Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫

চার দিনের বঙ্গ সফরে সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত, আসছেন কলকাতাতেও

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চার দিনের বঙ্গ সফরে সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত, আসছেন কলকাতাতেও

আগামী বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্র করেই যে বিজেপির রণকৌশল সাজানো হচ্ছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের ৪ দিনের বাংলা সফরের কর্মসূচিতে। সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে বৃহঃস্পতিবার রাজ্যে এসেছেন ভাগবত। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এ সফরের নেপথ্যে নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতির ইঙ্গিত স্পষ্ট। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পৌঁছেছেন সংঘপ্রধান। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার— এই ২ দিন উত্তরবঙ্গেই থাকছেন তিনি। শনিবার, তাঁর কলকাতায় আসার কথা এবং রবিবার বিকেলে শহর ছাড়ার আগে একাধিক ঘরোয়া সাংগঠনিক বৈঠক করবেন বলে সূত্রের খবর।

সংঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মোহন ভাগবত। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের মাটি থেকেই বিজেপির সাংগঠনিক ভিত আরো মজবুত করার বার্তা দিতে পারেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রকাশ্যে আরএসএস ভোট রাজনীতির কথা না বললেও, এই বৈঠকগুলি থেকেই নির্বাচনী কৌশলের দিশা স্পষ্ট হতে পারে। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে দক্ষিণবঙ্গ এড়িয়ে উত্তরবঙ্গ থেকেই সফর শুরু করাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনীতির কারবারীরা। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৩০টি আসন জিতেছিল। একই সঙ্গে লোকসভায় এই অঞ্চলের ৮টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই বিজেপির সাংসদ রয়েছেন।

অল্প সময়ের সফরে ব্যস্ত কর্মসূচী রয়েছে সংঘপ্রধানের। বৃহস্পতিবার সকালে শিলিগুড়ির সেবক রোডের সারদা স্কুলের শতাব্দী সদনে সংঘের উত্তরবঙ্গ প্রান্তের যুবদের নিয়ে বিশাল সম্মেলন রয়েছে। সংঘ সূত্রে খবর, সেখানে ৫ থেকে ৭ হাজার যুব কর্মকর্তার উপস্থিতি থাকতে পারে। সকালে সেখানে পৌঁছে প্রায় ৩ ঘণ্টা মঞ্চে থাকার কথা সংঘপ্রধানের। এ সময়ে তিনি রাজ্যের যুবদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন এবং সংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে দিকনির্দেশ দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও, রাজনৈতিক মহলের মতে, এই যুবকরাই সরাসরি না হলেও, ভোটের সময় বিজেপির ‘পেছনের শক্তি’ হিসেবে কাজ করতে পারে। নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে সংঘের যুবদের কীভাবে মাঠে নামতে হবে, সেই বার্তাই মিলতে পারে এই সম্মেলন থেকে। শুক্রবার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে আরএসএস-এর। প্রায় ২০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করবেন সংঘপ্রধান। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বেছে নেওয়া চিকিৎসক, আইনজীবী, লেখক, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গুণীজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন একাধিক পদ্মশ্রীপ্রাপকও। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাজবংশী ভাষায় ‘রামায়ণ’ অনুবাদক, পদ্মশ্রী প্রাপক নগেন্দ্রনাথ রায়। একই দিনে বিজেপির সাংসদ ও নেতারাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের আগে বাংলার বিশিষ্টজন ও বিজেপি নেতৃত্বকে একই মঞ্চে আনার এই উদ্যোগ নিছক কাকতাল নয়। বরং নির্বাচনের মরশুমে সমাজের প্রভাবশালী অংশকে কাছে টানার কৌশল।

সংঘের চলমান কর্মসূচিগুলি ঘিরে কড়া গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র আমন্ত্রিতদেরই প্রবেশাধিকার থাকবে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি সংঘপ্রধান। সেখান থেকে তিনি সরাসরি মাটিগাড়ার রাজেশ আগরওয়াল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে যান, সেখানেই তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য প্রশাসন। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও সতর্ক রয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার কলকাতায় এসে রবিবার পর্যন্ত একাধিক ঘরোয়া সাংগঠনিক বৈঠক করবেন সংঘপ্রধান। সূত্রের খবর, এই বৈঠকগুলিতে সংগঠন মজবুত করা এবং ভোটের রণকৌশল নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। আরএসএস অবশ্য দাবি করছে, সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে বড়ো রাজ্যগুলির সাংগঠনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই এই সফর। পাশাপাশি, ৭৫ বছর পেরোনোর পরে মোহন ভাগবত ধীরে ধীরে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তাই নিজের সময়ে সংঘ কতটা অগ্রসর হয়েছে, তা পর্যালোচনাও এই সফরের উদ্দেশ্য।

উল্টোদিকে, রাজনৈতিক মহলের মতে, ভাগবতের এই সফরের সঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণ ও সংখ্যালঘু ভোটের অঙ্কও জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ‘রাষ্ট্রবাদী মুসলমান’-দের কাছে টানার বার্তা দিচ্ছেন। আরএসএস দীর্ঘদিন ধরেই মুসলিম সমাজের একাংশকে আলাদা দৃষ্টিতে দেখে। মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ নামে সংঘের ছাতার তলায় থাকা সংগঠনের একাধিক অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত নিজে উপস্থিত থেকেছেন। সেখান থেকেই তিনি বলেছিলেন, ভারতে হিন্দু-মুসলমানের ডিএনএ অভিন্ন। ফলে, এটা খুবই পরিস্কার বাংলায় তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরাতে বিজেপির কৌশলে আরএসএসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। দিল্লি, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে আগের বিধানসভা নির্বাচনে সংঘের ভূমিকা বিজেপির পক্ষে সহায়ক হয়েছিল বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!