোদন না থাকায় তখন চার্জগঠন সম্ভব হয়নি।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যপাল সেই অনুমোদন প্রদান করেছেন। ফলে মানিক ভট্টাচার্য ও রত্না চক্রবর্তী বাগচীর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৪ জানুয়ারি।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সরকারি পদাধিকারীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে রাজভবনের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। অভিযোগের সময় মানিক ভট্টাচার্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি এবং রত্না চক্রবর্তী বাগচী পর্ষদের সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। এই চার্জশিটে বীরভূমের নলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি বিভাস অধিকারীর নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পর্ষদের সভাপতির পদ হারান মানিক ভট্টাচার্য। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত। একইভাবে রত্না চক্রবর্তী বাগচী ও বিভাস অধিকারীকেও একাধিকবার তলব করেছে সিবিআই।
কয়েক মাস আগে নয়ডা থেকে বিভাস অধিকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন’ নামে একটি ভুয়ো অফিস খুলে প্রতারণা চালাচ্ছিলেন। ওই মামলায় বিভাসের ছেলে অর্ঘ্য অধিকারী-সহ মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়।
মানিক ভট্টাচার্যের গ্রেফতারির পর ইডি আধিকারিকরা উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটের একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান। ইডির দাবি ছিল, ওই ফ্ল্যাটের সঙ্গে বিভাস অধিকারীর যোগ রয়েছে। তল্লাশির পর ফ্ল্যাটটি সিল করে দেওয়া হয়। এর আগে বীরভূমে বিভাস অধিকারীর বাড়ি ও আশ্রমেও তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল সিবিআই।
সব মিলিয়ে রাজ্যপালের অনুমোদনের পর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মানিক ভট্টাচার্য ও রত্না চক্রবর্তী বাগচীর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এই বহুচর্চিত মামলায় নতুন মোড় এল।
❤ Support Us





