Advertisement
  • দে । শ
  • মে ১৫, ২০২৬

নিরন্তর অভাবের সঙ্গে যুঝে উচ্চমাধ্যমিকে নবম সাগর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নিরন্তর অভাবের সঙ্গে যুঝে উচ্চমাধ্যমিকে নবম সাগর

খুঁজছে তাকে নদিয়ার নৃসিংহপুর। খুঁজছে কালনা মহারাজা হাইস্কুলের শিক্ষক-ছাত্র-অভিভাবকরা। নৃসিংহপুরের সাগর মণ্ডল তখন গুজরাটের আমেদাবাদ মেট্রো স্টেশন এলাকার একটি হোটেলে খদ্দেরদের এঁটো বাসন ধুচ্ছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েই ভবিষ্যৎ শিক্ষার কড়ি জোগাড়ের জন্যই এই কাজটা নিতে হয়েছে সাগরকে। পরীক্ষার ফল বেরতেই দেখা গেল ৯৭-৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় নবম স্থান পেয়েছে সাগর। চরম অভাবের সংসারের ধ্রুবতারা কালনা মহারাজা হাইস্কুলের কলা বিভাগের ছাত্র সাগরের মোট নম্বর ৪৮৮। বিষয়ভিত্তিক নম্বর বাংলা ৯৬, ইংরেজি ৯৯, ভূগোল ৯৮, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৯৬, অর্থনীতিতে ৯৯।

২ মেয়ের বিয়ে দিয়ে কার্যত কপর্দকহীন হয়ে স্ত্রী সুষমাকে নিয়ে বছর দুয়েক আগে আমেদাবাদ চলে যান সাগরের বাবা মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল। সেখানে একটি হোটেলে সাফাইয়ের কাজ নেন। সুষমাও সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সাফাইকর্মীর কাজ পান। নৃসিংহপুর বড়ডাঙাপাড়ায় ২ কামরার ঘরে একাই থাকত। নিজেই রান্নাবাড়া করে খেয়ে ভাগীরথী পেরিয়ে স্কুলে যাওয়া। স্কুল থেকে ফিরে কিছু খেয়ে আবার ৭ কিমি সাইকেল ঠেঙিয়ে টিউশানি। মাধ্যমিকে ৬৪৬ (৯২ শতাংশ) পেলেও অভাবের কারণে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে পারেনি সাগর। তবে কলা বিভাগে পড়েও যে মেধা তালিকায় ঠাঁই করা যায়, তা দেখিয়ে দিয়েছে সাগর। সাগর বলছিল, ‘মা-বাবা যেটুকু পারত মাসে মাসে পাঠাত। তাতেই কাজ চালিয়ে নিতাম। তবে অনেক শিক্ষকই পাশে থাকায় এতটা ভাল ফল করতে পারলাম।’ রেজাল্ট নিতে দিন সাতেকের মধ্যেই বাড়ি ফিরবে সাগর।

সাগরের পরিকল্পনা দিল্লিতে ইগনুতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স পড়বে। পাশাপাশি ইউপিএসসির প্রশিক্ষণ নেবে। উচ্চশিক্ষার টাকাপয়সা জোগাড়ের জন্যই মাসে ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে হোটেলের বয়ের অস্থায়ীভাবে কাজে লেগেছে সাগর।  প্রধানশিক্ষক মিলন মাণ্ডির কথায়, ‘জেদ আর নিষ্ঠা থাকলে চরম অভাবের মধ্যেও যে চূড়ান্ত সাফল্য মেলে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সাগর। সাগরের জন্য আমরা গর্বিত।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!