- দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
কুনো জাতীয় উদ্যানে জন্ম নতুন পাঁচ শাবকের, দেশে চিতার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৮
মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে আবারও সুখবর। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা চিতা ‘জেমিনি’ পাঁচটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। বুধবার সকালে এই খবর জানান মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। জেমিনি দ্বিতীয়বারের মতো শাবকের জন্ম দিল।
এই নতুন পাঁচ শাবক জন্ম নেওয়ায় কুনোতে জন্মানো মোট শাবকের সংখ্যা পৌঁছল ৯-এ। সব মিলিয়ে দেশে চিতার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৮, যা ‘প্রোজেক্ট চিতা’র ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে ভারতের জঙ্গলে চিতা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয় ‘প্রজেক্ট চিতা’। ২০২২ সালে নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মোট ১০টি চিতা আনা হয় কুনো জাতীয় উদ্যানে। ২০২২-২৩ সালের মধ্যে আফ্রিকার নামিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ২০টি চিতাকে ভারতে স্থানান্তর করা হয়। ধুমধাম করে সেই চিতাদের কুনো উদ্যানে ছেড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পরিবেশে সাধারণত মাত্র ৪০ শতাংশ চিতা টিকে থাকতে পারে। সেই তুলনায় ভারতে চিতাদের বেঁচে থাকার হার গড়ের চেয়ে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে ভারতের অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শাবক জন্মের ঘটনা ‘প্রোজেক্ট চিতা’র অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এর পাশাপাশি উদ্বেগের দিকও রয়েছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কারণে একাধিক চিতার মৃত্যু হয়েছে। গত ডিসেম্বরেও মাত্র ১০ মাস বয়সী একটি চিতা জঙ্গলে ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায়। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় বন দপ্তর অস্বস্তিতে পড়ে এবং প্রশ্নের মুখে পড়ে ‘প্রোজেক্ট চিতা’।
তবুও সাম্প্রতিক শাবক জন্ম নতুন আশার সঞ্চার করেছে। চিতার সংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
❤ Support Us





