- দে । শ
- অক্টোবর ১২, ২০২৬
দূষণের বিরুদ্ধে, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে পুরুলিয়া, রঘুনাথপুরে বিক্ষোভ, লড়ছে চণ্ডী পাহাড়ও
পাহাড় কাটা বন্ধ, দূষণকারী শিল্পের নিয়ন্ত্রণ ও বন্যপ্রাণীদের বাসভূমি রক্ষার দাবিতে সরব পুরুলিয়া। সোমবার রঘুনাথপুর মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন ১৭টি গণসংগঠনের সদস্যেরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পাহাড় না কাটার আশ্বাস সত্ত্বেও বেড়োর চণ্ডী পাহাড়ে চলছে পাথর উত্তোলন। অন্যদিকে, স্পঞ্জ আয়রন ও সিমেন্ট কারখানার দূষণে বিপন্ন হচ্ছে জনজীবন।
বাঁচাতে হবে পাহাড়, বাঁচাতে হবে গ্রামের জল, বাতাস ও মাটি। শিল্পের বিরোধিতা নয়, কিন্তু শিল্পের জন্য মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও কেন বিপন্ন হবে, প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় এক দিকে পাহাড় কেটে পাথর তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন কারখানার দূষণে বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। বন্যপ্রাণীদের প্রাকৃতিক বাসভূমি রক্ষা থেকে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা — একাধিক দাবিকে সামনে রেখে সোমবার পথে নামলেন এলাকার বাসিন্দারা।
রঘুনাথপুর মহকুমা দূষণ বিরোধী ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা মঞ্চের আহ্বানে মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। উদ্যোক্তাদের দাবি, রঘুনাথপুর মহকুমার ১৭টি গণসংগঠন এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। তিন হাজারেরও বেশি মানুষ কর্মসূচিতে সামিল হয়েছেন বলেও দাবি তাঁদের। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, উন্নয়নের নামে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করা চলতে পারে না। নতুন করে কোনো দূষণকারী ‘রেড ক্যাটাগরি’র কারখানা গড়ে তোলা যাবে না। পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে কারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল সংরক্ষণে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। তাঁদের দাবি, শিল্প গড়ার আগে স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, শিল্পের লাভ যদি কয়েক জনের হাতে পৌঁছয় আর তার দূষণের বোঝা বইতে হয় আশপাশের গ্রামগুলিকে, তা হলে সেই উন্নয়নের মডেল নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
রঘুনাথপুরের পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র বেড়োর চণ্ডী পাহাড়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রানাইট হাব তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে পাথর ক্রাশার ও খননকাজকে ঘিরে সমস্যা তৈরি হয়েছে। যন্ত্রের আঘাতে পাহাড়ের একের পর এক টিলা কেটে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। শুধু পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠনই নয়, তার সঙ্গে যুক্ত গাছপালা, জীববৈচিত্র্য আর আশপাশের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। পাথর উত্তোলনের পাশাপাশি পরিবহণের সমস্যাও কম নয় বলে দাবি তাঁদের। ভারী গাড়িতে পাথর নিয়ে যাওয়ার ফলে গ্রামের রাস্তাঘাটের ক্ষতি হচ্ছে। ধুলো ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের বসতিতে। ফলে পাহাড়ের ক্ষতি যেমন হচ্ছে, তেমনই দুর্ভোগ বাড়ছে স্থানীয় মানুষের। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় বাঁচানোর দাবিতে আন্দোলন চললেও কাজ বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
ক্রাশার চালানোর অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, বেড়ো গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তি শংসাপত্র না নিয়েই সেখানে ক্রাশার গড়ে তোলা হয়েছে। বেড়ো গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান টিকা বাউরি জানিয়েছেন, ওই পাথর ক্রাশার তৈরির জন্য পঞ্চায়েতের কাছে কেউ অনুমতি নেননি বলে তাঁর দাবি। পাথর ক্রাশার তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় পঞ্চায়েতের অনাপত্তি শংসাপত্রের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তা হলে কীসের ভিত্তিতে সেখানে ক্রাশার চলছে, সে প্রশ্নের উত্তর চাইছেন আন্দোলনকারীরা।
