Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৩০, ২০২৩

৪৮ ঘন্টা উধাও থাকার পর, ইডির দফতরে অবশেষে মিলল দেখা। তদন্তে সহযোগিতা করতেই আসা, মন্তব্য সায়নীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
৪৮ ঘন্টা উধাও থাকার পর, ইডির দফতরে অবশেষে মিলল দেখা। তদন্তে  সহযোগিতা করতেই আসা,  মন্তব্য সায়নীর

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র নোটিস পাওয়ার পরদিন থেকেই উধাও ছিলেন  সায়নী ঘোষ । অনেক চেষ্টা করেও  তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় সায়নী ঘোষ ইডি-র  দপ্তরে তিনি হাজিরা দেবেন কিনা তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে সব জম্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে  কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রশ্নের মুখোমুখি হতে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছলেন  তৃণমমূল যুবর সভানেত্রী।

শুক্রবার সকাল ১১টা ২৩ মিনিট নাগাদ ইডির দফতরে  হাজির হন সায়নী। সেখানে  পৌঁছে তৃণমূল যুবর সভানেত্রী  বললেন, আমি  সম্পূর্ণ  সহযোগিতা করতে চাই ।  সেকারণেই আসা। ৪৮ ঘণ্টার নোটিসে আমায় ডাকা হয়েছিল।  সেসময়  পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে ছিলাম।  তাই কিছুটা বিলম্ব হল। তবে, বহুবার চেষ্টা করেও কেন যে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল  না সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু  জানালেন  না।

ইডি সূত্রে জানা গেছে  চার পাতার প্রশ্নমালা নিয়ে সায়নী ঘোষকে  জেরা করা হবে। কুন্তল ঘোষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক,  তাঁর সঙ্গে কুন্তলের লেনদেন, নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়ে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হবে বলে জানা যাচ্ছে ইডির তরফে।  যুবনেত্রীকে তাঁর ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে  বলা প্রয়োজন, কুন্তল ঘোষের মাধ্যমেই আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করার সময়ই সায়নী ঘোষের নামটি ইডি জানতে পারে।

ইডি সূত্রে জানা গেছে ৪ পাতার প্রশ্নমালা নিয়ে সায়নী ঘোষকে ইডি জেরা করবে। কুন্তল ঘোষের সঙ্গে তাঁরা সম্পর্ক,  তাঁর সঙ্গে কুন্তলের লেনদেন, নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়ে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হবে বলে জানা যাচ্ছে ইডির তরফে। সায়নী ঘোষকে তাঁর ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত কুন্তল ঘোষের মাধ্যমেই আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করার সময়ই সায়নী ঘোষের নামটি ইডি জানতে পারে ।

মঙ্গলবার সায়নী ঘোষকে যখন নোটিস পাঠানো হয় ওই দিন তিনি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের মাঝেরগ্রামে প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। ভোটের প্রচারে থাকাকালীনই তিনি ইডির নোটিসের বিষয়টি জানতে পারেন। ওই দিন রাতেই সামাজিক মাধ্যমে  নিজের প্রচারের ছবিও পোস্ট করেছিলেন সায়নী। পরের দিন  তাঁর প্রচারসূচি ছিল পূর্ব বর্ধমানে জামালপুর বিধানসভা এলাকায়।

বুধবার নোটিসের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে আর সায়নী ঘোষকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। পূর্ব বর্ধমানের পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারেও যাননি তিনি। অথচ  সেখানে প্রচারে সায়নী ঘোষ আসবেন বলে দলের তরফ থেকে সব রকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। তাই জেলার শীর্ষ নেতারাই তাঁর জায়গায় প্রচার করেছেন। যুব সভানেত্রী কেন আসেননি, সেই জবাব তৃণমূল নেতৃত্ব  দেয়নি।

