Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • আগস্ট ৬, ২০২৫

উত্তাল সংসদে গৃহীত প্রস্তাব, মণিপুরে রাষ্ট্রপতির শাসন আরও ৬ মাস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উত্তাল সংসদে গৃহীত প্রস্তাব, মণিপুরে রাষ্ট্রপতির শাসন আরও ৬ মাস

টানটান রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহেই রাজ্যসভায় পাস হয়ে গেল মণিপুরে রাষ্ট্রপতির শাসন ৬ মাসের জন্য বৃদ্ধির প্রস্তাব। বিরোধী সাংসদদের তীব্র প্রতিবাদ ও স্লোগানের মধ্যে কার্যত হট্টগোলের মধ্যেই রাজ্যসভায় এ প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর আগে লোকসভায় গত সপ্তাহেই প্রস্তাব পাশ হয়েছিল।

এদিন, রাজ্যসভার অধিবেশন চলাকালীন বিহারে চলমান ‘এসআইআর’ ইস্যুতে বিরোধীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। সে সময় উপসভাপতি হরিবংশ সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন, মণিপুর সংক্রান্ত প্রস্তাব একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অন্তর্ভুক্ত এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এর নিষ্পত্তি প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি আইনগত প্রস্তাব। আমরা সাংসদ হিসেবে সংবিধান মেনে চলতে বাধ্য। এই ধরনের প্রস্তাবের নিষ্পত্তি সময়ের মধ্যেই হওয়া জরুরি।’ এরপর ওয়াইএসআরসিপি সাংসদ সুভাষ চন্দ্র বসু পিল্লিকে বক্তব্য রাখার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিজেডি সাংসদ মুজিবুল্লাহ খান মণিপুরের প্রসঙ্গে ওড়িশার আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথাও তুলেন। তিনি বলেন, ‘যখন মণিপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হয়, তখন ৩৫৬ ধারা জারি করা হয়েছিল। আজ ওড়িশার অবস্থাও উদ্বেগজনক, সেখানে কী রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হবে ? তা না হলে কী করে বলা যায়, রাষ্ট্রপতির শাসনের ফলে মণিপুরের বাস্তবিক উন্নতি হয়েছে ?’ তিনি আরো বলেন, ‘একটি নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে বারবার রাষ্ট্রপতির শাসন চাপিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রের পক্ষেও শুভ নয়। কেন্দ্রকে এর দায়িত্ব নিতে হবে।’

রাষ্ট্রপতির শাসনের বিষয় উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান, মণিপুরের বর্তমান সংকট কোনো ধর্মীয় সহিংসতার ফল নয়, বরং উচ্চ আদালতের রায়ের জেরে তৈরি হওয়া দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ। তিনি বলেন, ‘যারা বলছেন এটা ধর্মীয় সংঘর্ষ, তারা বাস্তব থেকে দূরে। এটা জাতিগত বিভেদের ফল। আমরা শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় আছি।’ রাই দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির শাসন জারির পর থেকে মণিপুরে মাত্র একটি সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, ‘রাষ্ট্রপতির শাসন জারির পরে রাজ্যে শান্তি ফিরে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে শাসনের মেয়াদ বৃদ্ধি করাই যুক্তিসঙ্গত।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে সহিংসতা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং প্রশাসনিক ও সামাজিক স্তরের একাধিক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তবে বিরোধীদের অনেকে মনে করছেন মণিপুরের বাস্তব চিত্র আরো জটিল। এখনো পর্যন্ত মণিপুরে সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। কারফিউ জারি রয়েছে একাধিক জেলায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা ও আধাসেনা মোতায়েন রয়েছে। সরকারি দাবি অনুযায়ী সহিংসতার হার কমলেও, স্থানীয় মানুষের অভিযোগ ও মাটির তথ্য ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন এন. বীরেন সিং। এরপরই রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয়। যদিও সে সময় এ সিদ্ধান্ত সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়নি। এপ্রিল মাসে পরপর ২টি মধ্যরাতের অধিবেশনে তা অনুমোদিত হয়। এরপর ফের ছয় মাসের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব সংসদে আনা হযল এদিন এবং তা পাশও হল।

উল্লেখ্য, মণিপুরে ২০২৩ সাল থেকে উপত্যকাভিত্তিক মেইতেই সম্প্রদায় ও পাহাড়ের কুকি-জো গোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত সংঘাত চলছে। প্রায় ২ বছর ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বাস্তুচ্যুতি, জাতিগত বিভাজন ও সামাজিক অবিশ্বাস রাজ্যের স্থায়িত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি শাসন আদৌ কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। যদিও কেন্দ্রের বক্তব্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাষ্ট্রপতির শাসনের বিকল্প নেই এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রয়েছে। সংসদে ধ্বনি ভোটে এ প্রস্তাব পাস হলেও, রাজনৈতিক প্রশ্নগুলি থেকেই যাচ্ছে। শান্তি, উন্নয়ন এবং সাংবিধানিক রক্ষাকবচ, এই তিনের সমন্বয়ে মণিপুরে পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে, বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!