২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে রঘুনাথপুর ১ ব্লকের বেড়ো ও খাজুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জন্য গ্রানাইট হাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। সে পরিকল্পনাকে ঘিরেই পাহাড় কাটার বিরোধিতায় আন্দোলন শুরু করেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের প্রতিবাদ সত্ত্বেও খনন বন্ধ হয়নি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে পাহাড় রক্ষার বিষয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
গ্রানাইট হাব তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও সেই প্রকল্পের পরিবর্তে পাথর ক্রাশার গড়ে ওঠায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে বলে দাবি তাঁদের। তাঁদের হুঁশিয়ারি, পাহাড়ের নাম বা প্রকল্পের পরিচয় বদলে প্রকৃতি ধ্বংসের অধিকার কাউকে দেওয়া যায় না। চণ্ডী পাহাড়ের প্রতিটি টিলা, গাছ এবং জীববৈচিত্র্য এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ। উন্নয়নের নামে পাহাড়ের স্বাভাবিক চরিত্র নষ্ট করা হলে তার প্রভাব পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপরেও। এ দাবিতেই একের পর রক মিছিল করছেন এলাকার বাসিন্দারা। গত ২০ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়ায় সামাজিক কর্মসূচি ও প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পাহাড় ও গাছ কাটার বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছিলেন। পাহাড় কাটা, গাছ কাটা ও নিলাম বন্ধ রাখার আশ্বাসের পরেও পুরনো প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট সরকারি নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোও পাহাড় কাটা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
কিন্তু সেইআশ্বাসের পরেও বেড়োর চণ্ডী পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় খননকাজ চলছে বলে অভিযোগ তাঁদের। বিশেষত কাজললতা এলাকার খনন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ঘোষণা করা হলেও পুরনো প্রকল্পগুলির অনুমোদন, ছাড়পত্র এবং খননের সীমানা সম্পর্কে প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান জানা যাচ্ছে না। ফলে পাহাড় রক্ষার আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদন ও পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের নথি প্রকাশ্যে আনতে হবে। পাহাড়ের কোন অংশে কতটা খনন করা যাবে, তার নির্দিষ্ট সীমানা কী, সে তথ্যও স্পষ্ট করতে হবে। অনুমতি সংক্রান্ত কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
চণ্ডী পাহাড়ের প্রশ্নের পাশাপাশি রঘুনাথপুর মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় শিল্পদূষণ নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির অভিযোগ, স্পঞ্জ আয়রন, সিমেন্ট, রামিং মাস এবং পাথর ক্রাশার শিল্পের অনিয়ন্ত্রিত দূষণে আশপাশের গ্রামগুলির পরিবেশ ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। কারখানার ধুলো ও বর্জ্য এবং শিল্পসামগ্রী পরিবহণের সময় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়া ধুলিকণার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দূষণের প্রভাব পড়ছে শিশু, প্রবীণ ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের উপর। শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির মতো সমস্যার আশঙ্কা বাড়ছে। কোথাও পুকুরের জল কালো হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, কোথাও আবার বসতিতে ধুলোর প্রকোপে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ পরিস্থিতিতে কারখানাগুলির দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, পরিবেশবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছে মঞ্চ।
শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি একটি কারখানায় ১৬ জন শ্রমিকের ‘সিলিকোসিস’-এ আক্রান্ত হওয়া এবং ১৯ জন শ্রমিকের মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছে। এ তথ্যের স্বাধীন যাচাই করা যায় নি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। আক্রান্ত ও মৃত শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসা এবং মৃতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ‘সিলিকোসিস’ একটি গুরুতর ফুসফুসের রোগ, যা মূলত সিলিকা-যুক্ত সূক্ষ্ম ধুলো দীর্ঘদিন শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে হতে পারে। পাথর ভাঙা, খনন এবং ধুলোর সংস্পর্শে আসতে হয় এমন কাজে শ্রমিকদের ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু ঘটনার তদন্ত নয়, কর্মক্ষেত্রে ধুলো নিয়ন্ত্রণ, উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আক্রান্ত শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে মঞ্চ।
