Advertisement
  • এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • নভেম্বর ১৮, ২০২৫

‘রামোজি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস’-এ সম্মানিত সমাজকল্যাণে ব্রতী সাত কৃতী। অভিনন্দনবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘রামোজি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস’-এ সম্মানিত সমাজকল্যাণে ব্রতী সাত কৃতী। অভিনন্দনবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

ভারতের বিনোদন ও মিডিয়ার জগতের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব পদ্মবিভূষণ রামোজি রাও-এর ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রামোজি ফিল্ম সিটিতে রবিবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল জিষ্ণু দেব বর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি, প্রাক্তন উপ-রাষ্ট্রপতি এম বেঙ্কাইয়া নাইডু, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি।

এদিন রামোজি ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘রামোজি অভিধান’-এর ইংরেজি থেকে তেলেগু এবং তেলেগু থেকে তেলেগু সংস্করণ উন্মোচন করা হয়। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এম বেঙ্কাইয়া নাইডু ইংরেজি সংস্করণ এবং বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) এনভি রমনা তেলেগু সংস্করণ উন্মোচন করেন। উদ্বোধনী ভাষণে রামোজি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সিএইচ কিরণ বলেন, ‘রামোজি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস সেইসব ব্যক্তিকে সম্মানিত করে, যারা নিঃশব্দে সাহস, সহানুভূতি এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার সঙ্গে মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন। আমাদের প্রিয় চেয়ারম্যান শ্রী রামোজি রাও ছিলেন দূরদর্শী, অনন্য দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী। তিনি বিশ্বাস করতেন, উদ্দেশ্য ও শৃঙ্খলাপরায়ণ হলে সাধারণ মানুষ সাফল্য অর্জন করতে পারে। ব্যবসা এবং নীতিশাস্ত্রের সহাবস্থান সম্ভব এবং ব্যবসা জনগণ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। নীতিশাস্ত্র ছাড়া উদ্যোগ শূন্য, সেবা ছাড়া সাফল্য অসম্ভব। এই শিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’

মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিও চেয়ারম্যানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, ৯০০টিরও বেশি প্রোফাইলের মধ্যে থেকে ৭ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। কিরণ বলেন, ‘এই পুরস্কারগুলি শ্রী রামোজি রাও-এর চেতনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। যারা সম্মানিত হয়েছে, তারা আমাদের চেয়ারম্যানের নীতি, উদ্দেশ্য, করুণা, সাহস এবং নিঃস্বার্থ সেবার সঙ্গে—অনুশীলন করে চলেছেন।’ প্রথম বছরে সাতজন পুরস্কারপ্রাপকের মধ্যে চারজন মহিলা। এ প্রসঙ্গে রামোজি গ্রুপের বক্তব্য, এটা আমাদের জন্য আরো আনন্দের বিষয়। আমাদের চেয়ারম্যান সারাজীবন নারীর ক্ষমতায়নের জন্য লড়েছেন। নারীর অগ্রগতির জন্য তিনি পথ খুলে দিয়েছেন। আজকের এই পুরস্কার সে বিশ্বাসকেই সুন্দরভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে। সিএইচ কিরণ আরো বলেছেন, ‘রামোজি গ্রুপ এই পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রচেষ্টা ও কর্তব্যকে স্বীকৃতি দেয়। এটি চেয়ারম্যানের ভালোবাসা, পেশাদার উৎকর্ষতা এবং মানবতার সেবা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করবে। আমাদের লক্ষ্য প্রতি বছর এই পুরস্কার সম্প্রসারণ করে দেশজুড়ে আরও অনেককে সম্মানিত করা।’

