- বৈষয়িক
- ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
সচল তবু ব্রাত্য, কোন মুদ্রা ঘিরে অনিশ্চয়তা ভারতীয় বাজারে ?
খাতায়-কলমে এখনও বৈধ মুদ্রা ৫০ পয়সার। কিন্তু বাস্তবে হাট-বাজার থেকে ব্যাঙ্ক—সব ক্ষেত্রেই তা প্রায় অচল। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অনেক ব্যাঙ্ক আধিকারিকও এই মুদ্রা নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে “সচল হয়েও অচল” অবস্থায় পড়েছে ৫০ পয়সা।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বারবার বিজ্ঞপ্তি ও সচেতনতামূলক প্রচারের মাধ্যমে জানিয়েছে যে ৫০ পয়সা এখনও বৈধ এবং তা লেনদেনে গ্রহণ করতেই হবে, ফেরানো যাবে না। তবুও বাস্তবে বাজারে এই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না। এমনকি দান বা ভিক্ষার ক্ষেত্রেও ৫০ পয়সা প্রায় অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। তাই প্রশ্ন উঠছে—সরকার কি তবে এই মুদ্রা বাতিলের পথে হাঁটবে?রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক আধিকারিকের মতে, কোনও মুদ্রা বাতিল করা সহজ সিদ্ধান্ত নয়; এর গভীর অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। সাধারণত দু’টি কারণে একটি মুদ্রা বাতিল করা হয়—
১) মুদ্রার ফেস ভ্যালু কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়লে।
২) বাজারে তার গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে।
বর্তমানে দ্বিতীয় কারণটি ৫০ পয়সার ক্ষেত্রে বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তবে প্রথম কারণটি—অর্থাৎ মূল্যমানের কার্যকারিতা—খতিয়ে দেখার দায়িত্ব রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রাস্ফীতি ও মনিটারি নীতিসংক্রান্ত কমিটির উপর, যেখানে তিন সদস্য এই বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। মুদ্রা বাতিলের সিদ্ধান্তে এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
ভারত সরকার প্রতিবছর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের চাহিদাপত্র অনুযায়ী মুদ্রা ছাপার পরিমাণ নির্ধারণ করে। কিন্তু ৫০ পয়সার ক্ষেত্রে শেষ কবে চাহিদাভিত্তিক তথ্য কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে মনে করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরাও।
আরও একটি বাস্তব সমস্যা হল—কোনও মুদ্রা বাতিলের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কে জমা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য কয়েন ভেন্ডিং মেশিন প্রস্তুত করতে হয়। কিন্তু ৫০ পয়সার জন্য এমন কোনও ভেন্ডিং মেশিন এখনও চালু হয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুম্বই, কলকাতা-র তারাতলা টাঁকশাল, হায়দরাবাদ এবং নয়ডা-র টাঁকশালে গত ১৫ বছরে ৫০ পয়সার মুদ্রা তৈরি হয়নি। এতে অনেকের মতে, সরকারও পরোক্ষে এই মুদ্রার ব্যবহার কমাতে আগ্রহী ছিল।
এর আগে ২০১১ সালের জুন মাস থেকে ২৫ পয়সার মুদ্রা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয় এবং নিয়ম মেনে তা ব্যাঙ্কে জমা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নরেন্দ্র মোদির-র নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় এক হাজার ও দুই হাজার টাকার নোট বাতিলের ক্ষেত্রেও জমা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যদিও সেখানে আইনি ও আয়কর সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। তুলনামূলকভাবে ৫০ পয়সা বা সিকির ক্ষেত্রে এমন জটিলতা নেই।
ব্যাঙ্ক কর্মীদের মতে, কর্মীসংখ্যা কম থাকায় বিপুল পরিমাণ কয়েন গোনা ও জমা নেওয়া কঠিন হতে পারে। তবে ব্যাঙ্কিং অফিসারদের সংগঠনের নেতা সঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, বিপুল পরিমাণ ৫০ পয়সা জমা দিতে গ্রাহকদের ভিড় এখনও দেখা যায়নি। তাঁর মতে, ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মুদ্রাটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অবসৃত হয়ে যেতে পারে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক আধিকারিকের বক্তব্য, “৫০ পয়সা বর্তমানে সবচেয়ে কম মূল্যমানের মুদ্রা। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থনীতিতে এর প্রভাব খুবই সীমিত। তবুও আমরা সচেতনতা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে ৫০ পয়সার লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়।”
সব মিলিয়ে, আইনত সচল হলেও বাস্তবে ব্রাত্য ৫০ পয়সার ভবিষ্যৎ এখন সময় ও নীতিনির্ধারণের উপরেই নির্ভর করছে।
❤ Support Us








