- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২০, ২০২৩
শহিদ দিবসের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত হবে একুশের সভা। জনসমাগমে সর্বকালীন নজির তৈরির দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের
চিত্র : সংবাদ সংস্থা
২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তায় কোনও ত্রুটি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে রাখা হচ্ছে ২১ জুলাই-এর মঞ্চ। ধর্মতলায় অনুষ্ঠান মঞ্চ প্রায় শেষ। এখন চলছে একেবারে শেষ মুহূর্তের নিরাপত্তা প্রস্তুতি। তৃণমূলের শহিদ দিবসে প্রত্যেক বছরই বিপুল জনজোয়ার হয় ধর্মতলায়। এবার জনসমাগম হবে ঐতিহাসিক, দাবি তৃণমূলের। সর্বকালের ২১ জুলাই ভিড়ের রেকর্ড এবারের ২১ জুলাই-এর জনসমাগম ভেঙে ফেলবে বলেই তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি। তাই সুরক্ষা নিয়ে জোর কদমে প্রস্তুতি চলছে।
We are spellbound to witness the enthusiasm among one and all!
Today, National GS Shri @abhishekaitc visited the Bidhannagar Mela Prangan and interacted with the people.
Few special moments👇 pic.twitter.com/wQXGPDbKiz
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) July 19, 2023
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ২১ জুলাই শহরের জনজোয়ার সামলাতে অতিরিক্ত ৫০০০ পুলিশ মোতায়েন করা থাকবে। রাস্তায় থাকবেন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদা ৩১ জন অফিসার। যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদা ৮ জন অফিসারকে রাখারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদা ৮০ জন অফিসার থাকবেন রাস্তায়। ২১ জয়লয়-এর মঞ্চের সুরক্ষায় নজরদারি চালাতে ২০ টি উঁচু ছাদে থাকছে পুলিশ। আপৎকালীন পরিস্থিতি সামলাতে ১৮টি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা থাকছে। হেল্প ডেস্ক থাকবে ৪৮টি। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের ৪টি টিমও থাকবে প্রস্তুত থাকবে। থাকবে ৬টি কুইক রেসপন্স টিম। এছাড়া মেট্রোয় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরা থাকছে ৪৫টি। হাসপাতালগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে বেড ও রক্ত রাখতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। দূরের জেলা থেকে তৃণমূল কর্মীরা ধর্মতলায় আসার সময় যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্যই এই ব্যবস্থা। তবে স্বাস্থ্য ভবনের এই নির্দেশিকায় হাসপাতালগুলোকে “শহিদ দিবস”-এর প্রস্তুতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, এটাতো কোনও সরকারি অনুষ্ঠান নয়। তাহলে “শহিদ দিবস” লিখে কি করে কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল?
Shri @abhishekaitc visited Bidhannagar today, and met people who have come from across Bengal to honour the sacrifices of the martyrs.
Together, we shall bow our heads in reverence and pay homage to the bravehearts! pic.twitter.com/Md416gDZYv
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) July 19, 2023
ইতিমধ্যেই ২১ জুলাইয়ের জন্য এর মধ্যেই দূরের জেলা থেকে শহরে আসতে শুরু করেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। কসবার গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে মালদা এবং মুর্শিদাবাদের তৃণমূল কর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত কাল অর্থাৎ বুধবার এখানকার ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কথা বলেন দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে মেনুতে থাকছে সয়াবিনের তরকারি আর ডিম, ভাত। অন্য দিকে, সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দুই দিনাজপুর ও দার্জিলিঙের কর্মী-সমর্থকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা তৃণমূল কর্মী, সমর্থকদের ভিড় শিয়ালদা স্টেশনে। একের পর এক ট্রেনে কলকাতায় আসছেন তাঁরা। তৃণমূল কর্মী, সমর্থকদের আনতে ব্যবস্থা করা হয়েছে স্পেশাল ট্রেনের। স্টেশন থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। একই ছবি হাওড়া স্টেশনেও।
সম্প্রতি রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিপুল সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল। তাই এই বছর ২১ জুলাইয়ে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের সমর্থন যে তৃণমূলের দিকে সেটা পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে। ফের স্পষ্ট হয়েছে বাংলায় সবুজ ঝড় জারি রয়েছে। তবে এই জয়কে বিরোধীরা সন্ত্রাস ও ভোট লুটের জয় বলে শাসক দল তৃণমূলের সমালোচনা করছে। শাসকদল বার বার এগুলিকে বিক্ষিপ্ত ঘটনা এবং বিরোধীদের প্ররোচনা বলে পাল্টা মন্তব্য করলেও অস্বস্তি এড়াতে পারছেন না। বস্তুত, তৃণমূলেরই একাধিক নেতার মুখে হিংসা-বিরোধী বার্তা শোনা গিয়েছে এর মধ্যে। সব মিলিয়ে বিপুল জয়ের পরেও অস্বস্তিতে থাকতে হচ্ছে তৃণমূলকে। এরই মধ্যে আবার,২০২৪-এর লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে বিজেপি-বিরোধী জোটে সামিল হয়েছে তৃণমূল। এই অবস্থায়, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূলনেত্রী কী বার্তা দেন, সে দিকে নজর থাকবে রাজ্য তথা গোটা দেশের। তবে বেঙ্গালুরু থেকেই বিজেপিকে বিঁধে ২১ জুলাই-এর প্রারম্ভক বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “এনডিএ পারবে কী ইন্ডিয়া-র সঙ্গে লড়তে? পারবে?”
❤ Support Us