রঘুনাথপুর মহকুমা দূষণ বিরোধী ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা মঞ্চের তরফে দশ দফা দাবি সামনে আনা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে নতুন কোনো ‘রেড ক্যাটাগরি’র দূষণকারী কারখানা তৈরি না করা এবং তার পরিবর্তে শ্রমনিবিড় ও পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে তোলা। ঝাড়ুখামার, হুড়রা, জোরাডি ও ধটাড়া গ্রামের মানুষের মতামত উপেক্ষা করে কারখানা চালানোর বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গত ৪ আগস্ট ‘নক্সিত মেটালিক্সে’র জনশুনানিকে বেআইনি বলে দাবি করে তা বাতিল করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, সিলিকোসিসে আক্রান্ত ও মৃত শ্রমিকদের তথ্য প্রকাশ, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
বেড়ো চণ্ডী পাহাড়-সহ জেলার কোনো পাহাড় না কাটা, জলাধারের উপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন অপরিকল্পিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করা এবং পারবেলিয়া-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী খোলামুখ খনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও রয়েছে। সিমেন্ট কারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ডিভিসি বিদ্যুৎকেন্দ্র-সহ বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য ও সামগ্রী পরিবহণের সময় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়া রোধ এবং পাহাড়ের স্বাভাবিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে। এই বৃহত্তর আন্দোলনে পারবেলিয়া জমি রক্ষা কমিটি, বেড়ো চণ্ডী পাহাড় বাঁচাও কমিটি, পাহাড়িগোড়া পাহাড় বাঁচাও ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি, শ্রী সিমেন্ট দূষণবিরোধী পঞ্চগ্রাম কমিটি, সেতু নির্মাণ ও মৎস্যজীবী জীবন-জীবিকা রক্ষা কমিটি, ঝাড়ুখামারের স্পঞ্জ আয়রন কারখানা বিরোধী কমিটি, হুড়রার স্পঞ্জ আয়রন ও দূষণবিরোধী কমিটি, তিলাবনি পাহাড় বাঁচাও কমিটি, প্রকৃতি বাঁচাও ও আদিবাসী বাঁচাও মঞ্চ, ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল এবং ব্রেক থ্রু সায়েন্স সোসাইটির মতো সংগঠন যোগ দিয়েছে। উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে ১৭টি সংগঠন অংশ নিয়েছে। বৃহত্তর আন্দোলনের ক্ষেত্রে সংগঠনের সংখ্যা প্রায় ১৮ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মঞ্চের যৌথ আহ্বায়ক স্বদেশপ্রিয় মাহাতো ও রাজেন টুডুর বক্তব্য, দলমত নির্বিশেষে মানুষের জীবন, জীবিকা এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করার লড়াইয়ে সকলকে সামিল হতে হবে। স্বদেশপ্রিয় মাহাতোর জানান, শিল্পকে স্বাগত জানানো হলেও মানুষের বসবাসের পরিবেশ ধ্বংস করে শিল্পায়ন হতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, দূষণের কারণে গ্রামের পুকুরের জল কালো হয়ে যাচ্ছে, নির্মল বসতিগুলি দূষণের শিকার হচ্ছে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বিপন্ন হচ্ছে। এত দিন বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন ভাবে আন্দোলন চলছিল। এ বার সব সংগঠন একসঙ্গে প্রতিবাদে নেমেছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, কর্মসংস্থান ও শিল্পের প্রয়োজন তাঁরা অস্বীকার করছেন না। কিন্তু সে উন্নয়নের মূল্য যদি দিতে হয় পাহাড়, জল, বনভূমি আর মানুষের স্বাস্থ্যের বিনিময়ে, তা হলে তার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নিয়ে ভাবতে হবে।
বিশেষত, পাহাড় ও জলাধারের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এবং এলাকার জীববৈচিত্র্য ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তাই কোনো প্রকল্পের অনুমোদনের আগে পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখা এবং স্থানীয় মানুষের বক্তব্য শোনার উপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা। চণ্ডী পাহাড়ের খনন বন্ধ করা, ক্রাশারগুলির অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনা, শিল্পদূষণের অভিযোগের তদন্ত এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা — এই চারটি বিষয়কে আপাতত অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, প্রশাসনকে শুধু আশ্বাস দিলে চলবে না, কাজের মাধ্যমে তার প্রমাণ দিতে হবে।
❤ Support Us






