Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ৫, ২০২৫

ভোটার তালিকার ভ্রান্তি নিয়ে অভিযোগ, প্রমাণ পেশ রাহুলের। কী বলছে কমিশন ?

একটি প্রশ্ন স্বভাবতই উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে, যদি সত্যিই বিরোধী দলনেতার দাবি ভিত্তিহীন হয়, তবে তা খন্ডন করে কেন আইনি পদক্ষেপ করছে না দেশের নির্বাচন কমিশন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোটার তালিকার ভ্রান্তি নিয়ে অভিযোগ, প্রমাণ পেশ রাহুলের। কী বলছে কমিশন ?

নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া যখন চলছে দেশের ১২ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে, তখন ভুয়ো ভোটার তালিকা নিয়ে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা । এই নিয়ে তৃতীয়বার, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তুলে ধরলেন ভুয়ো ভাটারদের পরিসংখ্যান । নয়াদিল্লির সদরদফতর থেকে কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এবং মোদি সরকারের যপগলবন্দীতেই চলছে ভোট চুরি । এদিন হরিয়ানার ভোটার তালিকার বিভিন্ন তথ্য পেশ করে তিনি দাবি করেছেন, ২৫ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের সহায়তায় সেখানে ২০২৪ এর বিধানসভা নির্বাচন জিতেছে পদ্ম শিবির । রাহুল গান্ধির দাবি, তার টিম হরিয়ানায় প্রায় ৫ লক্ষ ২১ হাজার ভোটারদের চিহ্নিত করেছে, যাদের নাম একাধিকবার ভোটার তালিকায় রয়েছে । প্রতি আটজন ভোটারের মধ্যে একজন ভুয়ো ভোটার । পরিসংখ্যানের হিসেবে যা প্রায় ১২ শতাংশ ।

রাতপোহালেই বিহারে শুরু হচ্ছে প্রথমদফার বিধানসভা নির্বাচন । তার ঠিক একদিন আগেই তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে ভুয়ো ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা । তাঁর দাবি, কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই আজ প্রশ্নচিহ্নের মুখে, সঙ্কটে বিশ্বের গণতান্ত্রিক কাঠামো । তাঁর আরও দাবি, নাম ভাড়িয়ে ব্রাজিল থেকে এসে, হরিয়ানার একটি বিধানসভা আসনের ১০টি আলাদা বুধে ২২বার ভোট দিয়েছেন এক মহিলা । রাহুলের অভিযোগ এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত পরিকল্পিত অভিযোগ । যার মাধ্যমে হরিয়ানার ভোটের ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে।

এর আগেও দুবার সাংবাদিকদের মুখোমুখো হয়ে ভোটার ডিলিশন এবং ভোটার অ্যাডিশন স্কামের অভিযোগ তুলেছিলেন রাহুল গান্ধি । এবার ‘এইচ ফাইলস’ শিরোনামে ভোটার তালিকার কারচুপি নিয়ে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা । গত দুবারের মতো এবারেও কেগ্রেস নেতার দাবি এবং তথ্য পেশ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন । তাদের তরফে বলা হয়েছে, হরিয়ানার নির্বাচন নিয়ে যদি কংগ্রেসের আপত্তি থাকতো, তবে কেন সেই সময়েই কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়নি হাত শিবিরের তরফে । কিন্তু একটি প্রশ্ন স্বভাবতই উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে, যদি সত্যিই বিরোধী দলনেতার দাবি ভিত্তিহীন হয়, তবে তা খন্ডন করে কেন আইনি পদক্ষেপ করছে না দেশের নির্বাচন কমিশন । ইতিমধ্যেই এসআইআর পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশের শীর্ষ আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তামিলনাড়ুর স্টালিন সরকার, সুত্রের খবর এই প্রক্রিয়ায় তাদের সঙ্গে রয়েছে দেশের ৪৪ বিরোধী দল । অন্যদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিদের নাম যাতে বাদ না যায়, সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই পথে রাজপথে নেমেছে তৃণমূল । মঙ্গলবারই দলের শীর্ষ নেতা এবং সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় । দলের তরফে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ৬২০০টি সহায়তা ক্যাম্প সহয়তা ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়েছে । আগামী একমাস জুড়ে জেলায় জেলায় চলবে এই বিশেষ শিবির । সেখানে উপস্থিত থাকবেন দলের মন্ত্রী এবং সাংসদরাও । পাশাপাশি এসআইআর আর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে, সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করার অভিযোগ তুলে আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের আইনি সেলকেও ।

কংগ্রেস, তৃণমূল সহ দেশের বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্র‌শ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন, তাদের তরফে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনেরই কী বিরোধিতা করছে দলগুলি । যদিও ইন্ডিয়া জোটের দলগুলির তরফে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকার ভ্রান্তি দূর করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের । তারা শুধু দেশের সংবিধান রক্ষার কাজ করছেন ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!