Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৫, ২০২৩

রাজধানীতে পাঁচক লালুর হাতের জাদুতে মুগ্ধ রাহুল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজধানীতে পাঁচক লালুর হাতের জাদুতে মুগ্ধ রাহুল

আদালতের রায়ে আপাতত জেলযাত্রার হাত থেকে রেহাই মিলেছে। আর তারই উদযাপনে এবার লালুর এলাহি খানপিনার আয়োজনে হাজির রাহুল গান্ধি। সংবাদ সংস্থার খবর, শুক্রবার দুপুরে সুখবর পাওয়ার পরই নৈশভোজের জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানান বিহারের আরজেডি নেতা। আর সেখানে পৌঁছে খাতিরদারি কাকে বলে তা দেখিয়ে দিলেন ৭৫-এর লালু। পঞ্চাশ বছরের ‘আইবুড়ো’-কে নিজেই রীতিমতো রেঁধে বেড়ে খাওয়ালেন রেওয়াজি খাসির মাংস। সামাজিক মাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে হইচই। সোনিয়াপুত্রকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অতিথিপরায়ণতার প্রশংসা করেছেন অনেকে।

শুক্রবার মোদি পদবি অবমাননা মামলায় সুরাট আদালতের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তাই জেলযাত্রার আশঙ্কা আর এখন নেই। সেই সঙ্গে নিজের সাংসদ পদ ফিরে পেতে পারেন রাহুল-এমন সম্ভাবনা রয়েছে। এমন সুসংবাদের উদ্‌যাপন যে খুব ছোটোখাটো হতে পারে না তা দেখিয়ে দিলেন লালু প্রসাদ যাদব। নিজের মেয়ে মিশা ভারতীর বাসভবনে তাঁকে নৈশভোজের জন্য নেমন্তন্ন করেন রাহুল। সেখানে তিনি ছাড়াও ছিলেন রাবড়িদেবী এবং তেজস্বী যাদব। বাংলোয় ঢোকামাত্রই রাজীবপুত্রকে এত বড় বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পুষ্পস্তবক দিয়ে অভিনন্দন জানান ও তাঁকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা জানান।

আরজেডি নেতার আমন্ত্রণে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন ছিল যথেষ্ট জাঁকজমকপূর্ণ। রাহুলের জন্য চম্পারণ থেকে বিখ্যাত খাসির মাংস ও মশলা আনিয়ে ছিলেন লালু। অসুস্থ শরীর নিয়ে নিজের হাতে সেই পদ রান্না করেন রন্ধনপটু লালু। রান্নার সময়ে তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি। কীভাবে চম্পারণি কায়দায় রেওয়াজি খাসির পদ রান্না করা হয় তা চেখে দেখেন রাহুল। খাওয়ার টেবিলেও যাদব পরিবারের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার পর একান্ত আলাপচারিতায় রাজনীতি নিয়ে পোড় খাওয়া লালুর সঙ্গে নিভৃতে আলোচনা সেরে নেন সোনিয়াপুত্র। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই টুইট করা হয়েছে লালু-রাহুলের সাক্ষাতের সেই ছবি। কংগ্রেস নেতার মুক্তিতে খুশি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ের পরই রাহুল গান্ধীকে ট্যাগ করে টুইট করেন তিনি বলেছেন, এটি বিচারব্যবস্থার জয়। এতে ইন্ডিয়া জোট আগামীদিনে আরও শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়ার রসদ পাবে।

রাজনীতি বড়ো বিচিত্র ও একই সঙ্গে সম্ভাবনাময়। জরুরি অবস্থার প্রাক্কালে  ইন্দিরা গান্ধির স্বৈরশাসনের  বিরুদ্ধে জেপির নেতৃত্বে  একযোগে  প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন লালু ও নীতিশ।  গেছেন জেলেও। পরাজিত হয়েছেন নেহেরু কন্যা।তারপর  সাড়ে চারদশক অতিক্রান্ত।  দেশে জরুরি অবস্থা এখন আর নেই। তবে তাঁর চেয়েও ভয়ানক  পরিস্থিতি বিরাজ করছে আজ।  তাই একসময়ের চূড়ান্ত বিরোধীরা আজ একমঞ্চে। লক্ষ্য তাঁদের সুনির্দিষ্ট।  বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা। আর তা পূর্ণ করার লক্ষ্যে দৃঢ় তাঁদের সংকল্প । কাঙ্খিত সাফল্য আদৌ মিলবে কিনা  তা নিয়ে অবশ্য এখনো রয়েছে সংশয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!