- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- জুন ৮, ২০২৪
ভারতের প্রথম নির্বাচন কমিশনারের জীবনী এবার বড়ো পর্দায়
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের পীঠস্থান ভারত। বৃহত্তম লিখিত ও জটিলতম সংবিধান রয়েছে এ দেশেরই । বছর বছর ঘটা করে নির্বাচন পালন করা হয়। রাজনৈতিক দলের পতাকা, গরমাগরম ভাষণে মুখরিত থাকে আকাশ বাতাস। ভোট নিয়ে ফ্যান্টাসির শেষ নেই। নতুন প্রজন্মের কাছে ভোট কিছুটা ‘আঙুলে কালি লাগিয়ে সেলফি তোলা উৎসব’-এর মতো। তবে এদের একটু জিজ্ঞেস করে দেখুন তো, এরা সুকুমার সেনের নাম শুনেছেন কিনা ! অর্ধ শতাংশের বেশি মানুষ উত্তর দেবেন, না শোনেন নি। ভোট আসে , ভোট যায় কিন্তু নায়ক অলক্ষ্যে থেকে যান।
সুকুমার সেন, ভারতের প্রথম নির্বাচন কমিশনার। স্বাধীন ভারতের প্রথম দুটি সাধারণ নির্বাচন(১৯৫২ ও ১৯৫৭) সংঘটিত হয়েছিল তাঁর নেতৃত্বে। রাজনৈতিক দলগুলির জন্য নির্দিষ্ট রঙ , প্রতীক নির্ধারণ হোক কিংবা ভোট কারচুপি ধরতে হাতের নখে কালি লাগিয়ে দেওয়ার মতো অতি সাধারণ অথচ যুগান্তকারী চিন্তাই হোক, ভারতের গণতন্ত্র উৎসবের প্রথম পুরোহিতকে কজন মনে রেখেছে ? শুধু কি ভারত? আফ্রিকার দেশ সুদানের সাধারণ নির্বাচনে প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার রূপেও কাজ করেছেন এই বাঙালী । এ রাজ্যে বর্ধমানে আর দেশের বাইরে সুদানে তাঁর নামে একটি দুটি রাস্তা রয়েছে।
বলিউডের বিশিষ্ট প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুর মনে করেছেন,তাঁর সংস্থা ‘রয় কপূর ফিল্মস ও ট্রিকিটেনমেন্ট মিডিয়া’ এই অকথিত নায়ককে এবার বড় পর্দায় তুলে ধরবেন। দেশের প্রতিটি প্রজন্ম জানুক ,নির্বাচনে কারচুপি রুখতে যে যে পথগুলি সুকুমার সেন নিয়েছিলেন, আজও তা বলবৎ রয়েছে। অথচ প্রথম সাধারণ নির্বাচনের বাহাত্তর বছর কেটে গেলেও, তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করা হলেও , নিজের দেশেই তিনি অচর্চিত। তাঁর এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন সুকুমার সেনের নাতি সঞ্জীব ও দেবদত্ত। প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরকে তাঁরা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁরা তাঁকে অকুণ্ঠ শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, দেশের মানুষকে একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর কৃতিত্ব সম্পর্কে সচেতন করার একটি মহান উদ্যোগ নিয়েছেন প্রযোজক।তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রয়োজক বলেছেন, এত বড় একজন ব্যক্তিত্বের জীবনী তুলে ধরতে পারার সুযোগ পেয়ে তিনি গর্বিত।
অতীতে বায়োপিকের সৌজন্যে বহু অখ্যাত ব্যক্ত্বিত্ব প্রচারের আলোয় উঠে এসেছেন। তবে সুকুমার সেনের মতো জাতীয় স্তরের ব্যক্ত্বিত্বের জীবনী পর্দায় তাঁর মূল ইতিহাসের সঙ্গে কতখানি সুবিচার করতে পারবে তা বলতে পারে সময়।
❤ Support Us