মঞ্চ থেকে সম্মানিত করা হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা সাতজন ব্যক্তিত্বকে। সাংবাদিকতায় উৎকর্ষের জন্য সম্মানিত হয়েছেন শ্রী জৈদীপ হারদিকার, যিনি গ্রামীণ ভারতের বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের কাহিনী বর্ণনা করে দেশের জনগণকে সচেতন করেছেন। যুবা আইকন হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন শ্রী শ্রীকান্ত বোল্লা, যিনি প্রতিবন্ধী মানুষদের ক্ষমতায়ন ও টেকসই উৎপাদনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। প্রফেসর সতপুতি প্রসন্ন শ্রী, ১৯টি উপজাতি ভাষার জন্য নতুন লিপি তৈরি করে ভারতের আদি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবার জন্য কলা ও সংস্কৃতিতে উৎকর্ষের জন্য সম্মানিত হয়েছেন। ‘ওয়াটার মাদার’ নামে পরিচিত এবং শুষ্ক অঞ্চলের গ্রামগুলিতে জল সংরক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে জীবনযাত্রা উন্নত করবার দিকদিশারি শ্রীমতি আমলা অশোক রুইয়া গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগে সম্মানিত হয়েছেন। মানবসেবায় সম্মানিত হয়েছেন শ্রী আকাশ তন্দন, যিনি ‘পহচান – দ্য স্ট্রিট স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করে অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে শিক্ষার সুযোগ দিয়ে সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছেন। মহিলা অর্জনকারী হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন শ্রীমতি পল্লবী ঘোষ। পল্লবী মানবপাচার রোধে অদম্য প্রচেষ্টা চালিয়ে ইতিমধ্যে ১০,০০০-এর বেশি নারী ও শিশুকে রক্ষা করেছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উৎকর্ষের জন্য সম্মানিত হয়েছেন বেঙ্গালুরুর আইআইএসসিতে জিওটেকনিক্যাল প্রকৌশল ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অধ্যাপক মাধবী লথা গালি।

বাঙালি পুরস্কারপ্রাপক পল্লবী ঘোষ, যিনি ‘উইমেন অ্যাচিভার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন। দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের শিকড় চিহ্নিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অসমে জন্মগ্রহণের পর তিনি দিল্লিতে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। প্রথম কাজ শুরু হয় দিল্লি, হরিয়ানা ও রাজস্থানে। তিনি সেখানে দেখতে পান, মানবপাচার রুখতে কর্মরতদের বেশিরভাগই শুধুমাত্র বাহ্যিকভাবে কাজ করছে, মূল জায়গাটা নিয়ে কেউ চিন্তাই করছে না। পল্লবী বলেন, ‘মানব পাচারের একটা চেনা ছক আছে— উৎস, ট্রানজিট ও গন্তব্য। আপনি যদি এই অপরাধ বন্ধ করতে চান, আপনাকে উৎসস্থলে পৌঁছতে হবে। তাই আমি পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে কাজ শুরু করি।’ নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে পল্লবী বলেন, ‘আমি প্রথম যে মেয়েটিকে উদ্ধার করেছিলাম, সে গুন্টুরের (অন্ধ্রপ্রদেশ) বাসিন্দা। মামলাটা ১০ বছর ধরে চলছে। প্রবল মানসিক চাপ থাকলেও, আমি থেমে থাকিনি। পুলিশ সহযোগিতা এবং উৎসে পৌঁছানোর মাধ্যমেই আমরা সমাজের ব্যধিকে নিরাময় করতে পারি।’ তিনি আরো জানান, রামোজি অ্যাওয়ার্ড তাঁর জন্য বিশেষ একটি স্বীকৃতি।

উদ্যোগের গুরুত্ব উপলব্ধি করে উদ্যোক্তা ও পুরস্কার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একটি চিঠিতে তিনি বলেছেন, ‘শ্রী রামোজি রাও-এর জন্মবার্ষিকী স্মরণে রামোজি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস চালু হওয়ার খবর জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি এমন একজন দূরদর্শী ব্যক্তির নামে শুরু হয়েছে যিনি ভারতীয় মিডিয়া ও বিনোদন জগতে চিরস্থায়ী ছাপ রেখেছেন। এই পুরস্কারগুলো তাদের হাতে পৌঁছেছে যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত ভারতের চেতনাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। জনসেবায় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের স্বীকৃতি জাতিকে অনুপ্রাণিত করে এবং ইতিবাচকতা ও সমাজ গঠনে অংশগ্রহণের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। এই পুরস্কারগুলো নিশ্চিত করে যে প্রকৃত নিষ্ঠা ও নিঃস্বার্থ সেবা অপরিসীম মূল্যবান এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘গত এক দশক ধরে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের অবদান ক্রমবর্ধমানভাবে স্বীকৃত হচ্ছে। তাদের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, ব্যক্তিগত উদ্যোগ কিভাবে সম্মিলিত সামাজিক পরিবর্তন আনতে পারে। ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার স্বপ্ন কেবল সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে।’ প্রধানমন্ত্রী মোদি সকল পুরস্কারপ্রাপকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং রামোজি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডসের সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!