Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১০, ২০২৫

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পদ্মশিবিরে ভাঙন, ১৭ জনকে সঙ্গে নিয়ে দল ছাড়লেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পদ্মশিবিরে ভাঙন, ১৭ জনকে সঙ্গে নিয়ে দল ছাড়লেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

ভোটের মুখে প্রবল ধাক্কা গেরুয়া শিবিরে। অসম বিজেপির প্রবীণ নেতা, চারবারের সাংসদ এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী রাজেন গোহাইন বৃহস্পতিবার দল ছাড়লেন। শুধু তিনিই নন, তাঁর সঙ্গে বিজেপির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন আরো ১৭ জন নেতা। দল ছাড়ার নেপথ্যে উঠে এসেছে ‘আদি’ এবং ‘নব্য’ বিজেপির পুরনো দ্বন্দ্ব।

৩ দশকের বেশি সময় ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত গোহাইন ছিলেন অসমে দলের অন্যতম ভরসাযোগ্য মুখ। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত নাগাঁও লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা জিতে এসেছেন। ২০১৬ সালে মোদী মন্ত্রিসভায় রেল প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। অথচ ২০১৯-এ তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি। ২০২৪-এও একই ছবি। ক্রমেই বাড়তে থাকে দলের সঙ্গে দূরত্ব। শেষমেশ দলের সমস্ত পদ ও সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিলেন প্রবীণ এই নেতা। বৃহস্পতিবার বিকেলে গুয়াহাটিতে বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে পৌঁছায় গোহাইন ও তাঁর অনুগামী ১৭ জন নেতার পদত্যাগপত্র। পদত্যাগের পরে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজেন গোহাইন বলেন, ‘আমরা এই দলে এসেছিলাম বাজপেয়ী, আডবাণী, যোশী-দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে। আজ যারা ক্ষমতায়, তাঁদের জন্য নয়। যাঁরা সারা জীবন দলকে দিয়েছে, তাঁদের অবহেলা করা হচ্ছে। আর তাই এই বিজেপি এখন অসমের জনগণের সবচেয়ে বড়ো শত্রু হয়ে উঠেছে।’

বহু দিন ধরেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে গোহাইনের বিরোধ ছিল প্রকাশ্য। শোনা যায়, হিমন্ত শিবিরে থাকা জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া, পীযূষ হাজারিকা, অজন্তা নেওগ-দের অগ্রাধিকার দেওয়াতেই প্রবীণ নেতাদের অবজ্ঞা করা হচ্ছে। গোহাইনের অভিযোগ, হিমন্তের নেতৃত্বে রাজ্য বিজেপি এখন দলীয় আদর্শ থেকে সরে এসে ‘সংখ্যালঘু তোষণ’ এবং ‘বহিরাগতদের স্থায়ী বাসিন্দা’ করার রাজনীতি করছে। গোহাইন বলেছেন, ‘২০১৬ সালে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ২০২৪ সালের ১৬ মে-র পর অসমে একজনও ভিনদেশি নাগরিক থাকবে না। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নতুন নতুন কৌশলে বাংলাদেশিদের আসতে দেওয়া হচ্ছে।

আদিবাসীদের জমি, সম্পত্তি অন্যদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।’ আহোম সম্প্রদায়ের মানুষ গোহাইন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে বিধানসভায় ৩০-৪০টি আসনে আহোম ভোট নির্ধারক ভূমিকা নিত। এখন এমন অবস্থা, কোনো কেন্দ্রেই আহোমরা প্রার্থী হওয়ার জায়গা পাচ্ছে না। সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়েছে।’ গোহাইনের এ সিদ্ধান্তে যদিও অসম বিজেপর খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের মুখপাত্র রাজীব কুমার শর্মা বলেন, ‘তিনি দলের হয়ে সাংসদ ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু এখন নাগাঁওয়ে ৮ জন বিজেপি বিধায়ক রয়েছেন। তাঁর পদত্যাগে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে না।’ তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময়ের অসম বিজেপির ‘আদি মুখ’ হিসেবে পরিচিত এই হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগ নির্বাচনের আগে যে গেরুয়া শিবিরে অস্বস্তি তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে, যখন ওই অঞ্চলে কংগ্রেস জয়ের রেকর্ড গড়েছে পরপর দুই লোকসভা নির্বাচনে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!