Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৩১, ২০২৫

দার্জিলিং-সহ চার জেলায় লাল সতর্কতা ! মান্থার দাপটে উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের আশঙ্কা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দার্জিলিং-সহ চার জেলায় লাল সতর্কতা ! মান্থার দাপটে উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের আশঙ্কা

ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ শক্তি হারিয়ে পরিণত হয়েছে গভীর নিম্নচাপে। আর তার রেশ পড়ছে বঙ্গজুড়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার থেকে ফের দাপট দেখাতে চলেছে বৃষ্টি। উত্তরবঙ্গের ৪ জেলায় জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। দক্ষিণবঙ্গেও বৃষ্টি চলবে, তবে তুলনামূলকভাবে কম।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত বন্ধ দার্জিলিঙের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সান্দাকফু। প্রশাসন জানিয়েছে, মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু পর্যন্ত যানবাহন চলাচল এবং ট্রেকিং কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত। নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। ভূমিধস ও রাস্তা ধসের আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে কমলা সতর্কতা। সেখানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে দুর্যোগের তীব্রতা কিছুটা কম হবে বলেই মত হাওয়া অফিসের।

উত্তরের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও ছড়াচ্ছে ‘মান্থা’র প্রভাব। শুক্রবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। শনিবার নদিয়া, দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এরপর দক্ষিণবঙ্গের আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে শুরু করবে। আলিপুরের পূর্বাভাস, রবিবার থেকে অধিকাংশ জায়গাতেই আবহাওয়া শুষ্ক হবে। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’র অবশিষ্টাংশ হিসেবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ ছত্তিশগড় সংলগ্ন পূর্ব বিদর্ভ অঞ্চলে সক্রিয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত ঘূর্ণাবর্তও রয়েছে তার সঙ্গে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সেটি আরও উত্তর দিকে সরে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে ধারণা।

ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের একাধিক নদীর জলস্তর বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার সম্ভাব্য দুর্গত এলাকাগুলিতে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। অন্য দিকে, সিকিমের উচ্চভূমিতে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে হালকা তুষারপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। দার্জিলিঙের উঁচু এলাকাতেও তাপমাত্রা হ্রাসের কারণে সামান্য তুষারপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!