- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫
এসএসসি-তে ৩৫ হাজারের বেশি শূন্যপদে নিয়োগ, সেপ্টেম্বরেই পরীক্ষা। কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। শিক্ষক নিয়োগে বড়ো ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন। শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হল, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য আসন্ন নিয়োগ পরীক্ষার দিনক্ষণ। কমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশম এবং ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশ স্তরের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৭২৬টি শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে নবম-দশম স্তরে রয়েছে ২৩,২১২টি এবং একাদশ-দ্বাদশ স্তরে রয়েছে ১২,৫১৪টি শূন্যপদ।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ ধরে ওবিসি তালিকা অনুযায়ী শূন্যপদের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ‘দাগি’ প্রার্থীদের নামের তালিকাও প্রকাশ করেছে কমিশন। তবে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন শুধুমাত্র ‘যোগ্য’ প্রার্থীরাই। কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, এবারের পরীক্ষায় বসছেন প্রায় ৫ লক্ষ ৮৩ হাজার পরীক্ষার্থী। ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় স্নাতকস্তরে ৪৫ শতাংশ নম্বর পেলেই প্রার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পারতেন। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই নিয়ম বদলে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়। এই পরিবর্তিত নিয়মে অনেক প্রার্থী পরীক্ষা দিতে না পারায় বিষয়টি গড়ায় আদালতে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, পুরনো নিয়মে যোগ্যদের পরীক্ষায় বসতে দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই ফের দ্বিতীয় দফায় অনলাইনে আবেদন পোর্টাল খোলে কমিশন।
এবারের পরীক্ষায় সময়সীমা ও কেন্দ্রে প্রবেশ সংক্রান্ত নিয়মকানুনও কড়া। নির্ধারিত দিনে দুপুর ১২টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত হবে পরীক্ষা। তবে সকাল ১১টার মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে পরীক্ষার্থীদের। কেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে ঠিক ১১টা ৪৫ মিনিটে। কমিশনের পরামর্শ, যেকোনো ধরনের সমস্যা এড়াতে সকাল ১০টার মধ্যেই কেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়াই বাঞ্ছনীয়। পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একাধিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পরীক্ষার হলে ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, লগ টেবিল, মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরীক্ষার হলে এসবের কোনো একটি জিনিসও কারও কাছে পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গেই তার পরীক্ষা বাতিল করা হবে। তবে স্বচ্ছ বোতলে ব্যক্তিগত পানীয় জল, নীল বা কালো কালি যুক্ত স্বচ্ছ কলম, ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা প্রভিশনাল অ্যাডমিট কার্ড ও বৈধ পরিচয়পত্র (যেমন ভোটার কার্ড বা আধার কার্ড) সঙ্গে রাখা যাবে। সব কাগজপত্র স্বচ্ছ জায়গায় রাখতে হবে বলে জানানো হয়েছে কমিশনের নির্দেশিকায়।
পরীক্ষার দিনগুলিতে প্রবল বৃষ্টি বা প্লাবনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে নবান্নের তরফে নির্দেশ, প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের আগেভাগে সতর্ক থাকতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে জল জমলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রেল ও পরিবহণ দফতরকে জানানো হয়েছে, ওই ২ দিন বাড়তি ট্রেন ও বাস চালানোর ব্যবস্থা রাখতে। প্রয়োজনে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তন বা তাৎক্ষণিক বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এক কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, ‘নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীরা স্বস্তি পেয়েছেন। আমরা চাই স্বচ্ছভাবে এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হোক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।’
তবে শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, স্কুলে নন-টিচিং স্টাফ নিয়োগ নিয়েও সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কমিশন। গত ২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্য স্তরের এসএলএসটি পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে গ্রুপ ‘সি’ এবং গ্রুপ ‘ডি’ পদে নিয়োগ করা হবে। মোট ৮ হাজার ৪৭৭টি শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে গ্রুপ ‘সি’ অর্থাৎ ক্লার্ক পদে ২ হাজার ৯৮৯টি এবং গ্রুপ ‘ডি’-তে রয়েছে ৫ হাজার ৪৮৮টি শূন্যপদ। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াও সুপ্রিম কোর্টের ৩ এপ্রিল ২০২৫-এর আদেশ অনুযায়ী এবং কমিশনের ২০২৫ সালের নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৫টা থেকে। আবেদন গ্রহণ চলবে ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। একই দিন রাত ১১টা ৫৯-এর মধ্যে জমা দিতে হবে পরীক্ষার ফি। বিশদ নির্দেশিকা ও আবেদন সংক্রান্ত তথ্য কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট — www.westbengalssc.com — এ পাওয়া যাচ্ছে ৩১ আগস্ট থেকে।
❤ Support Us







