- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ২৭, ২০২৫
‘আসিয়ান’ সম্মেলনের ফাঁকে জয়শঙ্কর–রুবিও বৈঠক। ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্তের পথে?
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির গোষ্ঠী ‘আসিয়ান’–এর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মুখোমুখি হলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। দুই দেশের মধ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই বৈঠক। সরকারি মহলের ইঙ্গিত, আলোচনার অগ্রগতি ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’। ফলে কূটনৈতিক অন্দরমহলে জোর জল্পনা— বহু প্রতীক্ষিত ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি কি তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেল? জয়শঙ্কর সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘আজ সকালে কুয়ালালামপুরে মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখা করে খুশি হলাম। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি নানা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’ সূত্রের খবর, বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রযুক্তি সহযোগিতা, এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়েও বিশদ আলোচনা হয়েছে।
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে টানা ৫ দফা বৈঠক হয়েছে। নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের সরকারি মহল জানিয়েছে, আলোচনা এখন ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে’। তবে কিছু সূক্ষ্ম অর্থনৈতিক দিক ও শুল্কসংক্রান্ত প্রশ্নে এখনও মতানৈক্য রয়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় জয়শঙ্কর–রুবিওর বৈঠককে ‘গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো মুহূর্ত’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি রবিবার জয়শঙ্কর দেখা করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, সিঙ্গাপুরের বিদেশমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন এবং থাইল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেওর সঙ্গে। প্রত্যেক বৈঠকেই উঠে এসেছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য সহযোগিতা ও বিনিয়োগের প্রসঙ্গ।
আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জোর জল্পনা ছিল, ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–র মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদি দিল্লি থেকেই ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দী আমাদের শতাব্দী—ভারত ও আসিয়ান দেশগুলির যৌথ উন্নতির শতাব্দী।’ প্রসণ্নগত, গত কয়েক সপ্তাহে নয়াদিল্লি–ওয়াশিংটন সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল প্রকট। মার্কিন প্রশাসনের ‘শুল্কবোমা’ নীতির পরে সম্প্রতি এসেছে তথাকথিত ‘ভিসাবোমা’। এইচ১-বি ভিসার নিয়মে কঠোরতা এবং ফি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে দিল্লি। সংঘাতের প্রবলতা সত্ত্বেও দু–দেশের মধ্যে আলোচনার দরজা কখনো বন্ধ হয়নি। রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্যেও মিলেছে আশার আলো। তাঁর বক্তব্য, ‘আমেরিকা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চায়, কিন্তু ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব বিসর্জন দিয়ে নয়। এটি পরিণত, বাস্তববাদী কূটনীতিরই প্রতিফলন।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘আমরা ভারত ও পাকিস্তান—দু–দেশের সঙ্গেই কাজ করতে চাই, কিন্তু ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও গভীর। তা অটুট থাকবে।’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সময়ের জয়শঙ্কর–রুবিও বৈঠক দুই দিক থেকেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার নয়া কৌশলগত অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার বার্তাও পাওয়া গিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল যদিও আগেই জানিয়েছিলেন, ‘আলোচনা চলছে, তবে ভারত কোনো সময়সীমা বা চাপের মুখে চুক্তি করবে না।’ কিন্তু কুয়ালালামপুরের এই বৈঠকের পরে সরকার–ঘনিষ্ঠ মহল মনে করছে, চুক্তির খসরা এখন অনেকটাই প্রস্তুত, শুধু রাজনৈতিক অনুমোদনের অপেক্ষা। সব মিলিয়ে, কুয়ালালামপুরের মঞ্চে জয়শঙ্কর–রুবিওর সাক্ষাৎ দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার কূটনৈতিক মেঘ সরিয়ে আনতে চলছে নতুন সম্ভাবনার সূর্য। এখন দেখার, সে আলোয় কবে স্বাক্ষরিত হয় বহু প্রতীক্ষিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি।
❤ Support Us






