- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ৮, ২০২৬
কার্শিয়াংয়ের পাহাড়ে বিরল প্রজাতির সাদা, কালো হরিণ। জীববৈচিত্র্যের প্রাচুর্যে উচ্ছ্বসিত বনদফতর
কয়েক লাখে একটি জন্মায়। এমনই বিরল প্রকৃতির জীববৈচিত্রের আহ্লাদী প্রাণীরা। ভ্রমণ পিপাসু বন্যপ্রাণপ্রেমীদের কল্পনাতেও আসে তাদের দেখতে পাওয়ার সৌভাগ্যের কথা। অথচ এবার সেরকম অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গেই। কার্শিয়াং বন বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলে, এ বছরের শুরুতেই দেখা মিলেছে বিরল কালো হরিণের। দেখা মিলেছে সাদা হরিণেরও। এ দর্শন বন কর্মকর্তাদের জন্য একদিকে যেমন প্রবল আনন্দের, তেমনই দায়িত্বেরও।
জানা যাচ্ছে, বুধবার কার্শিয়াংয়ে দুইটি পৃথক এলাকায় কালো ও সাদা হরিণের দেখা মিলেছে। ডাউহিল এলাকায় এক বন কর্মকর্তা এক সাদা-কালো হরিণের ছবি তুলেছেন। আর মিরিকের কাছে সাদা হরিণের উপস্থিতি একজন স্থানীয় নাগরিকের ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, উভয় দর্শনই এই বন বিভাগের জন্য ‘প্রথমবারের মতো’ ঘটেছে। ডাউহিলের কালো হরিণটি ‘বার্কিং ডিয়ার’ প্রজাতির। তবে এর অসাধারণ কালো রঙের জন্য এটিকে ‘মেলানিস্টিক হরিণ’ বলা হচ্ছে। বন কর্মকর্তা দেবেশ পাণ্ডে জানিয়েছেন, ‘প্রায় দশ লক্ষ হরিণের মধ্যে একটি কালো হরিণ জন্ম নেয়। গোটা দেশে এমন কয়েকটি হাতেগোনা হরিণ রয়েছে।’ ডাউহিলের ঘন বনভূমিতে ওই হরিণের ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন পাণ্ডে নিজেই।
প্রাণীবিদরা জানাচ্ছেন, কালো হরিণের গা কালো হওয়ার কারণটি জেনেটিক। সাধারণ চিতাবাঘের মেলানিস্টিক রূপের মতো, এ হরিণের দেহেও অতিরিক্ত কালো রঙের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা ‘রিসেসিভ জিন’-এর কারণে ঘটে। এজন্য সাধারণ বার্কিং ডিয়ার প্রজাতির হরিণটি কালো রঙ ধারণ করে এবং ‘মেলানিস্টিক হরিণ’ হিসেবে পরিচিত হয়। এ ধরনের হরিণ পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে বিরল হলেও দেখা যায়। তবে পশ্চিমবঙ্গে এবারই প্রথম খোঁজ মিলেছে। ডাউহিল ফরেস্টে কালো হরিণের দেখা পাওয়ার পর বন বিভাগ গোটা জঙ্গলে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। কারণ এমন বিরল প্রাণীর উপর চোরাশিকারিদের নজর থাকে। বন দফতর নিশ্চিত করেছে যে, হরিণটি সংরক্ষিত থাকবে, কোনোভাবেই শিকার হবে না।
ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে জানিয়েছেন, ‘গত বছরও আমাদের পাহাড়ি জঙ্গলে ডাউহিল, বাগোরা ও মিরিতে কালো চিতাবাঘ বা মেলানিস্টিক লেপার্ড দেখা গিয়েছিল। এবার প্রথমবার মেলানিস্টিক হরিণ দেখা গেল। এটি আমাদের জন্য দারুণ সুখবর। এ ধরনের হরিণ খুব অল্প জন্মায়। সেজন্য আমরা জঙ্গলে বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি অবলম্বন করেছি।’ সাদা হরিণের ক্ষেত্রে, বন বিভাগ এখনো তথ্য যাচাই করছে। মিরিক অঞ্চলের সাদা হরিণের উপস্থিতিও আগে কখনো রেকর্ড করা হয়নি। বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উভয় হরিণই কার্শিয়াং বন বিভাগের জীববৈচিত্র্যকে উজ্জ্বল করেছে। সংরক্ষণের গুরুত্ব আরো বাড়িয়েছে। ডাউহিল ও মিরিকের এই বিরল দর্শনগুলি কেবল স্থানীয় পর্যটকদের জন্য নয়, পুরো রাজ্যের জন্যই জীববৈচিত্র্য রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বন বিভাগ আশা করছে, এ ধরনের প্রাণীর সংরক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পাহাড়ি বনভূমির সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।
❤ Support Us