বৃহস্পতিবার ইদ উৎসবের কারণে তৃণমূলের ‘তারকা’ প্রচারকদের প্রচারে পাঠানো হয়নি। তাই স্বাভাবিক ভাবেই সায়নী ঘোষকে বৃহস্পতিবার দলের হয়ে ভোটপ্রচারে নামতে হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ইডির নোটিস পেয়েই তিনি কেন একেবারে উধাও হয়ে গেলেন! বুধবার সায়নীর বাবা জানিয়েছিলেন, তিনি সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। কোথায় গিয়েছেন, তা তাঁর জানা নেই। তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, সায়নী ঘোষ যদি ইডির সাকে হাজিরা না দেন, তা হলে সেটি তাঁর দলকেও জানানো উচিত।

দক্ষিণ কলকাতার বিক্রমগড়ের বাড়িতে তিনি নেই বলেই তাঁর বাবা জানিয়েছেন। বস্তুত, তৃণমূলের নেতাদের অনেকে চেয়েও সায়নীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে,  গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা পর্যন্ত ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে সায়নী ঘোষ কোনও যোগাযোগ করেননি।

ইডি সূত্রের খবর, তাদের সঙ্গেও কোনও যোগাযোগ করেননি এই অভিনেত্রী-নেত্রী। তাঁর তরফে কোনও আইনজীবীও ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।। সায়নী যদি ইডির কাছে সময় চান, তা হলে সেটি তাঁকে নিজেকে অথবা তাঁর আইনজীবীর মারফত ইডিকে জানাতে হবে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্তও তেমন কিছু ঘটেনি। তবে সায়নী ঘোষ কোনও যোগাযোগ  ইডির আধিকারিকদের সঙ্গে না করায় ইডি ধরে নিচ্ছেন, সায়নী শুক্রবার হাজিরা দেবেন। সেই অনুযায়ী তাঁকে জেরা করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তবে ইডির একটি সূত্রের বক্তব্য, শুক্রবার সকালে সায়নী বা তাঁর আইনজীবী ইডিকে চিঠি লিখে সময় চাইতে পারেন।

ইডি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সায়নীকে তলব করেছে, এই মামলায় এর আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষকে। তিনি আপাতত জেল হেফাজতে আছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রেই সায়নীকে ইডি তলব করেছে বলে খবর। কুন্তলের সঙ্গে সায়নীর কোনও রকম আর্থিক লেনদেন ছিল কি না, থাকলেও তা কোন পর্যায়ের, সেগুলির বিষয়েই এই অভিনেত্রী-নেত্রীকে জেরা করতে চায় তারা।

সায়নী ঘোষের গল্ফগ্রিনে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই ফ্ল্যাটটি কুন্তল ঘোষকে নিয়ে সায়নী ঘোষ দেখতে আসেন। স্থানীয়দের কাছ থেকেই প্রমোটারের ফোন নাম্বার নিয়েছেন সায়নী ও কুন্তল। তার পর ১১ লক্ষ টাকা নগদ দিয়ে সায়নী ঘোষ ওই ফ্ল্যাটটি বুক করেন। ফ্ল্যাটটির দাম ছিল দেড় কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত সেই ফ্ল্যাটটি ১ কোটি ৩১ লক্ষ টাকায় সায়নী ঘোষ কিনে নেন। তাঁর ফ্ল্যাটটি একটা সম্পূর্ণ ফ্লোর জুড়ে। এই ফ্ল্যাট কেনার টাকা কোথায় পেলেন সেই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাঁরা বলছেন, নিয়োগ দুর্নীতির সিন্ডিকেটে আছেন সায়নী ঘোষ। কুন্তল ঘোষও এই ফ্ল্যাট কেনার সময় থেকে বেশ কয়েকবার এখানে সায়নীর সঙ্গে আসেন। তৃণমূল করার দৌলতেই সায়নী এই ফ্ল্যাটটি কিনতে পেরেছেন। কেন না সায়নী এতো বড় অভিনেত্রী নন, বা দীর্ঘদিন তিনি অভিনয় করছেন না যে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন। এদিকে তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২১ সালে সায়নীকে আসানসোল কেন্দ্র থেকে টিকিট দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু তিনি বিজেপির অগ্নিমিত্রা পালের কাছে হেরে যান। তবে তার পরেই সায়নীকে যুব তৃণমূলের সভানেত্রীর পদে নিয়ে আসা হয়। সায়নী ঘোষই কুন্তল ঘোষকে যুব তৃণমূলে আনেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!