- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৮, ২০২৩
দত্তপুকুর বিস্ফোরণকাণ্ডে গ্রেফতার শফিকুল ইসলাম, এনআইএ তদন্তের দাবি বিরোধীদের
দত্তপুকুরে বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণকাণ্ডে গ্রেফতার একজন। ধৃতের নাম শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আলি। নীলগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় ওই ব্যক্তিকে। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে ধৃত শফিক আলি, নিহত কেরামত আলির সঙ্গে অংশীদারিতে এই ব্যবসা চালাত। রাজ্যের বিরোধীরা এই ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ।
দত্তপুকুরের বেআইনি বাজি কারখানার বিস্ফোরণে আরও কয়েকটি নাম গত কাল থেকেই সামনে আসছে। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শোনা গিয়েছে কেরামত আলির নাম। রবিবার বিস্ফোরণে পুত্রসহ কেরামত আলির মৃত্যু হয়। আর এক অভিযুক্ত, সইফুল আলির অবস্থা খুবই আশংকাজনক। এই মুহূর্তে বারাসত হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদ থেকে কারখানার জন্য শ্রমিক আনতেন এই সইফুল। সম্প্রতি অন্তত ২০ জন এমন শ্রমিক এনেছিলেন তিনি যাঁরা ওই বেআইনি বাজি কারখানায় কাজ করছিলেন। কিন্তু গত কাল, রবিবার হওয়ায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজে যোগ দেননি। না হলে আরও হত নিহতের তালিকাটা, এমনই আশঙ্কা প্রশাসনের। এই শ্রমিকরা সবাই সুতি থানা এলাকার বাসিন্দা। ওই শ্রমিকদের বেশ কয়েকজনের পরিবারের দাবি, গত কাল বিস্ফোরণের পর থেকে, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে সুতি থেকে ওই শ্রমিকের পরিবারের লোকেরা দত্তপুকুুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে খবর। এদিকে গত কাল বেশ কিছু দেহ শনাক্তকরণ করা সম্ভব হয়নি। এদিন তা করা হতে পারে বলে খবর। সব দেহ শনাক্ত হলেই ময়না তদন্ত হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে নীলগঞ্জ থেকে শফিক আলির গ্রেফতারি। আজই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।
রবিবারের ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের পর উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের মোচপোল গ্রামে রাতভর অভিযান চালায় পুলিশ। বিস্ফোরণস্থল থেকে কয়েক হাত দূরেই দুটি বাড়িতে অভিযান করে জেলা পুলিশ। রাত ১টার কিছু পর প্রথমে পুলিশ একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে তালা ভেঙে ঢোকে। উদ্ধার হয় বেশ কয়েকটি বস্তা। তার মধ্য়ে পাওয়া যায় সাদা পাউডার। এরপর রাত ২ টো ২৩ মিনিটে শাহির হোসেন নামে এক ব্যক্তির গোডাউনে রেড করা হয়। গোডাউনের সদর দরজা বন্ধ থাকায় পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢোকে পুলিশ। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বাজি। গোডাউনের সামনে বসে পুলিশ পিকেটিং।
গত কাল দত্তপুকুরের মোচপোল গ্রামে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ২৮৬, ৩০৪, ৩০৮, ৩৪, বিস্ফোরক আইনের ৯-এর বি ধারা এবং দমকল আইনের ২৪/২৬ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, বেআইনি বাজি কারবারে আর কারা যুক্ত, তার খোঁজ চলছে। নাম উঠে এসেছে সামসুল আলি নামে এক স্থানীয় তৃণমূলকর্মীর। যে বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়, সেটির সামসুলের বলে স্থানীয়দের দাবি। তিনি কেরামত আলিকে বাড়িটি ভাড়া দেন বলে জানা যাচ্ছে।
স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ এই বোমা কারখানার মালিকের কাছ থেকে মাসে টাকা নিয়ে এই বেআইনি বোমা তৈরির অনুমতি দিয়েছিল। আর এই ঘটনার সঙ্গে শাসক দলের স্থানীয় বিধায়ক ও খাদ্যমন্ত্রীর মদত আছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
❤ Support Us







